ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেছারাবাদে ৮ হাটের ইজারা বিএনপির এক নেতার দখলে : বিপাকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৮ Time View
৮৩

বিশেষ প্রতিবেদক : সমঝোতার কথা বলে কৌশলে নেছারাবাদের স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৯টি হাট-বাজারের মধ্যে আটটির ইজারা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

 

প্রথম পর্যায়ে রেকর্ডসংখ্যক দরপত্রের শিডিউল বিক্রি হলেও শিডিউল কেনা একাধিক বিএনপির নেতার সমঝোতার কথা বলে কাউকেই দরপত্র জমা দিতে দেননি। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ে তিনি তাঁর অনুগত তিন ব্যক্তির মাধ্যমে মাত্র ২৭টি শিডিউল কিনে নয়টি হাটমহলের মধ্যে আটটিই নিজেদের দখলে নিয়েছেন।

 

এভাবে দরপত্র কিনে জমা দেওয়ার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে প্রথম পর্যায়ে দরপত্র কেনা একাধিক ব্যক্তির মধ্য তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

দরপত্র কেনা স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম ধাপে বিপুলসংখ্যক শিডিউল বিক্রি হলেও শেষ সময়ে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র জমা না পড়ায় সরকার সম্ভাব্য বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

 

শেষ সময়ে হাটমহল ইজারা নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. বাদল, একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে মামুন। সরকারনির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী স্বরূপকাঠি পৌরসভার নয়টি হাট-বাজারের মোট ইজারা মূল্য ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ৮৫৯ টাকা। স্থানীয়দের ধারণা, এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা ওই তিন ব্যক্তির জন্য কঠিন ব্যাপার। কাজী কামাল হোসেন পেছন থেকে ইজারার অর্থ সরবরাহ করে হাট-বাজারের ইজারা হাতিয়েছেন।

 

স্বরূপকাঠি পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি পৌরসভার আওতাধীন নয়টি হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৯ জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে ৯৩টি দরপত্রের শিডিউল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারিত থাকলেও একটি দরপত্রও জমা পড়েনি। পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত শিডিউল বিক্রি এবং ৩ মার্চ দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রথম ধাপে বিপুলসংখ্যক শিডিউল বিক্রি হলেও কেউ দরপত্র জমা না দেওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে কেউ শিডিউল কেনেননি। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে ৯ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত শিডিউল বিক্রি এবং ১৬ মার্চ দরপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। শেষ দিন ওই তিন ব্যক্তি গোপনে মোট ২৭টি শিডিউল কিনে নির্ধারিত সময়ে দরপত্র জমা দেন। এ কারণে ইজারায় কোনো প্রতিযোগিতা হয়নি। তাঁরা সরকারি মূল্যের চেয়ে নামমাত্র কিছু মূল্য বেশি দিয়ে হাট-বাজার ইজারা নিয়েছেন।

 

স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজ সিকদার মোবাইল ফোনে বলেন, ‘দরপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি একটি দাওয়াতে যাচ্ছি, পরে সামনাসামনি কথা বলব।

 

নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রথমে কাউকে দরপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি, পরে কাজী কামাল অনুগত তিনজনের মাধ্যমে কৌশলে হাটমহলগুলো ইজারা নিয়েছেন।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন বলেন, ‘কাউকে শিডিউল কিনতে বা দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। তা ছাড়া আমার নামে কোনো হাট-বাজার ইজারা নেওয়া হয়নি।

 

নেছারাবাদ ইউএনও ও স্বরূপকাঠি পৌর প্রশাসক অমিত দত্ত বলেন, কেউ শিডিউল কিনে জমা না দিলে বা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না করলে প্রশাসনের কিছু করার থাকে না। তবে বিষয়টি নিঃসন্দেহে কৌতূহলোদ্দীপক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

নেছারাবাদে ৮ হাটের ইজারা বিএনপির এক নেতার দখলে : বিপাকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ

Update Time : ০১:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৮৩

বিশেষ প্রতিবেদক : সমঝোতার কথা বলে কৌশলে নেছারাবাদের স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৯টি হাট-বাজারের মধ্যে আটটির ইজারা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

 

প্রথম পর্যায়ে রেকর্ডসংখ্যক দরপত্রের শিডিউল বিক্রি হলেও শিডিউল কেনা একাধিক বিএনপির নেতার সমঝোতার কথা বলে কাউকেই দরপত্র জমা দিতে দেননি। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ে তিনি তাঁর অনুগত তিন ব্যক্তির মাধ্যমে মাত্র ২৭টি শিডিউল কিনে নয়টি হাটমহলের মধ্যে আটটিই নিজেদের দখলে নিয়েছেন।

 

এভাবে দরপত্র কিনে জমা দেওয়ার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে প্রথম পর্যায়ে দরপত্র কেনা একাধিক ব্যক্তির মধ্য তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

দরপত্র কেনা স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম ধাপে বিপুলসংখ্যক শিডিউল বিক্রি হলেও শেষ সময়ে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র জমা না পড়ায় সরকার সম্ভাব্য বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

 

শেষ সময়ে হাটমহল ইজারা নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. বাদল, একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে মামুন। সরকারনির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী স্বরূপকাঠি পৌরসভার নয়টি হাট-বাজারের মোট ইজারা মূল্য ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ৮৫৯ টাকা। স্থানীয়দের ধারণা, এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা ওই তিন ব্যক্তির জন্য কঠিন ব্যাপার। কাজী কামাল হোসেন পেছন থেকে ইজারার অর্থ সরবরাহ করে হাট-বাজারের ইজারা হাতিয়েছেন।

 

স্বরূপকাঠি পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি পৌরসভার আওতাধীন নয়টি হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৯ জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে ৯৩টি দরপত্রের শিডিউল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারিত থাকলেও একটি দরপত্রও জমা পড়েনি। পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত শিডিউল বিক্রি এবং ৩ মার্চ দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রথম ধাপে বিপুলসংখ্যক শিডিউল বিক্রি হলেও কেউ দরপত্র জমা না দেওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে কেউ শিডিউল কেনেননি। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে ৯ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত শিডিউল বিক্রি এবং ১৬ মার্চ দরপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। শেষ দিন ওই তিন ব্যক্তি গোপনে মোট ২৭টি শিডিউল কিনে নির্ধারিত সময়ে দরপত্র জমা দেন। এ কারণে ইজারায় কোনো প্রতিযোগিতা হয়নি। তাঁরা সরকারি মূল্যের চেয়ে নামমাত্র কিছু মূল্য বেশি দিয়ে হাট-বাজার ইজারা নিয়েছেন।

 

স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজ সিকদার মোবাইল ফোনে বলেন, ‘দরপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি একটি দাওয়াতে যাচ্ছি, পরে সামনাসামনি কথা বলব।

 

নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রথমে কাউকে দরপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি, পরে কাজী কামাল অনুগত তিনজনের মাধ্যমে কৌশলে হাটমহলগুলো ইজারা নিয়েছেন।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন বলেন, ‘কাউকে শিডিউল কিনতে বা দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। তা ছাড়া আমার নামে কোনো হাট-বাজার ইজারা নেওয়া হয়নি।

 

নেছারাবাদ ইউএনও ও স্বরূপকাঠি পৌর প্রশাসক অমিত দত্ত বলেন, কেউ শিডিউল কিনে জমা না দিলে বা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না করলে প্রশাসনের কিছু করার থাকে না। তবে বিষয়টি নিঃসন্দেহে কৌতূহলোদ্দীপক।