ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজি কিনতে বাড়তি টাকা, বিপাকে বরিশালবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৬:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭৫ Time View
১২৫
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি : বরিশাল নগরীর বাজারগুলোতে এলপিজি গ্যাসের দাম কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা হলেও নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২১শ’ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এই অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। অনেক দোকানেই গ্যাস বিক্রির বৈধ অনুমতি না থাকলেও তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
নগরীর বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অভাবেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত তদারকি না করে শুধু বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানগুলোতে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি হলেও তা নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।
ক্রেতাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর মনিটরিং ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
বরিশাল নগরীর আমানগঞ্জ এলাকার ক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, পাড়ার দোকানে গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪ শত টাকা বেশি নিচ্ছে। আমরা কারো কাছে অভিযোগ দিয়ে কোন ফল পাচ্ছিনা। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর কাছে গেলে তারা ক্রয়ের রশিদ চায়। দোকানীরা একটি সিলিন্ডার ক্রয়ের পর রশিদ চাইলে গ্যাসই বিক্রি করতে চায়না। যেকারণে আমাদের সমস্যা দেখার কেউ নেই।
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা পাইকারি পর্যায় থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। নগরীর চাঁদমারী এলাকার মুদি দোকানি বাবু বলেন, বেশিদামে কিনতে হচ্ছে তাই দামও বেশি নিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশালের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ মৌখিক আমাদের কাছে আসে। মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা অভিযান করতে পারিনা আর অভিযান করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা। কোন ক্রেতা গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়ের রশিদসহ আবেদন করলে আমরা ব্যবস্থা নিবো।
পাড়া মহল্লার দোকানে অভিযান হচ্ছেনা কেন যানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা সর্বত্র অভিযান পরিচালনা করে থাকি তবে সেটা অভিযোগ পেলে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

এলপিজি কিনতে বাড়তি টাকা, বিপাকে বরিশালবাসী

Update Time : ১১:৪৬:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
১২৫
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি : বরিশাল নগরীর বাজারগুলোতে এলপিজি গ্যাসের দাম কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা হলেও নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২১শ’ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এই অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। অনেক দোকানেই গ্যাস বিক্রির বৈধ অনুমতি না থাকলেও তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
নগরীর বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অভাবেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত তদারকি না করে শুধু বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানগুলোতে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি হলেও তা নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।
ক্রেতাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর মনিটরিং ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
বরিশাল নগরীর আমানগঞ্জ এলাকার ক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, পাড়ার দোকানে গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪ শত টাকা বেশি নিচ্ছে। আমরা কারো কাছে অভিযোগ দিয়ে কোন ফল পাচ্ছিনা। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর কাছে গেলে তারা ক্রয়ের রশিদ চায়। দোকানীরা একটি সিলিন্ডার ক্রয়ের পর রশিদ চাইলে গ্যাসই বিক্রি করতে চায়না। যেকারণে আমাদের সমস্যা দেখার কেউ নেই।
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা পাইকারি পর্যায় থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। নগরীর চাঁদমারী এলাকার মুদি দোকানি বাবু বলেন, বেশিদামে কিনতে হচ্ছে তাই দামও বেশি নিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশালের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ মৌখিক আমাদের কাছে আসে। মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা অভিযান করতে পারিনা আর অভিযান করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা। কোন ক্রেতা গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়ের রশিদসহ আবেদন করলে আমরা ব্যবস্থা নিবো।
পাড়া মহল্লার দোকানে অভিযান হচ্ছেনা কেন যানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা সর্বত্র অভিযান পরিচালনা করে থাকি তবে সেটা অভিযোগ পেলে।