ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পটুয়াখালীতে অচল হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিলাসবহুল গাড়ি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২ Time View
১০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী জেলার আট উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে সরবরাহ করা গাড়িগুলো প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অলস পড়ে আছে। ব্যবহার না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অচলও হয়ে গেছে।

 

 

২০১৮ সালে দেওয়া এসব গাড়ির জন্য নির্ধারিত প্রকল্প ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, জ্বালানি বরাদ্দ এবং চালকদের বেতন। ফলে মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় পড়তে হচ্ছে চরম বেগে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের উদ্যোগে সারাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি সরবরাহ করা হয়। তবে নির্ধারিত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ায় গত বছরের মাঝামাঝি থেকে এসব গাড়ি পরিচালনার ব্যয়ভার বহনে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। এতে অনেক উপজেলায় গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, আর কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমিতভাবে গাড়ি সচল রাখার চেষ্টা করছেন।

 

 

গাড়ি অচল থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা ভাড়ায় চালিত ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে করে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। সম্প্রতি কলাপাড়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়িচালক রিয়াজ হোসেন বলেন, প্রকল্প বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে অল্প কিছু অর্থ দিয়ে আমাকে রেখেছেন। আমাদের জীবন-জীবিকা এখন কষ্টের মধ্যে চলছে।

 

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রউফ উদ্দিন জানান, সরকারি বরাদ্দ বন্ধ থাকায় গাড়ির তেল, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা চালকের বেতন কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে টিকাদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকিতে আমাদের নিয়মিত যেতে হয়। তখন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে চলাচল করতে হয়, যা আমাদের জন্য বিপজ্জনক।

 

একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান পটুয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আল রাকিব। তিনি বলেন, গাড়িটি পুরোপুরি অচল হয়ে না পড়ে সেজন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমিতভাবে চালু রেখেছি। তবে এভাবে বেশিদিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন খালিদুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় গাড়িগুলো দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চালক, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের সব ব্যয় বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক গাড়ি অচল হয়ে পড়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়িগুলো সচল রাখতে মাঝে মাঝে স্টার্ট দিতে বলা হয়েছে, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পটুয়াখালীতে অচল হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিলাসবহুল গাড়ি

Update Time : ১০:৩২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী জেলার আট উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে সরবরাহ করা গাড়িগুলো প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অলস পড়ে আছে। ব্যবহার না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অচলও হয়ে গেছে।

 

 

২০১৮ সালে দেওয়া এসব গাড়ির জন্য নির্ধারিত প্রকল্প ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, জ্বালানি বরাদ্দ এবং চালকদের বেতন। ফলে মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় পড়তে হচ্ছে চরম বেগে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের উদ্যোগে সারাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি সরবরাহ করা হয়। তবে নির্ধারিত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ায় গত বছরের মাঝামাঝি থেকে এসব গাড়ি পরিচালনার ব্যয়ভার বহনে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। এতে অনেক উপজেলায় গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, আর কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমিতভাবে গাড়ি সচল রাখার চেষ্টা করছেন।

 

 

গাড়ি অচল থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা ভাড়ায় চালিত ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে করে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। সম্প্রতি কলাপাড়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়িচালক রিয়াজ হোসেন বলেন, প্রকল্প বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে অল্প কিছু অর্থ দিয়ে আমাকে রেখেছেন। আমাদের জীবন-জীবিকা এখন কষ্টের মধ্যে চলছে।

 

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রউফ উদ্দিন জানান, সরকারি বরাদ্দ বন্ধ থাকায় গাড়ির তেল, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা চালকের বেতন কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে টিকাদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকিতে আমাদের নিয়মিত যেতে হয়। তখন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে চলাচল করতে হয়, যা আমাদের জন্য বিপজ্জনক।

 

একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান পটুয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আল রাকিব। তিনি বলেন, গাড়িটি পুরোপুরি অচল হয়ে না পড়ে সেজন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমিতভাবে চালু রেখেছি। তবে এভাবে বেশিদিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন খালিদুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় গাড়িগুলো দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চালক, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের সব ব্যয় বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক গাড়ি অচল হয়ে পড়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়িগুলো সচল রাখতে মাঝে মাঝে স্টার্ট দিতে বলা হয়েছে, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।