ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলের ক্রিমিনাল গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তারেক রহমানের ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে : ব্যারিস্টার ফুয়াদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৮ Time View
২৬৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন-আমরা চাই বাংলাদেশটা বদলে যাক। জনাব তারেক রহমানকে আহ্বান করছি, যে ৩১ দফার ওপর ভিত্তি করে আপনি বাংলাদেশ বদলানোর কথা বলেছেন আমরা কাগজে কলমে না, আমরা অ্যাকশনে দেখতে চাই। আপনার দলের গুন্ডা, মাস্তান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদেরকে কীভাবে ডিল করবেন তার ওপর নির্ভর করবে আপনি ক্ষমতায় গভর্নেন্সে সফল হবেন কি হবেন না। আপনার দলের ক্রিমিনাল গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, আপনি নিশ্চিত থাকুন আপনার জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে নির্বাচনে ভোটের হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

 

এসময় তিনি ভোটের মাঠের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটের দিন সিসিউয়েশন এমন হয়েছে, যে বাবুগঞ্জের চর দখল ঠেকাতে গিয়ে মুলাদীতে নজরই দিতে পারিনি। মুলাদীতে অবস্থা এমন হয়েছে যে ব্যালটে সিল টাকানোর কথা আমাদের এজেন্টরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে দুইদিন পরে জানিয়েছে।

 

নিজ চোখে নির্বাচনের বাস্তবতা দেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জাল-জালয়াতি ও চরদখলের নির্বাচন হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনের প্রথম নির্বাচনে। এ নির্বাচনে আমরা দেখেছি গণভোটের সংখ্যা থেকে এমপি হওয়ার ভোটের সংখ্যা অনেক বেশি। অথচ ভোট একসাথে দুটি দিতে হয়েছে, তাহলে গণভোট কম হওয়া এবং সাদা ব্যালট বেশি হওয়া মানে এখানে জালিয়াতি হয়েছে।

 

প্রশাসনের একাংশ এবং যৌথবাহিনী বিশেষ করে সেনাবাহিনীর প্রতি আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ তারা অসাধারণ প্রফেশনাল সার্ভিস দিয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যদি আমরা এককথায় বলতে যাই, তাহলে ভোটের দিন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে প্রশাসনের একটা বড়ো অংশ ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের ভেতর যে আন্তরিক লোক ছিল না, তাও না।

 

তিনি বলেন, ভয়ে ভোট দিতে যায়নি এমন ম্যাসেজও আমাদের কাছে ছিল, অনেকে নিজে ভোট দিয়ে এসে জানিয়েছেন আমি গেছি কিন্তু মা আর বউ ভয়ে যায়নি। আবার ভোট দিতে যাওয়ার রামদা নিয়ে এসে বলে গেছে এরপর গেলে কোপাবে। আমার হাজার হাজার নেতাকর্মী এখন এলাকা ছাড়া, পলাতক।

 

তিনি বলেন, বিএনপির একাংশ নেতাকর্মীরা নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠছে, সেটা জনাব তারেক রহমান আপনাকে হুঁশিয়ার করছি, সতর্ক করছি। আপনি যদি সত্যিই বাংলাদেশ চালাতে চান, নেতৃত্ব দিতে যান তাহলে আপনার দলের ভেতর নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদ যারা হচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন। আর নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে সিভিয়ারলি ফেল করবেন এবং আপনার পতন আওয়ামী লীগের থেকে, হাসিনার থেকেও খারাপ হবে সামনের দিনগুলোতে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভয়ের রাজনীতি মুক্ত একটা জায়গা আমরা তৈরি করতে চাই। যেখানে কেউ কাউকে ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করবে না, আবার ভোট দেয়ার পরে তার বাড়িতে রামদা পাঠানো হবে না।

 

তিনি বলেন, বিএনপির আজ যারা গুন্ডামি মাস্তানি করছে, তারাই গত ১৬ বছর ধানক্ষেতে-পাটক্ষেতে ছিল। নিজেরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরেও, মজলুম থাকার পরেও ১৬ বছর পর আবার জালেম হয়ে একই জুলুম করছে, তারা আসলে ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের কথা ভুলে গেছে। ভোটের পার্সেন্টেজ যাই হোক ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে দেয়ার মতো শক্তি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের আছে এটা তারেক রহমান ও বিএনপিকে মাথায় রাখতে হবে।

 

তিনি বলেন, আমার বাড়িতেই লোক পাঠায়, তাহলে কর্মীদের কি অবস্থা? চর দখলের নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় যাচ্ছেন তারা ২৪ এর কথা ভুলে যাবেন না। আজ আমার চর দখল করে নিয়ে গেছেন কিন্তু তার মানে ৬১ হাজার লোক চুপচাপ বসে থাকবে না। তারা নিজের চোখের সামনে দেখেছে বিজয় কীভাবে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারের মাথায় বন্ধুক ধরা হয়েছে ব্যালট জালিয়াতির সময়, রামদা দেখানো হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ঘটনা ঘটছে কিন্তু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না, কারণ সবাই ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে। একই জুলুম হচ্ছে কিন্তু এই বাংলাদেশের তো কোন প্রয়োজন ছিল না। ডিসেম্বর থেকে দেখছি প্রশাসন প্রচ্ছন্নভাবে বিএনপির প্রতি বায়েষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের কে কোন রোল প্লে করেছেন এর হিস্যা একদিন জনগণকে দিতে হবে, কারণ কোন জুলুম আন অ্যাটেন্ডেন্ট যাবে না। যে প্রশাসন একটা নির্বাচনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা কীভাবে গ্রামে গ্রামে নাগরিকদের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

