ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা আজ ব্যারিস্টার ফুয়াদের মঞ্চে সঞ্চালনায় ! তবে কেন?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪ Time View
৮২

নিজস্ব প্রতিবেদক : একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি’ র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ঘনিষ্ঠ সহচর মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বাবুগঞ্জে চলছে নানা আলোচনা। দীর্ঘ ৩২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাস বর্তমানে ১০ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী মঞ্চে সঞ্চালনায় অংশ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাস বলেন, জাতীয়তাবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবনের ৩২টি বছর পার করেছি বিএনপির রাজনীতিতে। শত বাধা-বিপত্তি, সুখ-দুঃখ পেরিয়ে দলকে আগলে রেখেছি। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজ দলেই আজ আমি অবমূল্যায়িত। দলের সুসময়ে বসন্তের কোকিলরা এসে মূল্যায়িত হচ্ছে, আর আমরা যারা দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম তারা পড়েছি অবহেলার তালিকায়। এর বিচার কাউকে দিচ্ছি না। নিজের ভালো লাগা থেকেই ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ভালোবেসে তাঁর মঞ্চে অবস্থান নিয়েছি।

এ বিষয়ে কথা হয় বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. কাইয়ুম হোসেন খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাস আমার সিনিয়র সহযোদ্ধা ছিলেন-এটা সত্য। বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর বহু ত্যাগ ও শ্রম রয়েছে। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে, যখন বিএনপি মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত ছিল, সেই দুঃসময়ে আমরা দেখেছি তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। এমনকি ওই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, যা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। তা সত্ত্বেও তাঁর মতো একজন মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বাবুগঞ্জের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে প্রয়োজন ছিল এবং দল থেকে তাঁর সঠিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল।

অন্যদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা বলেন, তিনি একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকলেও গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে কখনোই তাঁকে পাশে পাইনি। এখন তিনি অন্য কোনো দল বা ব্যক্তির নির্বাচনী মঞ্চে যাবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। জাতীয়তাবাদী দল প্রকৃত ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে যারা অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছে, সে বিষয়েও দল যথেষ্ট সচেতন।

একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাসের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এভাবেই বাবুগঞ্জজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক শিল্পে মূল্য সংযোজন বাড়াতে বাংলাদেশে বড় সম্ভাবনা দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া

একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা আজ ব্যারিস্টার ফুয়াদের মঞ্চে সঞ্চালনায় ! তবে কেন?

Update Time : ১১:২৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৮২

নিজস্ব প্রতিবেদক : একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি’ র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ঘনিষ্ঠ সহচর মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বাবুগঞ্জে চলছে নানা আলোচনা। দীর্ঘ ৩২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাস বর্তমানে ১০ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী মঞ্চে সঞ্চালনায় অংশ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাস বলেন, জাতীয়তাবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবনের ৩২টি বছর পার করেছি বিএনপির রাজনীতিতে। শত বাধা-বিপত্তি, সুখ-দুঃখ পেরিয়ে দলকে আগলে রেখেছি। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজ দলেই আজ আমি অবমূল্যায়িত। দলের সুসময়ে বসন্তের কোকিলরা এসে মূল্যায়িত হচ্ছে, আর আমরা যারা দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম তারা পড়েছি অবহেলার তালিকায়। এর বিচার কাউকে দিচ্ছি না। নিজের ভালো লাগা থেকেই ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ভালোবেসে তাঁর মঞ্চে অবস্থান নিয়েছি।

এ বিষয়ে কথা হয় বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. কাইয়ুম হোসেন খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাস আমার সিনিয়র সহযোদ্ধা ছিলেন-এটা সত্য। বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর বহু ত্যাগ ও শ্রম রয়েছে। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে, যখন বিএনপি মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত ছিল, সেই দুঃসময়ে আমরা দেখেছি তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। এমনকি ওই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, যা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। তা সত্ত্বেও তাঁর মতো একজন মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বাবুগঞ্জের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে প্রয়োজন ছিল এবং দল থেকে তাঁর সঠিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল।

অন্যদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দুলাল চন্দ্র সাহা বলেন, তিনি একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকলেও গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে কখনোই তাঁকে পাশে পাইনি। এখন তিনি অন্য কোনো দল বা ব্যক্তির নির্বাচনী মঞ্চে যাবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। জাতীয়তাবাদী দল প্রকৃত ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে যারা অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছে, সে বিষয়েও দল যথেষ্ট সচেতন।

একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাসের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এভাবেই বাবুগঞ্জজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।