ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ’লীগ আমলে ওসি ফয়সাল আহমেদের উত্থান ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন, বরিশালের মামলায় আসামি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৯ Time View
১৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়সাল আহমেদকে ঘিরে তার পেশাগত উত্থান, সম্পদ বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক একটি মামলায় আসামি হওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি বরিশালের একটি মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ—এর কোতোয়ালি থানার ওসি ফয়সাল আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে বরিশাল বন্দর থানাধীন চরমোনাই ইউনিয়নের বিশ্বাসের হাট এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার—এর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের আটক ও হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে পথরোধ, হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ, মারধর করে জখম এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৬৫, ৩২৩, ৩০৭, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানায় কর্মরত অবস্থায় ফয়সাল আহমেদ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।সেই সময় বিরোধী নেতা কর্মীদের অবৈধভাবে পথরোধ, হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ, মারধর করে জখম এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এ ঘটনায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালনকালে ফয়সাল আহমেদের পেশাগত উন্নতি দ্রুত ঘটে। একই সঙ্গে তার সম্পদ বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, থানাকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার এবং মামলা সংক্রান্ত তদবিরের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছিলেন তিনি। এতে সাধারণ মানুষ অনেক সময় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি ফয়সাল আহমেদ বলেন,“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি সবসময় আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ও সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি করে থাকে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সচেতন মহলের অভিমত, আলোচিত অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং জনমনে বিদ্যমান প্রশ্নের সমাধান হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

আ’লীগ আমলে ওসি ফয়সাল আহমেদের উত্থান ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন, বরিশালের মামলায় আসামি

Update Time : ০৭:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়সাল আহমেদকে ঘিরে তার পেশাগত উত্থান, সম্পদ বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক একটি মামলায় আসামি হওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি বরিশালের একটি মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ—এর কোতোয়ালি থানার ওসি ফয়সাল আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে বরিশাল বন্দর থানাধীন চরমোনাই ইউনিয়নের বিশ্বাসের হাট এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার—এর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের আটক ও হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে।আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে পথরোধ, হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ, মারধর করে জখম এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৬৫, ৩২৩, ৩০৭, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানায় কর্মরত অবস্থায় ফয়সাল আহমেদ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।সেই সময় বিরোধী নেতা কর্মীদের অবৈধভাবে পথরোধ, হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ, মারধর করে জখম এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এ ঘটনায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালনকালে ফয়সাল আহমেদের পেশাগত উন্নতি দ্রুত ঘটে। একই সঙ্গে তার সম্পদ বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, থানাকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার এবং মামলা সংক্রান্ত তদবিরের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছিলেন তিনি। এতে সাধারণ মানুষ অনেক সময় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি ফয়সাল আহমেদ বলেন,“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি সবসময় আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ও সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি করে থাকে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সচেতন মহলের অভিমত, আলোচিত অভিযোগ ও মামলার বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং জনমনে বিদ্যমান প্রশ্নের সমাধান হবে।