
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের গৌরনদীতে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের প্রতিবাদ করায় আরিফ আকন নামের এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
হামলার পর মৃত ভেবে ওই যুবককে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার গেরাকুল গ্রামে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ আকন ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম আকনের একমাত্র ছেলে। কয়েক মাস আগে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার বাঁ হাত ভেঙে প্রায় অকেজো অবস্থায় ছিল।
ভুক্তভোগীর বড় বোন তিরা মনি বেগম জানান, তাদের পুরনো বাড়ির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বাথরুম নির্মাণ করে প্রতিবেশী আনোয়ার আকনের ছেলে রুবেল আকন। শুক্রবার সকালে আরিফ বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রুবেলকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নির্মাণাধীন বাথরুমটি সরিয়ে নিতে বলেন। দুপুরে রুবেল বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয় এবং আরিফকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ওইদিন বিকেলে পরিকল্পিতভাবে রুবেল ও তার কয়েকজন সহযোগী আরিফকে বাড়ির পাশে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। লোহার রড দিয়ে আরিফের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পেটায় তারা। একপর্যায়ে আরিফকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরে খবর পেয়ে আরিফের বিধবা মা ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিরা মনি বেগম বলেন, আমার একমাত্র ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত রুবেল আকন ও তার অন্যান্য সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, হামলার ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় এখনও ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 























