ঢাকা ১০:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাধিক মামলার আসামী আ’লীগের দোসর টুলু ও বিপ্লবের রেণু পাচার ব্যবসা রমরমা!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ৭৮ Time View
১২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল :: দক্ষিণাঞ্চলে বাগদা ও গলদা রেনু পাচারের অন্যতম বড় রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পটুয়াখালী-ঢাকা মহাসড়ক এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে টুলু ও বিপ্লব নামের দুই ব্যক্তি এই ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাচার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও পরিবর্তন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বর্তমানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী এই রুট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহানগর বিএনপির এক নেতা—এমন দাবিও করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তার নির্দেশে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রেনু পাচারে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সূত্র জানায়, রেনু পাচারের মূল হোতা হিসেবে গোপালগঞ্জের টুলু ও বিপ্লবের নাম উঠে এসেছে, যারা একাধিক মামলার আসামি। তাদের কাছ থেকে ‘বিট মানি’ নিয়ে রেনুবাহী গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বরিশালের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ছাড়াও কিছু পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।

 

টুলুর সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা। এছাড়া বরিশাল নগরীর ২৩, ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের লোকমান, পলাশপুরের হারুন ওরফে ‘পাতি হারুন’ এবং পেয়ারারোড এলাকার বিপ্লবসহ আরও কয়েকজন এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের কিছু মাঝিকেও অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ রয়েছে।

 

পাচারকাজে ব্যবহৃত রুটও পরিবর্তনশীল। বাকেরগঞ্জ থেকে বেতাগী হয়ে এবং জিরো পয়েন্ট থেকে রূপাতলীর দিকে বিকল্প পথ ব্যবহার করে রেনুবাহী গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছানো হয়। একাধিক সূত্র জানায়, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারে কয়েকজন ‘স্কর্ট’ হিসেবে সামনে থেকে পথ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। কোনো ঝুঁকি দেখা দিলে তারা সংকেত দিয়ে রুট পরিবর্তন করায়।

 

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থানায় নিয়মিত ‘বিট মানি’ দেওয়ার কারণে রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাচার কার্যক্রম প্রায় নির্বিঘ্নে চলে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রূপাতলী, আমতলার মোড়, চৌমাথা ও কাশিপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্ট পার করার দায়িত্ব স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী পালন করেন বলেও জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, “দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে দলে রাখবেন না। প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলেন, “রেনু পাচারের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য—প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি যেকোনো তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

একাধিক মামলার আসামী আ’লীগের দোসর টুলু ও বিপ্লবের রেণু পাচার ব্যবসা রমরমা!

Update Time : ১২:৫১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
১২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল :: দক্ষিণাঞ্চলে বাগদা ও গলদা রেনু পাচারের অন্যতম বড় রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পটুয়াখালী-ঢাকা মহাসড়ক এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে টুলু ও বিপ্লব নামের দুই ব্যক্তি এই ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাচার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও পরিবর্তন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বর্তমানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী এই রুট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহানগর বিএনপির এক নেতা—এমন দাবিও করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তার নির্দেশে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রেনু পাচারে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সূত্র জানায়, রেনু পাচারের মূল হোতা হিসেবে গোপালগঞ্জের টুলু ও বিপ্লবের নাম উঠে এসেছে, যারা একাধিক মামলার আসামি। তাদের কাছ থেকে ‘বিট মানি’ নিয়ে রেনুবাহী গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বরিশালের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ছাড়াও কিছু পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।

 

টুলুর সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা। এছাড়া বরিশাল নগরীর ২৩, ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের লোকমান, পলাশপুরের হারুন ওরফে ‘পাতি হারুন’ এবং পেয়ারারোড এলাকার বিপ্লবসহ আরও কয়েকজন এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের কিছু মাঝিকেও অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ রয়েছে।

 

পাচারকাজে ব্যবহৃত রুটও পরিবর্তনশীল। বাকেরগঞ্জ থেকে বেতাগী হয়ে এবং জিরো পয়েন্ট থেকে রূপাতলীর দিকে বিকল্প পথ ব্যবহার করে রেনুবাহী গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছানো হয়। একাধিক সূত্র জানায়, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারে কয়েকজন ‘স্কর্ট’ হিসেবে সামনে থেকে পথ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। কোনো ঝুঁকি দেখা দিলে তারা সংকেত দিয়ে রুট পরিবর্তন করায়।

 

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থানায় নিয়মিত ‘বিট মানি’ দেওয়ার কারণে রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাচার কার্যক্রম প্রায় নির্বিঘ্নে চলে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রূপাতলী, আমতলার মোড়, চৌমাথা ও কাশিপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্ট পার করার দায়িত্ব স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী পালন করেন বলেও জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, “দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে দলে রাখবেন না। প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলেন, “রেনু পাচারের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য—প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি যেকোনো তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।