ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসার অভাবে ভোলা থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে প্রাণ গেল শিশুর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৯ Time View
৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার ইলিশা থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ‘দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শিশু আরিফা ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার হাট এলাকার চৌকিদার বাড়ির আরিফ ও রোজিনা বেগম দম্পতির একমাত্র কন্যা।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হঠাৎ ডায়রিয়া জনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ে আরিফা। প্রথমে তাকে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বরিশালে রেফার্ড করেন। উন্নত চিকিৎসার আশায় স্বজনরা বরিশাল না গিয়ে দুপুরের দিকে ভোলা থেকে ঢাকাগামী দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চে ওঠেন। কিন্তু লঞ্চটি গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।

 

শোকার্ত মা বলেন, “ভোলা থেকে আমার মেয়েকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথেই লঞ্চে মেয়েটি মারা গেল।

 

লঞ্চে অসুস্থ রোগীদের জন্য ন্যূনতম অক্সিজেন সরবরাহ বা প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

 

মো. তুহিন, ইব্রাহিম ও ছিদ্দিকুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, লঞ্চে যদি অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকত, তবে হয়তো শিশুটির প্রাণ রক্ষা করা যেত। তারা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা ভোলাবাসী সবদিক থেকেই বঞ্চিত। চিকিৎসার জন্য ঢাকা-বরিশাল যাওয়ার পথেই আমাদের সন্তানদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে।

 

যাত্রীরা ভোলা-ঢাকা রুটের প্রতিটি লঞ্চে সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চের কেরানী মো. হারেছ হোসেন জানান, টিকিট কাটার সময় তিনি শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন, তবে স্বজনরা কোনো সহযোগিতার কথা বলেননি।

 

লঞ্চটি পুরাতন মডেলের হওয়ায় মরদেহ রাখার যথাযথ ব্যবস্থা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, লঞ্চ সদরঘাটের কাছাকাছি পৌঁছানোয় আমরা লাশটি কেবিনে রাখার ব্যবস্থা করেছি এবং স্বজনদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

চিকিৎসার অভাবে ভোলা থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে প্রাণ গেল শিশুর

Update Time : ০৯:৩০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার ইলিশা থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ‘দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

নিহত শিশু আরিফা ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার হাট এলাকার চৌকিদার বাড়ির আরিফ ও রোজিনা বেগম দম্পতির একমাত্র কন্যা।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হঠাৎ ডায়রিয়া জনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ে আরিফা। প্রথমে তাকে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বরিশালে রেফার্ড করেন। উন্নত চিকিৎসার আশায় স্বজনরা বরিশাল না গিয়ে দুপুরের দিকে ভোলা থেকে ঢাকাগামী দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চে ওঠেন। কিন্তু লঞ্চটি গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।

 

শোকার্ত মা বলেন, “ভোলা থেকে আমার মেয়েকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথেই লঞ্চে মেয়েটি মারা গেল।

 

লঞ্চে অসুস্থ রোগীদের জন্য ন্যূনতম অক্সিজেন সরবরাহ বা প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

 

মো. তুহিন, ইব্রাহিম ও ছিদ্দিকুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, লঞ্চে যদি অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকত, তবে হয়তো শিশুটির প্রাণ রক্ষা করা যেত। তারা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা ভোলাবাসী সবদিক থেকেই বঞ্চিত। চিকিৎসার জন্য ঢাকা-বরিশাল যাওয়ার পথেই আমাদের সন্তানদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে।

 

যাত্রীরা ভোলা-ঢাকা রুটের প্রতিটি লঞ্চে সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চের কেরানী মো. হারেছ হোসেন জানান, টিকিট কাটার সময় তিনি শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন, তবে স্বজনরা কোনো সহযোগিতার কথা বলেননি।

 

লঞ্চটি পুরাতন মডেলের হওয়ায় মরদেহ রাখার যথাযথ ব্যবস্থা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, লঞ্চ সদরঘাটের কাছাকাছি পৌঁছানোয় আমরা লাশটি কেবিনে রাখার ব্যবস্থা করেছি এবং স্বজনদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।