ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উচ্চ রক্তচাপ এড়াতে যেসব অভ্যাস বদলানো জরুরি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৪ Time View
২১৪

স্বাস্থ্য ডেস্ক : উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বিশ্বের অন্যতম সাধারণ কিন্তু অবহেলিত স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই এই সমস্যা ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলতে থাকে। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্ক ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, বেড়ে যায় হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি।

মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, রক্তনালীর ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহের চাপ দীর্ঘদিন বেশি থাকলেই তাকে হাইপারটেনশন বলা হয়। রক্তচাপ ১৩০/৮০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়। আর চাপ যদি ১৮০/১২০-এর ওপরে উঠে যায়, তবে সেটি জরুরি চিকিৎসার ইঙ্গিত হতে পারে।

চিকিৎসকেরা এখন চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান উপায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা যে কোনো পছন্দের ব্যায়াম করা।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরা লবণ কম খাওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এর বদলে ফল, সবজি, গোটা শস্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। ভূমধ্যসাগরীয় (মেডিটেরেনিয়ান) ও ড্যাশ ডায়েটকে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর খাদ্যাভ্যাস হিসেবেও উল্লেখ করেন চিকিৎসকগণ।

মায়ো ক্লিনিকও জানায়, উদ্ভিদভিত্তিক ও সম্পূর্ণ খাবারনির্ভর খাদ্যাভ্যাস প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন কমাতে পারে।

ব্যায়াম ও খাদ্যের পাশাপাশি ভালো ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দিতে বলেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম এবং মেডিটেশন, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা মাইন্ডফুলনেসের মতো পদ্ধতি মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ছাড়া নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করাও জরুরি। মায়ো ক্লিনিকের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স থেকে অন্তত দুই বছর অন্তর রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। ৪০ বছরের বেশি বয়সী বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বছরে একবার পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কারণ, উপসর্গ না থাকলেও বহু বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ থেকে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের জীবনে ছোট কিন্তু নিয়মিত পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

উচ্চ রক্তচাপ এড়াতে যেসব অভ্যাস বদলানো জরুরি

Update Time : ০৬:৫২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
২১৪

স্বাস্থ্য ডেস্ক : উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বিশ্বের অন্যতম সাধারণ কিন্তু অবহেলিত স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই এই সমস্যা ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলতে থাকে। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্ক ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, বেড়ে যায় হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি।

মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, রক্তনালীর ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহের চাপ দীর্ঘদিন বেশি থাকলেই তাকে হাইপারটেনশন বলা হয়। রক্তচাপ ১৩০/৮০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়। আর চাপ যদি ১৮০/১২০-এর ওপরে উঠে যায়, তবে সেটি জরুরি চিকিৎসার ইঙ্গিত হতে পারে।

চিকিৎসকেরা এখন চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান উপায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা যে কোনো পছন্দের ব্যায়াম করা।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরা লবণ কম খাওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এর বদলে ফল, সবজি, গোটা শস্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেন তারা। ভূমধ্যসাগরীয় (মেডিটেরেনিয়ান) ও ড্যাশ ডায়েটকে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর খাদ্যাভ্যাস হিসেবেও উল্লেখ করেন চিকিৎসকগণ।

মায়ো ক্লিনিকও জানায়, উদ্ভিদভিত্তিক ও সম্পূর্ণ খাবারনির্ভর খাদ্যাভ্যাস প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন কমাতে পারে।

ব্যায়াম ও খাদ্যের পাশাপাশি ভালো ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দিতে বলেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম এবং মেডিটেশন, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা মাইন্ডফুলনেসের মতো পদ্ধতি মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ছাড়া নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করাও জরুরি। মায়ো ক্লিনিকের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স থেকে অন্তত দুই বছর অন্তর রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। ৪০ বছরের বেশি বয়সী বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বছরে একবার পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কারণ, উপসর্গ না থাকলেও বহু বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ থেকে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের জীবনে ছোট কিন্তু নিয়মিত পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।