ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের আন্দোলন : থমকে গেছে ২০ হাজার মেধাবীর শিক্ষাজীবন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬৬ Time View
২৮৮

বিশেষ প্রতিবেদক।। দৈনিক জনতার কণ্ঠ।। ​দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন।

 

 

শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সেশনজটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে প্রতিটি অনুষদেই সুনসান নীরবতা। শিক্ষকদের ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ কারণে ক্লাস ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

​এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, আমাদের সেমিস্টার শেষ হওয়ার কথা ছিল এই মাসে। অথচ এখন ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ। আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছি, আমাদের কাছে প্রতিটি দিন মূল্যবান। শিক্ষক ও প্রশাসনের দ্বন্দ্বে আমাদের জীবন থেকে কেন সময় হারিয়ে যাবে?

শিক্ষক সমিতি তাদের দাবির বিষয়ে অনড়। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রেখে প্রশাসন বৈষম্য তৈরি করছে।

 

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ আবদুল কাইয়ুম (কাল্পনিক নাম) বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের কষ্ট বুঝি, কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। বছরের পর বছর শিক্ষকদের পদোন্নতি বঞ্চিত রেখে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রশাসন আন্তরিক হলেই এক ঘণ্টায় এই সংকট সমাধান সম্ভব।

 

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, আমরা আলোচনার পথ সবসময় খোলা রেখেছি। ইউজিসির কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালার কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাতে যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে পারে।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটমুক্ত রাখার যে প্রচেষ্টা গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো পক্ষ না নিয়ে শুধু পড়াশোনার পরিবেশ ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন। ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, “আমরা চাই না ক্যাম্পাস রাজনীতির বা প্রশাসনিক মারপ্যাঁচে আমাদের সার্টিফিকেট পেতে দেরি হোক।

 

সচেতন মহলের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

 

কীর্তনখোলার পাড়ের এই বিদ্যাপীঠটি কি তার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পাবে, নাকি শিক্ষকদের আন্দোলনের তোড়ে হারিয়ে যাবে ২০ হাজার মেধাবীর স্বপ্ন এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

শিক্ষকদের আন্দোলন : থমকে গেছে ২০ হাজার মেধাবীর শিক্ষাজীবন

Update Time : ০৫:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
২৮৮

বিশেষ প্রতিবেদক।। দৈনিক জনতার কণ্ঠ।। ​দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন।

 

 

শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সেশনজটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে প্রতিটি অনুষদেই সুনসান নীরবতা। শিক্ষকদের ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ কারণে ক্লাস ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

​এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, আমাদের সেমিস্টার শেষ হওয়ার কথা ছিল এই মাসে। অথচ এখন ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ। আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছি, আমাদের কাছে প্রতিটি দিন মূল্যবান। শিক্ষক ও প্রশাসনের দ্বন্দ্বে আমাদের জীবন থেকে কেন সময় হারিয়ে যাবে?

শিক্ষক সমিতি তাদের দাবির বিষয়ে অনড়। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রেখে প্রশাসন বৈষম্য তৈরি করছে।

 

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ আবদুল কাইয়ুম (কাল্পনিক নাম) বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের কষ্ট বুঝি, কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। বছরের পর বছর শিক্ষকদের পদোন্নতি বঞ্চিত রেখে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রশাসন আন্তরিক হলেই এক ঘণ্টায় এই সংকট সমাধান সম্ভব।

 

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, আমরা আলোচনার পথ সবসময় খোলা রেখেছি। ইউজিসির কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালার কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাতে যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে পারে।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটমুক্ত রাখার যে প্রচেষ্টা গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো পক্ষ না নিয়ে শুধু পড়াশোনার পরিবেশ ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন। ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, “আমরা চাই না ক্যাম্পাস রাজনীতির বা প্রশাসনিক মারপ্যাঁচে আমাদের সার্টিফিকেট পেতে দেরি হোক।

 

সচেতন মহলের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

 

কীর্তনখোলার পাড়ের এই বিদ্যাপীঠটি কি তার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পাবে, নাকি শিক্ষকদের আন্দোলনের তোড়ে হারিয়ে যাবে ২০ হাজার মেধাবীর স্বপ্ন এখন সেটিই দেখার বিষয়।