ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের অসম্মানকারীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না : তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫০ Time View
১৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খুলনা শিল্প কলকারখানা আজ ধ্বংস করে দিয়ে গেছে লুটেরা সরকার। এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃত প্রায়। আমরা যদি জনগণের সেবা করার সুযোগ পাই তাহলে এই রুগ্ন শিল্পকে আবার বিকশিত করবো ইন শা-আল্লাহ। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপন করে নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

 

তিনি বলেন, দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বর্তমানে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে তারা কখনো দেশপ্রেমিক কিংবা জনদরদি হতে পারে না। এসব শক্তি মূলত দেশের অগ্রযাত্রার অন্তরায়।

 

গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল সোমবার বেলা ১২টায় খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার যোগে তারেক রহমান নামেন। ১২টা ২৫ মিনিটে তারেক রহমান জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হলে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। সকাল সোয়া ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা কাজী আবু রহীম। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন।

তারেক রহমান বলেন, শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন। দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে। একটি শ্রেণিকে বাদ দিয়ে কখনোই দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়।

 

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, যার মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল হতে পারে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।

 

নির্বাচন সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি দল প্রকাশ্যে নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি তাদের এক নেতা কর্মজীবী মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো জাতির জন্যই কলঙ্ক।

 

তিনি বলেন, লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ আজ তাদেরই অপমান করা হচ্ছে।

 

ইসলামের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যাচ্ছে নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাই নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিচ্ছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।

 

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি ও ধানের শীষের এ জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ১৫-১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এ সময় অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, টানা ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচন তো বটেই, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ কথা বলার অধিকার হারিয়েছিল।

 

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। আগামী ১২ তারিখে ইন শা-আল্লাহ জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

 

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে। একই সাথে কৃষক ভাইদের জন্যও থাকবে কৃষি কার্ড। এর মাধ্যমে তারা সরকারের কাছ থেকে পাবে নানা ধরণের সেবা ও সুবিধা।

 

জনসভায় বক্তৃতা করেন খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের আলি আসগর লবী, সাতক্ষীরা-১ আসনের হাবিবুর রহমান হাবীব, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, বেগম হালিমা আলী, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির সাবেক মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, খুলনা-১ আসনের আমির এজাজ খান, খুলনা-৬ আসনের মনিরুল হাসান বাপ্পি, সাতক্ষীরা-৩ আসনের কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-২ আসনের আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা-৪ আসনের ড. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-৩ আসনের ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে, বাগেরহাট-২ আসনের ব্যারিস্টার জাকির হোসেনসহ খুলনা ও আশপাশের বিভিন্ন আসনের বিএনপি প্রার্থীরা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

খুলনা জনসভা শেষে খুলনা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুলের বাসায় মধ্যহ্নভোজে অংশ নেয়। এরপর খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খুলনা সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিএনপি প্রার্থী ও নেতাদের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। দুপুর ২ টা ১ মিনিট বিভাগীয় স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টার যোগে যশোরের জনসভার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন।

 

এেিদক গতকাল সোমবার যশোর উপশহর কেন্দ্রী ক্রীড়া উদ্যানে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় তিনি বলেন, একটি দল ৫ আগস্টের পর মা-বোনদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন ও মা- বোনদের ঘরে বন্দি করতে চাচ্ছেন। তারা এনআইডি নাম্বার ও বিকাশ নাম্বার নিচ্ছেন। তাহলে অসৎ প্রস্তাব দিয়ে তারা কিভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে।

 

তিনি বলেন, একটি দলের প্রধান বিদেশি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারে ক্ষমতায় গেলে নারীদের কি চোখে দেখবেন তা বলছেন, অথচ গতরাতে সেই নেতা কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর কথা বলেছেন। যে দল নারীদের নিয়ে এমন আপত্তিকর কথা বলে তারা ক্ষমতায় গিয়ে ভাল কিছু দিতে পারবে না। তাদের চরিত্র ধরা পড়ে যাওয়ায় জনগণের সামনে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের জলজ্যান্ত মিথ্যা বলছে।

তারেক রহমান বলেন, নারীদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে বেগম জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করে দিয়েছিলেন, এবার খালেদা জিয়ার দল সরকার গঠন করতে পারলে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলিকার্ড পৌঁছে দেয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, বিগত সরকারের মত আমি-ড্যামি আর নিশিরাতের ভোট করে যেভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠে পড়ে লেগেছে একটি দল। ভোট গণনার নামে কেউ কোন সুযোগ নিতে চায়, তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

 

তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খননকৃত সেই উলাসী খালসহ এ অঞ্চলের খাল-বিল পুনঃখনন এবং পানিবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে সব প্রকল্প নেয়া হবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যে।

 

বিএনপি সরকার গঠন করলে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিম ও অন্য ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্র সম্মানী দেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ গড়বে।

 

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে যশোরের ফুলকে বিদেশে রফতানির উদ্যোগ নেয়া হবে। চালু করা হবে এ অঞ্চলের চিনিশিল্পগুলো।

 

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসনে খোকনের অনুষ্ঠান পরিচালনায় বক্তব্যে রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, ইন্দ্র তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল প্রমুখ।

 

নির্বাচনী সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি তারেক রহমান জুলাই যুদ্ধাহত এবং শহীদদের পিতা মাতার সাথে কুশল বিনিময় করেন।

 

এর আগে দলীয় প্রধানের আগমনকে ঘিরে সমাবেশ স্থলে মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা হাতে সেøাগানে সেøাগানে দলীয় নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে প্রবেশ করতে থাকেন। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পুরো সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিণত হয়। দলীয় প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইংরেজি ভোকাবুলারি শেখার জন্য বাজারে এলো ‘Word Power’

