ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানির কৃত্রিম সংকট : রাতের আঁধারে চড়া দামে তেল বিক্রি!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৮৪ Time View
১৯১

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দিনের বেলা দোকান বন্ধ রেখে রাতের আঁধারে বাড়ির ভিতরে বসে চড়া দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছে বলে অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য কারণে প্রশাসন নীরব। প্রকাশ্যে এ অনিয়ম চললেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নীরবতায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে একটি মাত্র পেট্রোল পাম্প রয়েছে। যেখানে বাইকে দিনে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেয়া হয়। তাও সব সময় পাওয়া যায় না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাইকারি ও খুচরা (দোকানে) বিক্রেতারা পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করছে। এতে করে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটার প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে পরিবহণ খাতসহ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসার মোঃ ইসা জানান, তেল সংকটের কারণে এক সপ্তাহ ধরে বাইক পড়ে আছে। কোথাও তেল পাচ্ছিনা। গাড়িতে তেল না থাকায় ৭ কিলো দূর থেকে অটোতে করে অফিসে আসতে হয়। এতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, ব্যবসায়ীরা তেল নেই বলে জানালেও রাতের আঁধারে বা গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে দক্ষিণবন্দর আমিরুল ওয়েল সাপ্লাই মঠবাড়িয়া কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন প্রশাসন এসে নীরবে চলে যায় নিশ্চয়ই এর ভিতর কোন লিয়াজুর ব্যাপার রয়েছে। ভোক্তা অধিকার ও উপজেলা প্রশাসনকে অনেকবার জানানোর পরেও মজুদ থাকা তেলের বিষয়ে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।

 

এ বিষয়ে মঠবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার জানান, সারা দেশের ন্যায় মঠবাড়িয়াতেও পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিয়োগ পাওয়া গেছে। শিঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া তেল সংকট না কাটা পর্যন্ত খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিপো থেকে যাতে পেট্রোল ও অকটেন কিনতে না পারে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়ে। তিনি আরও বলেন প্রেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষনিক দেখ ভাল করছেন। সাধারণ যানবাহন ও পরিবহন চালকদের প্রেট্রোল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করার অনুরোধ রইলো।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

জ্বালানির কৃত্রিম সংকট : রাতের আঁধারে চড়া দামে তেল বিক্রি!

Update Time : ১০:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
১৯১

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দিনের বেলা দোকান বন্ধ রেখে রাতের আঁধারে বাড়ির ভিতরে বসে চড়া দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছে বলে অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য কারণে প্রশাসন নীরব। প্রকাশ্যে এ অনিয়ম চললেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নীরবতায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে একটি মাত্র পেট্রোল পাম্প রয়েছে। যেখানে বাইকে দিনে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেয়া হয়। তাও সব সময় পাওয়া যায় না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাইকারি ও খুচরা (দোকানে) বিক্রেতারা পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করছে। এতে করে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটার প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে পরিবহণ খাতসহ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসার মোঃ ইসা জানান, তেল সংকটের কারণে এক সপ্তাহ ধরে বাইক পড়ে আছে। কোথাও তেল পাচ্ছিনা। গাড়িতে তেল না থাকায় ৭ কিলো দূর থেকে অটোতে করে অফিসে আসতে হয়। এতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, ব্যবসায়ীরা তেল নেই বলে জানালেও রাতের আঁধারে বা গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে দক্ষিণবন্দর আমিরুল ওয়েল সাপ্লাই মঠবাড়িয়া কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন প্রশাসন এসে নীরবে চলে যায় নিশ্চয়ই এর ভিতর কোন লিয়াজুর ব্যাপার রয়েছে। ভোক্তা অধিকার ও উপজেলা প্রশাসনকে অনেকবার জানানোর পরেও মজুদ থাকা তেলের বিষয়ে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।

 

এ বিষয়ে মঠবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার জানান, সারা দেশের ন্যায় মঠবাড়িয়াতেও পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিয়োগ পাওয়া গেছে। শিঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া তেল সংকট না কাটা পর্যন্ত খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিপো থেকে যাতে পেট্রোল ও অকটেন কিনতে না পারে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়ে। তিনি আরও বলেন প্রেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষনিক দেখ ভাল করছেন। সাধারণ যানবাহন ও পরিবহন চালকদের প্রেট্রোল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করার অনুরোধ রইলো।