ঢাকা ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালের ৮ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, উপকূলের নিচু এলাকা প্লাবিত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৭৬ Time View
২০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : অমাবস্যার প্রভাবে বরিশাল বিভাগের প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই আটটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় এলাকার নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ও বুধবার (১৫ জুলাই) দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টের পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় ৮টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলে বন্যার কোনো প্রভাব নেই। তবে অমাবস্যা ও বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় গত মঙ্গলবার থেকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।

 

 

এ ছাড়াও বিভাগের আমতলী উপজেলায় বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জে তেঁতুলিয়া, উজিরপুরে সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ায় লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

মো. জাবেদ ইকবাল আরও জানান, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীটির বিপৎসীমা ২ দশমিক ১০ মিটার হলেও পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ২ দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায়। এ ছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৪১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়।

 

তিনি জানান, ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ১২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। দৌলতখান উপজেলায় মেঘনা-সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ৯৫ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। একই জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ২২ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়।

 

 

এ ছাড়া পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৯ মিটার। বর্তমানে নদীটির পানি ১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বরগুনার বিষখালী-খাকদন নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ০৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে।

 

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৩ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। কঁচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৬৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয় বলে জানান বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল।

 

এ দিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার জানান, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরিশালের ৮ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, উপকূলের নিচু এলাকা প্লাবিত

Update Time : ০৫:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
২০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : অমাবস্যার প্রভাবে বরিশাল বিভাগের প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই আটটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় এলাকার নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ও বুধবার (১৫ জুলাই) দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টের পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গত দুই দিন ধরে জোয়ারের সময় ৮টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলে বন্যার কোনো প্রভাব নেই। তবে অমাবস্যা ও বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় গত মঙ্গলবার থেকে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।

 

 

এ ছাড়াও বিভাগের আমতলী উপজেলায় বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জে তেঁতুলিয়া, উজিরপুরে সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ায় লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

মো. জাবেদ ইকবাল আরও জানান, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীটির বিপৎসীমা ২ দশমিক ১০ মিটার হলেও পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ২ দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায়। এ ছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৪১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়।

 

তিনি জানান, ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ১২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। দৌলতখান উপজেলায় মেঘনা-সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ৯৫ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। একই জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমা ২ দশমিক ২২ মিটার অতিক্রম করে ৩ দশমিক ২৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়।

 

 

এ ছাড়া পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৯ মিটার। বর্তমানে নদীটির পানি ১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বরগুনার বিষখালী-খাকদন নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৯১ মিটার অতিক্রম করে ২ দশমিক ০৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে।

 

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৪০ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৩ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। কঁচা নদীর উমেদপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ১ দশমিক ৬৫ মিটার অতিক্রম করে ১ দশমিক ৭৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয় বলে জানান বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল।

 

এ দিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার জানান, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।