ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটপাতের ইফতারি খাবার দামে কম মানে প্রশ্ন ক্রেতাদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩১ Time View
৩৮৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রমজান মাসের সেরা আয়োজন ইফতার। এটা এখন সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

রাজধানীতে ইফতার বাজারের নাম ওঠলেই কয়েকটি জায়গার নাম নগরবাসীর মানসপটে ভেসে ওঠে। তবে ফুটপাতের ইফতারই একমাত্র ভরসা নগরের স্বল্প আয়ের বা নিম্নশ্রেণির মানুষের। দামে কম হওয়ায় মানুষের ভিড় শুরু হয় বিকাল থেকেই তবে সন্ধ্যার আগেই সব দোকানে খাবার শেষ। ধুলাবালি ও রাস্তার ওপর বসানো বেঞ্চে খাবার পরিবেশন নিয়ে প্রশ্ন করলেও কখনো ক্রেতার কমতি নেই। তবে তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা বললে বিক্রেতারাও কথা গুটিয়ে নেন।

এছাড়াও খোলা আকাশের নিচে প্রতিবারের মতো এবারো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গতকাল চকবাজার ছুটে গিয়েছিলেন পছন্দের ইফতারসামগ্রি কিনতে। পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি নয়াপল্টন, শাহবাগ, ধানমন্ডি, ইস্কাটন, শান্তিনগর কিংবা সূত্রাপুর থেকেও গিয়েছিলেন অনেকে। নয়াপল্টন থেকে আসা ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন জানালেন, প্রতিবছরই তিনি এখানে আসেন। ইফতারসামগ্রির দাম কিছুটা বেশি হলেও স্বাদের কারণে এই বাজার মিস করেন না।

শাহবাগ এলাকা থেকে আসা মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেন, চকবাজারের ইফতারের স্বাদ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তিনি জানালেন, তার পরিবারের ঐতিহ্য, রোজার প্রথম দিনের ইফতারি চকবাজার থেকে আনা। তাই পছন্দের ইফতারসামগ্রি কিনতে এসেছেন।

 

ধানমন্ডি থেকে প্রথমবারের মতো চকবাজারে ইফতারি কিনতে গিয়েছিলেন জুয়েল মাহমুদ। তিনি বলেন, চকবাজার মসজিদের সামনের পুরো গলিটা ঘুরে দেখলাম। একই জিনিস একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি করছে। আমার কাছে দাম বেশি মনে হয়েছে। এক পিস ছোট মুরগির রোস্ট ৪৫০ টাকা দাম চাইল; এটা অনেক বেশি। আমি যেহেতু আজ প্রথমবারের মতো কিনতে এসেছি, ফলে মানের বিষয়টি এখনই বলতে পারছি না। তবে দেখে লোভনীয় মনে হলেও খেতে কেমন হবে, সেটা পরে বলতে পারব।

ঐতিহ্যের কারণে অনেক মানুষ চকবাজারে ভিড় করলেও খোলা জায়গায় খাবার বিক্রি হওয়ায় তা নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও বলেছেন অনেকে। বিকালে সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে। ঢাকার ব্যস্ত সড়কের ধুলা বাতাসে উড়ে এসে খাবারের ওপর পড়ছে। অনেক বিক্রেতা এর মধ্যেই তেল মেখে খাবার চকচকে রাখছেন। বেশির ভাগ আইটেমই ঠা-া হয়ে আছে, তবু ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা নেই।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ইফতারসামগ্রির দামেও। বিশেষ করে, মাংসনির্ভর পদগুলোর দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বছর চকবাজারে সুতি কাবাব প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকায়, যা গত বছর ছিল এক হাজার টাকা। খাসির লেগ রোস্ট এবার এক হাজার ২০০ টাকা, গত বছর ছিল ৮০০ টাকা। তন্দুরি চিকেন প্রতি পিস ৪০০ টাকা, যা গত বছর ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ ছাড়া শাহি ছোলা ৩২০ টাকা, ঘুগনি ১৬০ টাকা, চিকেন আচারি ১৩০ টাকা, কাশ্মীরি বিফ আচারি ১৫০ টাকা। হালিমের বাটি ১০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। প্রায় ৫০ পদের ইফতারির মধ্যে অন্থন ৩০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৪০ টাকা, বঁটি কাবাব ১৩০ টাকা, শাহি জিলাপি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, কোয়েল পাখির রোস্ট ৮০ টাকা, কবুতর রোস্ট ৮০ টাকা, আস্ত মুরগির রোস্ট ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

