ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আাবারও স্বর্ণের দামে বড় লাফ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১০ Time View
১৬২

অর্থনৈতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে স্বর্ণের দাম। দর-কষাকষির সক্রিয়তা ও ডলারের তুলনামূলক দুর্বল অবস্থার কারণে মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ছে। একইসঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে অন্যান্য ধাতুর দামও।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৪৪ দশমিক ৭৪ ডলারে উঠেছে। একই দিন এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে দাম বেড়েছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নভেম্বরের পর সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থান। গত বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছেছিল।

মঙ্গলবার ইয়েন বাদে অধিকাংশ প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থান নিয়ে তুলনামূলক কম কঠোর প্রত্যাশার কারণে আগে ডলার শক্তিশালী হয়েছিল; তবে বিনিয়োগকারীরা সেই লাভের কিছুটা সমন্বয় করায় ডলার দুর্বল হয়।

ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য গ্রিনব্যাকে নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা চাহিদা বাড়ায়। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার একটি ব্যয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আংশিক অচলাবস্থা শেষ হওয়ার কথা।

তবে আংশিক শাটডাউনের কারণে জানুয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত কর্মসংস্থান প্রতিবেদন শুক্রবার প্রকাশিত হবে না। বিনিয়োগকারীরা এখন দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি ইল্ড এবং উচ্চতর ইল্ড কার্ভের দিকে নজর রাখছেন। কারণ, প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আসন্ন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সুদের হার কমানোর পাশাপাশি ফেডের ব্যালেন্স শিট সংকোচনের পক্ষে চাপ দেবেন।

বাজারে ধারণা, ২০২৬ সালে অন্তত দুটি ফেড সুদের হার কমানো হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীরা দিনের শেষে প্রকাশিতব্য এডিপি বেসরকারি বেতনের তথ্যের দিকেও তাকিয়ে আছেন। সাধারণত সুদের হার কমলে অ-ফলনশীল সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে।

রয়টার্সের কারিগরি বিশ্লেষক ওয়াং তাও বলেছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯৫০ ডলার থেকে ৫ হাজার ১৯৮ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৬ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ ১২১ দশমিক ৬৪ ডলার ছুঁয়েছিল।

অন্যদিকে, গত ২৬ জানুয়ারি রেকর্ড ২ হাজার ৯১৮ দশমিক ৮০ ডলার ছোঁয়ার পর বুধবার স্পট প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২৬০ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৮২ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহনে বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আাবারও স্বর্ণের দামে বড় লাফ

Update Time : ০৬:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৬২

অর্থনৈতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে স্বর্ণের দাম। দর-কষাকষির সক্রিয়তা ও ডলারের তুলনামূলক দুর্বল অবস্থার কারণে মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ছে। একইসঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে অন্যান্য ধাতুর দামও।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৪৪ দশমিক ৭৪ ডলারে উঠেছে। একই দিন এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে দাম বেড়েছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নভেম্বরের পর সবচেয়ে বড় দৈনিক উত্থান। গত বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছেছিল।

মঙ্গলবার ইয়েন বাদে অধিকাংশ প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থান নিয়ে তুলনামূলক কম কঠোর প্রত্যাশার কারণে আগে ডলার শক্তিশালী হয়েছিল; তবে বিনিয়োগকারীরা সেই লাভের কিছুটা সমন্বয় করায় ডলার দুর্বল হয়।

ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য গ্রিনব্যাকে নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা চাহিদা বাড়ায়। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার একটি ব্যয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আংশিক অচলাবস্থা শেষ হওয়ার কথা।

তবে আংশিক শাটডাউনের কারণে জানুয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত কর্মসংস্থান প্রতিবেদন শুক্রবার প্রকাশিত হবে না। বিনিয়োগকারীরা এখন দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি ইল্ড এবং উচ্চতর ইল্ড কার্ভের দিকে নজর রাখছেন। কারণ, প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আসন্ন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সুদের হার কমানোর পাশাপাশি ফেডের ব্যালেন্স শিট সংকোচনের পক্ষে চাপ দেবেন।

বাজারে ধারণা, ২০২৬ সালে অন্তত দুটি ফেড সুদের হার কমানো হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীরা দিনের শেষে প্রকাশিতব্য এডিপি বেসরকারি বেতনের তথ্যের দিকেও তাকিয়ে আছেন। সাধারণত সুদের হার কমলে অ-ফলনশীল সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে।

রয়টার্সের কারিগরি বিশ্লেষক ওয়াং তাও বলেছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯৫০ ডলার থেকে ৫ হাজার ১৯৮ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৬ দশমিক ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ ১২১ দশমিক ৬৪ ডলার ছুঁয়েছিল।

অন্যদিকে, গত ২৬ জানুয়ারি রেকর্ড ২ হাজার ৯১৮ দশমিক ৮০ ডলার ছোঁয়ার পর বুধবার স্পট প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২৬০ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৮২ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।