ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫ Time View
১০০

নিজস্ব প্রতিবেদক : কাগজপত্রে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার শতভাগ পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় দেখানো হয়েছে ২০২১ সালে। অথচ গত চার বছর পরও কলাপাড়ার তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার রয়েছেন বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালীর একাংশ, উত্তরচরপাড়া গ্রামের একাংশ ও ইসলামপুর গ্রামে বসবাস এসব পরিবার রয়েছেন বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। এসব পরিবার প্রধানরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, তাঁদের ঠিকাদারের লোকজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে শতবার ধর্ণা দিয়েছেন। সবাই আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আজ অবধি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারের লোকজন কারো কারো কাছ থেকে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। ভুক্তভোগী এসব পরিবারের সন্তানেরা লেখাপড়াসহ বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সুবিধার বাইরে রয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পশ্চিম মধুখালী গ্রামের টাওয়ার রোডের কালভার্টের পরের বাসীন্দা আবু ইউসুফ আকন জানান, তাঁদের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত দশটি পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। তাঁদের কারো কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নিয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো ঠিকাদার। তিনটি খুটি বসানো হয়েছে। কিন্তু তার টানা হয়নি। সংযোগও জোটেনি। ওই গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবার রয়েছেন বিদ্যুত সুবিধার বাইরে।

আরামগঞ্জ মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওখানকার বাসীন্দা মো. সিয়াম জানায় তাঁদের কেরোসিনের ল্যাম্প, হ্যারিকেন জ¦ালিয়ে পড়তে হয়। রাতে ভোগান্তির শেষ নেই। কারো কারো সোলার রয়েছে। কিন্তু তাতে সংকুলান হয় না। বর্ষায় সোলারে অনেক সময় চার্জ থাকে না। পড়তে সমস্যা হয়। ক্লাশ থ্রিতে পড়ুয়া ইয়াসিন জানায়, তাদের কারেন্ট না থাকায় সমস্যা অনেক।

গ্রামটির অসংখ্য মানুষ জানান, তারা কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পাবেন তাও জানেন না। অনেকের প্রশ্ন, তারা কি এই দেশের নাগরিক? বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারগুলোর জিজ্ঞাসা, ২০২১ সালে কীভাবে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়ে শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হলো। এসব মানুষের প্রশ্ন দেশের চাহিদার অন্তত ১৫ভাগ বিদ্যুৎ কলাপাড়ায় উৎপাদন করা হচ্ছে। অথচ তাঁরা বঞ্চিত রয়েছেন।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানান, এই তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু সুরাহা করা হয়নি। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী জানান, এসব পরিবার ছাড়াও আরও পাঁচটি গ্রামের আংশিক কিছু পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এক্ষেত্রে নতুন প্রায় ১৮ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করতে হবে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হলেও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানালেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, এই তিনগ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার জন্য উপজেলা পরিষদের ও জেলা পরিষদের সভায় লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাসহ ২৫ জনের ৩৩টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

কলাপাড়ায় তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত

Update Time : ০৩:০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১০০

নিজস্ব প্রতিবেদক : কাগজপত্রে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার শতভাগ পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় দেখানো হয়েছে ২০২১ সালে। অথচ গত চার বছর পরও কলাপাড়ার তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার রয়েছেন বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালীর একাংশ, উত্তরচরপাড়া গ্রামের একাংশ ও ইসলামপুর গ্রামে বসবাস এসব পরিবার রয়েছেন বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। এসব পরিবার প্রধানরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, তাঁদের ঠিকাদারের লোকজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে শতবার ধর্ণা দিয়েছেন। সবাই আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আজ অবধি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারের লোকজন কারো কারো কাছ থেকে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। ভুক্তভোগী এসব পরিবারের সন্তানেরা লেখাপড়াসহ বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সুবিধার বাইরে রয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পশ্চিম মধুখালী গ্রামের টাওয়ার রোডের কালভার্টের পরের বাসীন্দা আবু ইউসুফ আকন জানান, তাঁদের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত দশটি পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। তাঁদের কারো কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নিয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো ঠিকাদার। তিনটি খুটি বসানো হয়েছে। কিন্তু তার টানা হয়নি। সংযোগও জোটেনি। ওই গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবার রয়েছেন বিদ্যুত সুবিধার বাইরে।

আরামগঞ্জ মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওখানকার বাসীন্দা মো. সিয়াম জানায় তাঁদের কেরোসিনের ল্যাম্প, হ্যারিকেন জ¦ালিয়ে পড়তে হয়। রাতে ভোগান্তির শেষ নেই। কারো কারো সোলার রয়েছে। কিন্তু তাতে সংকুলান হয় না। বর্ষায় সোলারে অনেক সময় চার্জ থাকে না। পড়তে সমস্যা হয়। ক্লাশ থ্রিতে পড়ুয়া ইয়াসিন জানায়, তাদের কারেন্ট না থাকায় সমস্যা অনেক।

গ্রামটির অসংখ্য মানুষ জানান, তারা কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পাবেন তাও জানেন না। অনেকের প্রশ্ন, তারা কি এই দেশের নাগরিক? বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারগুলোর জিজ্ঞাসা, ২০২১ সালে কীভাবে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়ে শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হলো। এসব মানুষের প্রশ্ন দেশের চাহিদার অন্তত ১৫ভাগ বিদ্যুৎ কলাপাড়ায় উৎপাদন করা হচ্ছে। অথচ তাঁরা বঞ্চিত রয়েছেন।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানান, এই তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু সুরাহা করা হয়নি। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী জানান, এসব পরিবার ছাড়াও আরও পাঁচটি গ্রামের আংশিক কিছু পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এক্ষেত্রে নতুন প্রায় ১৮ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করতে হবে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হলেও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানালেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, এই তিনগ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার জন্য উপজেলা পরিষদের ও জেলা পরিষদের সভায় লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে।