ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের আচরণগত সমস্যা দূর করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ : বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশ সদস্যদের আচরণগত সংকট দূর করে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য কাজে লাগিয়ে অপরাধ দমনে সাংবাদিকদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশালের নবাগত রেঞ্জ ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় বরিশাল পুলিশ লাইনসে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

 

সভায় রেঞ্জ ডিআইজি বলেন, সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মূল কারিগর। তাদের কাছে অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যে বাস্তব তথ্য থাকে, তা পুলিশের কাজকে অনেক সহজ করতে পারে। পুলিশ ও সংবাদকর্মী উভয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব। একা পুলিশের পক্ষে শত চেষ্টা করেও জনসম্পৃক্ততা ছাড়া সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

 

অঞ্চলের সাম্প্রতিক অপরাধচিত্র তুলে ধরে ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, বর্তমানে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এছাড়া বরিশালে মাদক, কিশোর গ্যাং এবং বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ডাকাতির উপদ্রব বেড়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।

 

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ও সেবা প্রদানের ঘাটতি প্রসঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত আলাপকালে তিনি বলেন, পুলিশের অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো আচরণগত সমস্যা ও সহমর্মিতার অভাব। থানায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের সাথে কনস্টেবল বা ডিউটি অফিসারদের মানবিক আচরণ করা উচিত। এ ঘাটতি মেটাতে আইজিপির নির্দেশনায় ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে সদস্যদের আচরণগত রূপান্তরের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নিজেদের ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে অধস্তনদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা করছেন।

 

তিনি আরও যোগ করেন, সামাজিক ও শিক্ষা ব্যবস্থার নানাবিধ ঘাটতি পুলিশের আচরণে প্রতিফলিত হয়। এর টেকসই সমাধানের জন্য হাইস্কুল ও কলেজে কমিউনিটি পুলিশিং বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের আচরণগত উন্নয়ন এবং মাদক থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

 

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব উল্লেখ করে নবাগত এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সাংবাদিকদের জন্য আমাদের দরজা সর্বদাই উন্মুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে আপনারা পুলিশের কাজের যে গঠনমূলক সমালোচনা করে আসছেন, তা অব্যাহত রাখুন। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমেই পুলিশ নিজেদের শুধরে নিয়ে অপরাধ দমনে সফল অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।

 

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির, পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী আল-মামুনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

পুলিশের আচরণগত সমস্যা দূর করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ : বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি

Update Time : ১১:২০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশ সদস্যদের আচরণগত সংকট দূর করে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য কাজে লাগিয়ে অপরাধ দমনে সাংবাদিকদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশালের নবাগত রেঞ্জ ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় বরিশাল পুলিশ লাইনসে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

 

সভায় রেঞ্জ ডিআইজি বলেন, সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মূল কারিগর। তাদের কাছে অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যে বাস্তব তথ্য থাকে, তা পুলিশের কাজকে অনেক সহজ করতে পারে। পুলিশ ও সংবাদকর্মী উভয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব। একা পুলিশের পক্ষে শত চেষ্টা করেও জনসম্পৃক্ততা ছাড়া সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

 

অঞ্চলের সাম্প্রতিক অপরাধচিত্র তুলে ধরে ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, বর্তমানে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এছাড়া বরিশালে মাদক, কিশোর গ্যাং এবং বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ডাকাতির উপদ্রব বেড়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।

 

পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ও সেবা প্রদানের ঘাটতি প্রসঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত আলাপকালে তিনি বলেন, পুলিশের অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো আচরণগত সমস্যা ও সহমর্মিতার অভাব। থানায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের সাথে কনস্টেবল বা ডিউটি অফিসারদের মানবিক আচরণ করা উচিত। এ ঘাটতি মেটাতে আইজিপির নির্দেশনায় ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে সদস্যদের আচরণগত রূপান্তরের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নিজেদের ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে অধস্তনদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা করছেন।

 

তিনি আরও যোগ করেন, সামাজিক ও শিক্ষা ব্যবস্থার নানাবিধ ঘাটতি পুলিশের আচরণে প্রতিফলিত হয়। এর টেকসই সমাধানের জন্য হাইস্কুল ও কলেজে কমিউনিটি পুলিশিং বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের আচরণগত উন্নয়ন এবং মাদক থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

 

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব উল্লেখ করে নবাগত এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সাংবাদিকদের জন্য আমাদের দরজা সর্বদাই উন্মুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে আপনারা পুলিশের কাজের যে গঠনমূলক সমালোচনা করে আসছেন, তা অব্যাহত রাখুন। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমেই পুলিশ নিজেদের শুধরে নিয়ে অপরাধ দমনে সফল অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।

 

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির, পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী আল-মামুনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।