ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য নাগালের বাইরে, বিপাকে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৬ Time View
২৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র রমজানে জেলার সরাইলে ডিমের দাম কিছুটা সহনীয় হলেও মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী।

 

 

অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজি এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকার ওপরে। সবজির দাম চড়া থাকায় অস্বস্তি বেড়েছে ক্রেতাদের; বিশেষ করে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষেরা বেশি সংকটে পড়েছে। পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যাদির দাম বাড়িয়ে দেয়।

 

 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সরাইল, অরুয়াইল, শাহবাজপুর, চুন্টা, কালীকচ্ছ ও পানিশ্বরসহ কয়েকটি বাজারে সরজমিনে দেখা যায়, গত সপ্তাহের পণ্যের দামের তুলনায় পবিত্র রমজানের বর্তমান সপ্তাহে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বৃদ্ধিসহ সর্বক্ষেত্রে দাম বাড়ায় ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ডিমসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে অধিকাংশ সবজির দাম ৭০-৮০ টাকার ওপরে। বেড়েছে বেগুনের দাম; বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো বেগুন নেই, যার সর্বোচ্চ দাম ২০০ টাকা। প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। কিছুদিন আগেও ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে এক কেজি বেগুন কেনা যেত।

 

অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। আমদানি করা টমেটোর দামও বেড়ে গেছে। পটল, ঢেঁড়স ও ঝিঙার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কেজিতে ৮০ টাকা দামে কেনা যায় ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, কচু ও মুড়ি। এছাড়া প্রতি পিস চালকুমড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে প্রতি কেজি বোয়াল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, চাষের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কাতল ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ও শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। দাম বেড়েছে মুরগিরও; কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০ টাকায় এবং প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩১০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায়। জাতভেদে প্রতি কেজি হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়।

 

বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১০৫ থেকে ১২০ টাকা ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এছাড়া হাঁসের ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। তবে বেড়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়, খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা। সাধ্যের বাইরে দাম বেড়েছে খেজুর, লেবু, ছোলাবুট, বেগুন, আপেল, কমলা, পেয়ারা, আঙুর, বড়ইসহ সকল প্রকার ফল ও প্রয়োজনীয় সকল খাবারের মূল্য। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙার ব্যবস্থাসহ প্রশাসনের বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য নাগালের বাইরে, বিপাকে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা

Update Time : ১১:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
২৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র রমজানে জেলার সরাইলে ডিমের দাম কিছুটা সহনীয় হলেও মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী।

 

 

অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজি এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকার ওপরে। সবজির দাম চড়া থাকায় অস্বস্তি বেড়েছে ক্রেতাদের; বিশেষ করে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষেরা বেশি সংকটে পড়েছে। পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যাদির দাম বাড়িয়ে দেয়।

 

 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সরাইল, অরুয়াইল, শাহবাজপুর, চুন্টা, কালীকচ্ছ ও পানিশ্বরসহ কয়েকটি বাজারে সরজমিনে দেখা যায়, গত সপ্তাহের পণ্যের দামের তুলনায় পবিত্র রমজানের বর্তমান সপ্তাহে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বৃদ্ধিসহ সর্বক্ষেত্রে দাম বাড়ায় ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ডিমসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে অধিকাংশ সবজির দাম ৭০-৮০ টাকার ওপরে। বেড়েছে বেগুনের দাম; বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো বেগুন নেই, যার সর্বোচ্চ দাম ২০০ টাকা। প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। কিছুদিন আগেও ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে এক কেজি বেগুন কেনা যেত।

 

অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। আমদানি করা টমেটোর দামও বেড়ে গেছে। পটল, ঢেঁড়স ও ঝিঙার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কেজিতে ৮০ টাকা দামে কেনা যায় ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, কচু ও মুড়ি। এছাড়া প্রতি পিস চালকুমড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে প্রতি কেজি বোয়াল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, চাষের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কাতল ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ও শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। দাম বেড়েছে মুরগিরও; কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০ টাকায় এবং প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩১০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায়। জাতভেদে প্রতি কেজি হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়।

 

বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১০৫ থেকে ১২০ টাকা ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এছাড়া হাঁসের ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। তবে বেড়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়, খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা। সাধ্যের বাইরে দাম বেড়েছে খেজুর, লেবু, ছোলাবুট, বেগুন, আপেল, কমলা, পেয়ারা, আঙুর, বড়ইসহ সকল প্রকার ফল ও প্রয়োজনীয় সকল খাবারের মূল্য। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙার ব্যবস্থাসহ প্রশাসনের বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি জানিয়েছেন।