ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলবাহী জাহাজের ভিড় বাড়ছে, তবু অকটেন সংকট

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৪০ Time View
৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ট্যাংকার মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে জাহাজটি থেকে তেল খালাস করা হবে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে যোগ হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, ভোররাত ৩টার দিকে পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি বন্দরে পৌঁছায়। লাইটারিং পদ্ধতিতে বা সরাসরি ডলফিন জেটিতে বার্থিং করে তেল খালাসের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে পদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই ধরনের আরও একটি জাহাজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩০টির বেশি জাহাজ জ্বালানি নিয়ে বন্দরে এসেছে। গত এক মাসে মোট ৩৩টি জাহাজ ভিড়েছে, যার মধ্যে ১৫টি তেলবাহী, ৮টি এলএনজি এবং ৯টি এলপিজিবাহী জাহাজ। এছাড়া শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আরও একটি জাহাজ আসতে পারে।

তবে এত জাহাজ ভিড়লেও নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাপ কমেনি। কোথাও কোথাও দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে অকটেনের সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেছে, যেখানে মোটরসাইকেলের লাইন বেশি।

পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রামে ডিজেলের কোনো সংকট নেই, তবে অকটেনের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম। সংকট শুরুর পর হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে গেছে, কিন্তু সরবরাহ আগের মতোই আছে।”

এদিকে, কিছু এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে ১২০ টাকার অকটেন ১৫০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। তবুও অতিরিক্ত দামে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯৮টি অভিযানে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৮ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান চলবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ মজুত করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

তেলবাহী জাহাজের ভিড় বাড়ছে, তবু অকটেন সংকট

Update Time : ১১:১৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের একটি ট্যাংকার মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে জাহাজটি থেকে তেল খালাস করা হবে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে যোগ হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, ভোররাত ৩টার দিকে পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি বন্দরে পৌঁছায়। লাইটারিং পদ্ধতিতে বা সরাসরি ডলফিন জেটিতে বার্থিং করে তেল খালাসের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে পদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই ধরনের আরও একটি জাহাজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩০টির বেশি জাহাজ জ্বালানি নিয়ে বন্দরে এসেছে। গত এক মাসে মোট ৩৩টি জাহাজ ভিড়েছে, যার মধ্যে ১৫টি তেলবাহী, ৮টি এলএনজি এবং ৯টি এলপিজিবাহী জাহাজ। এছাড়া শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আরও একটি জাহাজ আসতে পারে।

তবে এত জাহাজ ভিড়লেও নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাপ কমেনি। কোথাও কোথাও দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে অকটেনের সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেছে, যেখানে মোটরসাইকেলের লাইন বেশি।

পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রামে ডিজেলের কোনো সংকট নেই, তবে অকটেনের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম। সংকট শুরুর পর হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে গেছে, কিন্তু সরবরাহ আগের মতোই আছে।”

এদিকে, কিছু এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে ১২০ টাকার অকটেন ১৫০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। তবুও অতিরিক্ত দামে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯৮টি অভিযানে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৮ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান চলবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ মজুত করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।