দলের ক্রিমিনাল গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তারেক রহমানের ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে : ব্যারিস্টার ফুয়াদ

Update Time : ১২:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
২৬৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন-আমরা চাই বাংলাদেশটা বদলে যাক। জনাব তারেক রহমানকে আহ্বান করছি, যে ৩১ দফার ওপর ভিত্তি করে আপনি বাংলাদেশ বদলানোর কথা বলেছেন আমরা কাগজে কলমে না, আমরা অ্যাকশনে দেখতে চাই। আপনার দলের গুন্ডা, মাস্তান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদেরকে কীভাবে ডিল করবেন তার ওপর নির্ভর করবে আপনি ক্ষমতায় গভর্নেন্সে সফল হবেন কি হবেন না। আপনার দলের ক্রিমিনাল গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, আপনি নিশ্চিত থাকুন আপনার জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে নির্বাচনে ভোটের হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

 

এসময় তিনি ভোটের মাঠের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটের দিন সিসিউয়েশন এমন হয়েছে, যে বাবুগঞ্জের চর দখল ঠেকাতে গিয়ে মুলাদীতে নজরই দিতে পারিনি। মুলাদীতে অবস্থা এমন হয়েছে যে ব্যালটে সিল টাকানোর কথা আমাদের এজেন্টরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে দুইদিন পরে জানিয়েছে।

 

নিজ চোখে নির্বাচনের বাস্তবতা দেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জাল-জালয়াতি ও চরদখলের নির্বাচন হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনের প্রথম নির্বাচনে। এ নির্বাচনে আমরা দেখেছি গণভোটের সংখ্যা থেকে এমপি হওয়ার ভোটের সংখ্যা অনেক বেশি। অথচ ভোট একসাথে দুটি দিতে হয়েছে, তাহলে গণভোট কম হওয়া এবং সাদা ব্যালট বেশি হওয়া মানে এখানে জালিয়াতি হয়েছে।

 

প্রশাসনের একাংশ এবং যৌথবাহিনী বিশেষ করে সেনাবাহিনীর প্রতি আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ তারা অসাধারণ প্রফেশনাল সার্ভিস দিয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যদি আমরা এককথায় বলতে যাই, তাহলে ভোটের দিন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে প্রশাসনের একটা বড়ো অংশ ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের ভেতর যে আন্তরিক লোক ছিল না, তাও না।

 

তিনি বলেন, ভয়ে ভোট দিতে যায়নি এমন ম্যাসেজও আমাদের কাছে ছিল, অনেকে নিজে ভোট দিয়ে এসে জানিয়েছেন আমি গেছি কিন্তু মা আর বউ ভয়ে যায়নি। আবার ভোট দিতে যাওয়ার রামদা নিয়ে এসে বলে গেছে এরপর গেলে কোপাবে। আমার হাজার হাজার নেতাকর্মী এখন এলাকা ছাড়া, পলাতক।

 

তিনি বলেন, বিএনপির একাংশ নেতাকর্মীরা নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠছে, সেটা জনাব তারেক রহমান আপনাকে হুঁশিয়ার করছি, সতর্ক করছি। আপনি যদি সত্যিই বাংলাদেশ চালাতে চান, নেতৃত্ব দিতে যান তাহলে আপনার দলের ভেতর নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদ যারা হচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন। আর নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে সিভিয়ারলি ফেল করবেন এবং আপনার পতন আওয়ামী লীগের থেকে, হাসিনার থেকেও খারাপ হবে সামনের দিনগুলোতে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভয়ের রাজনীতি মুক্ত একটা জায়গা আমরা তৈরি করতে চাই। যেখানে কেউ কাউকে ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করবে না, আবার ভোট দেয়ার পরে তার বাড়িতে রামদা পাঠানো হবে না।

 

তিনি বলেন, বিএনপির আজ যারা গুন্ডামি মাস্তানি করছে, তারাই গত ১৬ বছর ধানক্ষেতে-পাটক্ষেতে ছিল। নিজেরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরেও, মজলুম থাকার পরেও ১৬ বছর পর আবার জালেম হয়ে একই জুলুম করছে, তারা আসলে ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের কথা ভুলে গেছে। ভোটের পার্সেন্টেজ যাই হোক ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে দেয়ার মতো শক্তি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের আছে এটা তারেক রহমান ও বিএনপিকে মাথায় রাখতে হবে।

 

তিনি বলেন, আমার বাড়িতেই লোক পাঠায়, তাহলে কর্মীদের কি অবস্থা? চর দখলের নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় যাচ্ছেন তারা ২৪ এর কথা ভুলে যাবেন না। আজ আমার চর দখল করে নিয়ে গেছেন কিন্তু তার মানে ৬১ হাজার লোক চুপচাপ বসে থাকবে না। তারা নিজের চোখের সামনে দেখেছে বিজয় কীভাবে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারের মাথায় বন্ধুক ধরা হয়েছে ব্যালট জালিয়াতির সময়, রামদা দেখানো হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ঘটনা ঘটছে কিন্তু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না, কারণ সবাই ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে। একই জুলুম হচ্ছে কিন্তু এই বাংলাদেশের তো কোন প্রয়োজন ছিল না। ডিসেম্বর থেকে দেখছি প্রশাসন প্রচ্ছন্নভাবে বিএনপির প্রতি বায়েষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের কে কোন রোল প্লে করেছেন এর হিস্যা একদিন জনগণকে দিতে হবে, কারণ কোন জুলুম আন অ্যাটেন্ডেন্ট যাবে না। যে প্রশাসন একটা নির্বাচনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা কীভাবে গ্রামে গ্রামে নাগরিকদের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে।