
নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ১৭ বছর পর পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্নমাত্রার রাজনৈতিক উত্তাপ, কৌতূহল ও প্রত্যাশা। একসময় আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় এবং নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ না থাকায় দীর্ঘদিনের ভোটের ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠ আরও স্পষ্ট হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটের হিসাব-নিকাশ বদলে যেতে শুরু করেছে।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের মধ্যে। পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর অংশগ্রহণ নির্বাচনী সমীকরণে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
কলাপাড়া উপজেলা ও নদীবেষ্টিত রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৪ আসনটি বরিশাল বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অঞ্চল। এখানে অবস্থিত দেশের তৃতীয় বৃহত্তম পায়রা সমুদ্র বন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা ও মহিপুর মৎস্য বন্দর। ফলে আসনটি শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় মোট ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৩১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৮৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৫ জন।
রাঙ্গাবালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৯৪ হাজার ৫৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৭ হাজার ৬৬১ জন এবং নারী ৪৭ হাজার ২০৩ জন। সব মিলিয়ে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭৩ জন।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রতীক বরাদ্দের আগেই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে মাঠ গোছানোর কাজ শেষ করেছেন।
তিনি বলেন, ধানের শীষে ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলে পায়রা বন্দর ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে ঘিরে বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। উপকূলীয় জনপদের মানুষ আর অবহেলিত থাকবে না।
বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে দলের নিজস্ব ভোটব্যাংকের পাশাপাশি ভাসমান ভোটের বড় অংশ বিএনপির দিকেই ঝুঁকেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান বলেন, আমি ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে নয়, ইসলামী আদর্শ, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন করছি। মানুষ পরিবর্তন চায়, আমি সেই পরিবর্তনের প্রতিনিধি হতে চাই।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাইউম মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের ডা. জহির উদ্দিন আহমেদকে সমর্থন দিয়েছেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ নির্বাচনী মাঠে তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকলেও জোটের নেতাকর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে ভোটার ঐক্য গঠনে কাজ করছেন।
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. রবিউল হাসান সংস্কার ও বিকল্প রাজনীতির বার্তা দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি সরাসরি মূল লড়াইয়ে প্রভাব না ফেললেও ভোট বিভাজনে ভূমিকা রাখতে পারেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সহিংসতা, মামলা-হামলা ও অস্থিরতায় তারা ক্লান্ত। এখন তাদের প্রধান চাওয়া উন্নয়ন, শান্তি ও কর্মসংস্থান।
ভোটার নুরইসলাম বলেন, আমরা এমন নেতা চাই, যিনি দলবাজি নয়, মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন।
কৃষক আলাউদ্দিন খা বলেন, মোশাররফ হোসেন জিতলে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন হইবো। সিডর-আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ আর রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ আনতে পারবো।
জেলে কামাল বলেন, এই এলাকায় উন্নয়নের জন্য মোশাররফই কাজ আনতে পারবে। টিভিতে ওর কথা হুনি।
Reporter Name 



