নারীদের অসম্মানকারীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না : তারেক রহমান

Update Time : ০৮:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খুলনা শিল্প কলকারখানা আজ ধ্বংস করে দিয়ে গেছে লুটেরা সরকার। এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃত প্রায়। আমরা যদি জনগণের সেবা করার সুযোগ পাই তাহলে এই রুগ্ন শিল্পকে আবার বিকশিত করবো ইন শা-আল্লাহ। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপন করে নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

 

তিনি বলেন, দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বর্তমানে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে তারা কখনো দেশপ্রেমিক কিংবা জনদরদি হতে পারে না। এসব শক্তি মূলত দেশের অগ্রযাত্রার অন্তরায়।

 

গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল সোমবার বেলা ১২টায় খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার যোগে তারেক রহমান নামেন। ১২টা ২৫ মিনিটে তারেক রহমান জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হলে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। সকাল সোয়া ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা কাজী আবু রহীম। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন।

তারেক রহমান বলেন, শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন। দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে। একটি শ্রেণিকে বাদ দিয়ে কখনোই দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়।

 

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, যার মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল হতে পারে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।

 

নির্বাচন সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি দল প্রকাশ্যে নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি তাদের এক নেতা কর্মজীবী মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো জাতির জন্যই কলঙ্ক।

 

তিনি বলেন, লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ আজ তাদেরই অপমান করা হচ্ছে।

 

ইসলামের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যাচ্ছে নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাই নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিচ্ছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।

 

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি ও ধানের শীষের এ জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ১৫-১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এ সময় অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, টানা ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচন তো বটেই, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ কথা বলার অধিকার হারিয়েছিল।

 

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। আগামী ১২ তারিখে ইন শা-আল্লাহ জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

 

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে। একই সাথে কৃষক ভাইদের জন্যও থাকবে কৃষি কার্ড। এর মাধ্যমে তারা সরকারের কাছ থেকে পাবে নানা ধরণের সেবা ও সুবিধা।

 

জনসভায় বক্তৃতা করেন খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের আলি আসগর লবী, সাতক্ষীরা-১ আসনের হাবিবুর রহমান হাবীব, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, বেগম হালিমা আলী, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির সাবেক মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, খুলনা-১ আসনের আমির এজাজ খান, খুলনা-৬ আসনের মনিরুল হাসান বাপ্পি, সাতক্ষীরা-৩ আসনের কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-২ আসনের আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা-৪ আসনের ড. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-৩ আসনের ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে, বাগেরহাট-২ আসনের ব্যারিস্টার জাকির হোসেনসহ খুলনা ও আশপাশের বিভিন্ন আসনের বিএনপি প্রার্থীরা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

খুলনা জনসভা শেষে খুলনা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুলের বাসায় মধ্যহ্নভোজে অংশ নেয়। এরপর খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খুলনা সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিএনপি প্রার্থী ও নেতাদের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। দুপুর ২ টা ১ মিনিট বিভাগীয় স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টার যোগে যশোরের জনসভার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন।

 

এেিদক গতকাল সোমবার যশোর উপশহর কেন্দ্রী ক্রীড়া উদ্যানে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় তিনি বলেন, একটি দল ৫ আগস্টের পর মা-বোনদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন ও মা- বোনদের ঘরে বন্দি করতে চাচ্ছেন। তারা এনআইডি নাম্বার ও বিকাশ নাম্বার নিচ্ছেন। তাহলে অসৎ প্রস্তাব দিয়ে তারা কিভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে।

 

তিনি বলেন, একটি দলের প্রধান বিদেশি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারে ক্ষমতায় গেলে নারীদের কি চোখে দেখবেন তা বলছেন, অথচ গতরাতে সেই নেতা কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর কথা বলেছেন। যে দল নারীদের নিয়ে এমন আপত্তিকর কথা বলে তারা ক্ষমতায় গিয়ে ভাল কিছু দিতে পারবে না। তাদের চরিত্র ধরা পড়ে যাওয়ায় জনগণের সামনে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের জলজ্যান্ত মিথ্যা বলছে।

তারেক রহমান বলেন, নারীদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে বেগম জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করে দিয়েছিলেন, এবার খালেদা জিয়ার দল সরকার গঠন করতে পারলে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলিকার্ড পৌঁছে দেয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, বিগত সরকারের মত আমি-ড্যামি আর নিশিরাতের ভোট করে যেভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠে পড়ে লেগেছে একটি দল। ভোট গণনার নামে কেউ কোন সুযোগ নিতে চায়, তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

 

তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খননকৃত সেই উলাসী খালসহ এ অঞ্চলের খাল-বিল পুনঃখনন এবং পানিবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে সব প্রকল্প নেয়া হবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যে।

 

বিএনপি সরকার গঠন করলে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিম ও অন্য ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্র সম্মানী দেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ গড়বে।

 

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে যশোরের ফুলকে বিদেশে রফতানির উদ্যোগ নেয়া হবে। চালু করা হবে এ অঞ্চলের চিনিশিল্পগুলো।

 

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসনে খোকনের অনুষ্ঠান পরিচালনায় বক্তব্যে রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, ইন্দ্র তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল প্রমুখ।

 

নির্বাচনী সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি তারেক রহমান জুলাই যুদ্ধাহত এবং শহীদদের পিতা মাতার সাথে কুশল বিনিময় করেন।

 

এর আগে দলীয় প্রধানের আগমনকে ঘিরে সমাবেশ স্থলে মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা হাতে সেøাগানে সেøাগানে দলীয় নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে প্রবেশ করতে থাকেন। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পুরো সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিণত হয়। দলীয় প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।