ফুটপাতের ইফতারি খাবার দামে কম মানে প্রশ্ন ক্রেতাদের

Update Time : ১১:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৩৮৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রমজান মাসের সেরা আয়োজন ইফতার। এটা এখন সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।

রাজধানীতে ইফতার বাজারের নাম ওঠলেই কয়েকটি জায়গার নাম নগরবাসীর মানসপটে ভেসে ওঠে। তবে ফুটপাতের ইফতারই একমাত্র ভরসা নগরের স্বল্প আয়ের বা নিম্নশ্রেণির মানুষের। দামে কম হওয়ায় মানুষের ভিড় শুরু হয় বিকাল থেকেই তবে সন্ধ্যার আগেই সব দোকানে খাবার শেষ। ধুলাবালি ও রাস্তার ওপর বসানো বেঞ্চে খাবার পরিবেশন নিয়ে প্রশ্ন করলেও কখনো ক্রেতার কমতি নেই। তবে তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা বললে বিক্রেতারাও কথা গুটিয়ে নেন।

এছাড়াও খোলা আকাশের নিচে প্রতিবারের মতো এবারো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গতকাল চকবাজার ছুটে গিয়েছিলেন পছন্দের ইফতারসামগ্রি কিনতে। পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি নয়াপল্টন, শাহবাগ, ধানমন্ডি, ইস্কাটন, শান্তিনগর কিংবা সূত্রাপুর থেকেও গিয়েছিলেন অনেকে। নয়াপল্টন থেকে আসা ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন জানালেন, প্রতিবছরই তিনি এখানে আসেন। ইফতারসামগ্রির দাম কিছুটা বেশি হলেও স্বাদের কারণে এই বাজার মিস করেন না।

শাহবাগ এলাকা থেকে আসা মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেন, চকবাজারের ইফতারের স্বাদ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তিনি জানালেন, তার পরিবারের ঐতিহ্য, রোজার প্রথম দিনের ইফতারি চকবাজার থেকে আনা। তাই পছন্দের ইফতারসামগ্রি কিনতে এসেছেন।

 

ধানমন্ডি থেকে প্রথমবারের মতো চকবাজারে ইফতারি কিনতে গিয়েছিলেন জুয়েল মাহমুদ। তিনি বলেন, চকবাজার মসজিদের সামনের পুরো গলিটা ঘুরে দেখলাম। একই জিনিস একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি করছে। আমার কাছে দাম বেশি মনে হয়েছে। এক পিস ছোট মুরগির রোস্ট ৪৫০ টাকা দাম চাইল; এটা অনেক বেশি। আমি যেহেতু আজ প্রথমবারের মতো কিনতে এসেছি, ফলে মানের বিষয়টি এখনই বলতে পারছি না। তবে দেখে লোভনীয় মনে হলেও খেতে কেমন হবে, সেটা পরে বলতে পারব।

ঐতিহ্যের কারণে অনেক মানুষ চকবাজারে ভিড় করলেও খোলা জায়গায় খাবার বিক্রি হওয়ায় তা নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও বলেছেন অনেকে। বিকালে সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে। ঢাকার ব্যস্ত সড়কের ধুলা বাতাসে উড়ে এসে খাবারের ওপর পড়ছে। অনেক বিক্রেতা এর মধ্যেই তেল মেখে খাবার চকচকে রাখছেন। বেশির ভাগ আইটেমই ঠা-া হয়ে আছে, তবু ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা নেই।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ইফতারসামগ্রির দামেও। বিশেষ করে, মাংসনির্ভর পদগুলোর দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বছর চকবাজারে সুতি কাবাব প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকায়, যা গত বছর ছিল এক হাজার টাকা। খাসির লেগ রোস্ট এবার এক হাজার ২০০ টাকা, গত বছর ছিল ৮০০ টাকা। তন্দুরি চিকেন প্রতি পিস ৪০০ টাকা, যা গত বছর ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ ছাড়া শাহি ছোলা ৩২০ টাকা, ঘুগনি ১৬০ টাকা, চিকেন আচারি ১৩০ টাকা, কাশ্মীরি বিফ আচারি ১৫০ টাকা। হালিমের বাটি ১০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। প্রায় ৫০ পদের ইফতারির মধ্যে অন্থন ৩০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৪০ টাকা, বঁটি কাবাব ১৩০ টাকা, শাহি জিলাপি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, কোয়েল পাখির রোস্ট ৮০ টাকা, কবুতর রোস্ট ৮০ টাকা, আস্ত মুরগির রোস্ট ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।