ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯২ Time View
১৮৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা।

আজ সোমবার সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির একটি তালিকাও তুলে ধরেন। এগুলো হলো—এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস. আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, কর্ণফুলী ফুডস (প্রাইভেট) লিমিটেড, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রাইভেট) লিমিটেড।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

তিনি উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।

খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে—এ বিষয়ে তিনি জানান, যেসব ব্যাংকে ১০ শতাংশের বেশি শ্রেণীকৃত ঋণ রয়েছে, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাসে বৈঠক করে খেলাপি ঋণ আদায়ের সমস্যা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সমাধানের জন্য কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি বা শ্রেণীকৃত ঋণ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া, যেসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার বেশি, সেগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্যাংকিং কোম্পানি (সংশোধন) আইনের আলোকে একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

Update Time : ১১:৫৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
১৮৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা।

আজ সোমবার সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির একটি তালিকাও তুলে ধরেন। এগুলো হলো—এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস. আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, কর্ণফুলী ফুডস (প্রাইভেট) লিমিটেড, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রাইভেট) লিমিটেড।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

তিনি উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।

খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে—এ বিষয়ে তিনি জানান, যেসব ব্যাংকে ১০ শতাংশের বেশি শ্রেণীকৃত ঋণ রয়েছে, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাসে বৈঠক করে খেলাপি ঋণ আদায়ের সমস্যা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সমাধানের জন্য কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি বা শ্রেণীকৃত ঋণ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া, যেসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার বেশি, সেগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্যাংকিং কোম্পানি (সংশোধন) আইনের আলোকে একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।