
নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় এক দরিদ্র বিদ্যুৎ মিস্ত্রির ঘরে একসাথে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। বিরল এই ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইলেও, নবজাতকদের চিকিৎসার নামে এক চিকিৎসকের অমানবিক ফি আদায়ের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার বালিহারী গ্রামের দিনমজুর মো. শরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলের স্ত্রী নুসরাত জাহান গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকরা সুস্থ থাকলেও সতর্কতামূলক পরীক্ষার জন্য তাদের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হোসাইন আহমেদের কাছে নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই চিকিৎসক তিন শিশুকে কেবল এক নজর দেখার বিনিময়ে ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা ফি আদায় করেন। অসহায় পিতা ফি কিছুটা কম রাখার অনুরোধ জানালেও তাতে কর্ণপাত করেননি চিকিৎসক।
জানা গেছে, ডা. হোসাইন আহমেদ প্রতি সপ্তাহে মুন্সিগঞ্জ থেকে এসে ওই বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখেন। দরিদ্র পরিবারের প্রতি এমন সংবেদনহীন আচরণে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, চিকিৎসা শুধু পেশা নয়, এটি একটি মানবিক দায়িত্বও। দিনমজুর পরিবারের কাছ থেকে এভাবে ফি নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।
তিন কন্যা সন্তানের আগমনের খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান হাসপাতালে গিয়ে নবজাতকদের উপহার প্রদান করেন এবং তাদের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান।
নবজাতকদের বাবা শরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, “আল্লাহর রহমতে আমি খুশি, কিন্তু আমি দিনমজুর মানুষ। বাচ্চাদের জন্মের খরচ মেটাতেই সব শেষ। এখন তাদের লালন-পালন কীভাবে করব, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।” অভাবের সংসারে একসাথে তিনটি নতুন প্রাণের আগমন আনন্দের বার্তা আনলেও, সেই আনন্দ এখন ভবিষ্যতের শঙ্কার কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে।
Reporter Name 





















