ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে ২ জুলাই*যো*দ্ধাকে পুলিশে দিল ছাত্রদল!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০২ Time View
১৯৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে দুই জুলাইযোদ্ধাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এমনকি তদন্ত ছাড়াই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) রাতে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার ২২ নম্বর রোডের একটি মেস থেকে জুলাইযোদ্ধাসহ চারজনকে আটক করা হয়।

 

আটকরা হলেন- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল ও আকরাম খান ইমন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মহিদুর রহমান বাকী এবং রাকিব হাসান রনি।

 

আটকদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান তমাল এবং আকরাম খান ইমন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি সহপাঠীদের। জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে তমালের। তবে আটক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মহিদুর রহমান বাকী এবং রাকিব হাসান রনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শুক্রবার রাতে অভিযানের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনেই মাহমুদুল হাসান তমালকে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা গেছে, ‘আমাকে ধরেন। আমি আগেও জেল খেটেছি। আওয়ামী লীগ আমলেও জেল খেটেছি। আবার জেল খাটব ভাই।

 

ঘটনার পর আটক আরেকজন আকরাম খান ইমন অভিযোগ করেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি অনেক আগেই পড়াশোনা শেষ করেছি, ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আন্দোলনের সময় আমার ভূমিকা কী ছিল, সেটা ক্যাম্পাসের যে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে।

 

ইমন দাবি করেন, যারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, অতীতে তারাই বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখন উল্টো আমাদের ছাত্রলীগ বানিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ‘ছাত্রলীগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আমি ছাত্রদল করেছি। আমার ছাত্রলীগের কোনো পদ ছিল কি না, সেটাই আগে দেখাক।

অন্যদিকে, পুলিশকে খবর দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ওই বাসায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গোপনে বৈঠক করছিলেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি। পাশাপাশি সেখানে মাদক কারবারের অভিযোগও রয়েছে।

তবে বাড়ির মালিক দাবি করেছেন, আটকদের মধ্যে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের সময় ভূমিকা রেখেছে। মালিকের স্ত্রীর পূর্ব পরিচিত তারা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ মিমাংসা করতে এসেছিলেন ছাত্ররা। পরে কিছু লোক এসে তাদের ‘ছাত্রলীগ’ দাবি করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র মামলাটি করেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আটক চারজনের মধ্যে কেউ জুলাইযোদ্ধা আছে কি না আমার জানা নেই। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই বাছাই করা সম্ভব হয়নি। আমরা মামলা নিয়েছি। তারা ছাত্রলীগ কি না তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে ২ জুলাই*যো*দ্ধাকে পুলিশে দিল ছাত্রদল!

Update Time : ০৩:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
১৯৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে দুই জুলাইযোদ্ধাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এমনকি তদন্ত ছাড়াই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) রাতে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার ২২ নম্বর রোডের একটি মেস থেকে জুলাইযোদ্ধাসহ চারজনকে আটক করা হয়।

 

আটকরা হলেন- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল ও আকরাম খান ইমন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মহিদুর রহমান বাকী এবং রাকিব হাসান রনি।

 

আটকদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান তমাল এবং আকরাম খান ইমন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি সহপাঠীদের। জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে তমালের। তবে আটক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মহিদুর রহমান বাকী এবং রাকিব হাসান রনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শুক্রবার রাতে অভিযানের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনেই মাহমুদুল হাসান তমালকে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা গেছে, ‘আমাকে ধরেন। আমি আগেও জেল খেটেছি। আওয়ামী লীগ আমলেও জেল খেটেছি। আবার জেল খাটব ভাই।

 

ঘটনার পর আটক আরেকজন আকরাম খান ইমন অভিযোগ করেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি অনেক আগেই পড়াশোনা শেষ করেছি, ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আন্দোলনের সময় আমার ভূমিকা কী ছিল, সেটা ক্যাম্পাসের যে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে।

 

ইমন দাবি করেন, যারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, অতীতে তারাই বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখন উল্টো আমাদের ছাত্রলীগ বানিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ‘ছাত্রলীগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আমি ছাত্রদল করেছি। আমার ছাত্রলীগের কোনো পদ ছিল কি না, সেটাই আগে দেখাক।

অন্যদিকে, পুলিশকে খবর দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ওই বাসায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গোপনে বৈঠক করছিলেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি। পাশাপাশি সেখানে মাদক কারবারের অভিযোগও রয়েছে।

তবে বাড়ির মালিক দাবি করেছেন, আটকদের মধ্যে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের সময় ভূমিকা রেখেছে। মালিকের স্ত্রীর পূর্ব পরিচিত তারা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ মিমাংসা করতে এসেছিলেন ছাত্ররা। পরে কিছু লোক এসে তাদের ‘ছাত্রলীগ’ দাবি করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র মামলাটি করেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আটক চারজনের মধ্যে কেউ জুলাইযোদ্ধা আছে কি না আমার জানা নেই। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই বাছাই করা সম্ভব হয়নি। আমরা মামলা নিয়েছি। তারা ছাত্রলীগ কি না তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়া হবে।