ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে তরমুজ ছিনতাইয়ের অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তা আটক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ১০২ Time View
২২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলায় মো. অলিউল্লাহ ওরফে অলি (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (২৭ মার্চ) তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

অলিউল্লাহ মির্জাগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপখাদ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন। তাঁর বাড়ি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হারুন মুন্সির বড় ছেলে।

 

 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তাঁরা চন্দ্রদ্বীপের চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ চাষ করেন। তরমুজ চাষের পর থেকে ওই জমি অলিউল্লাহ নিজের দাবি করে তরমুজ কেটে নিতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ১৬ মার্চ চাষিরা প্রায় ৯ হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

বেলা ১১টার দিকে অলিউল্লাহর নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে আবার ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাষিরা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অলিউল্লাহ ও তাঁর লোকজন জোরপূর্বক তরমুজবোঝাই ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রফা করে তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ফিরিয়ে দেন। আরেকটি তরমুজবোঝাই ট্রলার ফিরিয়ে দেননি তাঁরা।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরব আলী নামের এক চাষি বাদী হয়ে বাউফল থানায় উপখাদ্য পরিদর্শক মো. অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন।

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর (অলিউল্লাহ) অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল তরমুজচাষিরা। তাঁকে গ্রেপ্তার করায় তরমুজচাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

পটুয়াখালীতে তরমুজ ছিনতাইয়ের অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তা আটক

Update Time : ১১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
২২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলায় মো. অলিউল্লাহ ওরফে অলি (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (২৭ মার্চ) তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

অলিউল্লাহ মির্জাগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপখাদ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন। তাঁর বাড়ি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হারুন মুন্সির বড় ছেলে।

 

 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তাঁরা চন্দ্রদ্বীপের চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ চাষ করেন। তরমুজ চাষের পর থেকে ওই জমি অলিউল্লাহ নিজের দাবি করে তরমুজ কেটে নিতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ১৬ মার্চ চাষিরা প্রায় ৯ হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

বেলা ১১টার দিকে অলিউল্লাহর নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে আবার ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাষিরা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অলিউল্লাহ ও তাঁর লোকজন জোরপূর্বক তরমুজবোঝাই ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রফা করে তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ফিরিয়ে দেন। আরেকটি তরমুজবোঝাই ট্রলার ফিরিয়ে দেননি তাঁরা।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরব আলী নামের এক চাষি বাদী হয়ে বাউফল থানায় উপখাদ্য পরিদর্শক মো. অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন।

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর (অলিউল্লাহ) অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল তরমুজচাষিরা। তাঁকে গ্রেপ্তার করায় তরমুজচাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।