ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালতলীতে প্রতারণার অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে বাবার মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৫ Time View
৬৭

বরগুনার তালতলীতে প্রতারণার মাধ্যমে বাবার কাছ থেকে প্রায় ২একর জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে আ. নাজমুল ইসলাম (রহিম) হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক হাওলাদার (৯০) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

মামলায় ও সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত ছেলে রহিম তার বাবাকে তালতলী বন্দরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে ব্যবসার জন্য ব্যাংক ঋণ নেওয়ার কথা বলে বাবার কাছ থেকে জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

পরে তাকে আমতলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে বিভিন্ন দলিলে স্বাক্ষর করানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব দলিল হেবা ঘোষণাপত্র (দানপত্র) হিসেবে ব্যবহার করে তার মালিকানাধীন প্রায় ২ একর জমি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী নিজ জমিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নিলে অভিযুক্ত ছেলে বাঁধা দেন এবং জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রিকৃত বলে দাবি করেন। এ সময় দলিলপত্র যাচাইয়ে প্রতারণার বিষয়টি প্রমানিত হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, ছেলের কথায় বিশ্বাস করে তিনি দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন তার জমি দানপত্রের মাধ্যমে ছেলের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর অন্যান্য সন্তানরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের অজান্তে বাবার সম্পত্তি কৌশলে নিজেদের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। এতে তারা সবাই বঞ্চিত হয়েছেন। তারা এর সুষ্ঠু বিচার চান এবং বাবার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আ. নাজমুল ইসলাম (রহিম) হাওলাদার বলেন, তিনি জোরপূর্বক কোনো জমি নেননি। বাবা স্বেচ্ছায় জমি লিখে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার সব খরচ তিনি একাই বহন করেছেন। সেই বিবেচনায় বাবা তাকে ২একর জমি দিয়েছেন। তবে বাবা জমি ফেরত চাইলে তিনি তা ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত বলে জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুক থেকে আয় করতে চান, জেনে নিন কীভাবে

তালতলীতে প্রতারণার অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে বাবার মামলা

Update Time : ১২:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
৬৭

বরগুনার তালতলীতে প্রতারণার মাধ্যমে বাবার কাছ থেকে প্রায় ২একর জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে আ. নাজমুল ইসলাম (রহিম) হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক হাওলাদার (৯০) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

মামলায় ও সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত ছেলে রহিম তার বাবাকে তালতলী বন্দরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে ব্যবসার জন্য ব্যাংক ঋণ নেওয়ার কথা বলে বাবার কাছ থেকে জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

পরে তাকে আমতলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে বিভিন্ন দলিলে স্বাক্ষর করানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব দলিল হেবা ঘোষণাপত্র (দানপত্র) হিসেবে ব্যবহার করে তার মালিকানাধীন প্রায় ২ একর জমি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী নিজ জমিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নিলে অভিযুক্ত ছেলে বাঁধা দেন এবং জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রিকৃত বলে দাবি করেন। এ সময় দলিলপত্র যাচাইয়ে প্রতারণার বিষয়টি প্রমানিত হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, ছেলের কথায় বিশ্বাস করে তিনি দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন তার জমি দানপত্রের মাধ্যমে ছেলের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর অন্যান্য সন্তানরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের অজান্তে বাবার সম্পত্তি কৌশলে নিজেদের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। এতে তারা সবাই বঞ্চিত হয়েছেন। তারা এর সুষ্ঠু বিচার চান এবং বাবার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আ. নাজমুল ইসলাম (রহিম) হাওলাদার বলেন, তিনি জোরপূর্বক কোনো জমি নেননি। বাবা স্বেচ্ছায় জমি লিখে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার সব খরচ তিনি একাই বহন করেছেন। সেই বিবেচনায় বাবা তাকে ২একর জমি দিয়েছেন। তবে বাবা জমি ফেরত চাইলে তিনি তা ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত বলে জানান।