ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় প্রধান নদীগুলোয় দখল দূষণ ভরাট চলছে, রক্ষার দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ৪৬ Time View
৮৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিবসে সারা দেশের মতো কলাপাড়ায় পরিবেশ সংগঠকদের সমন্বয়ে কলাপাড়ায় ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করছে। আন্ধারমানিক নদী রক্ষায় করনীয় এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে নদী রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আন্ধারমানিক নদী তীরে শিশু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। মূলত পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় নদী রক্ষার বিকল্প নেই। কলাপাড়ায় ইলিশের অভয়াশ্রম আন্ধারমানিক ছাড়াও সোনাতলা, খাপড়াভাঙ্গা, আরপাঙ্গাশিয়া ও টিয়াখালী নদী এখন ভরাট দখল দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এসব নদীর তীর দখল করে তোলা হয়েছে ইটভাটি। তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা, ফেলা হচ্ছে সকল ধরনের বর্জ্য। পরিবেশ সচেতন মানুষ এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আন্ধারমানিক নদীঃ- বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা এ নদীটি ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। সাগর থেকে উঠে আসা এই নদী শেষ হয়েছে রাবনাবাদ নদীতে মিশে। একের পর এক সেতু নির্মাণসহ দখল-দূষণে এক সময়ের খরস্রোতা এ নদীতে পলির আস্তরণে দুই পাড় ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে নদীর পাড়ের কলাপাড়া পৌর শহর অংশে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা তোলা হয়েছে। দুই তীরে তোলা হয়েছে দশ এর অধিক ইটভাঁটি। শহরের সকল ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এই নদীতে। ইলিশের অভয়াশ্রম এই নদীটি রক্ষায় এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

সোনাতলা নদীঃ- আন্ধারমানিক নদীর হাজিপুর থেকে শুরু হয়ে আবার কলাপাড়ায় মিঠাগঞ্জে গিয়ে শেষ হয়েছে এই নদীটি। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর দুই পাড়ে তিনটি ইটভাঁিট রয়েছে। নদী তীরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এ নদীর পাড়ের মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাঁটির মালিকরা। নদীটি পুরান মহিপুর অংশে তীরসহ চরভূমি দখল করে কাঁকড়া ও মাছের ঘের করা হয়েছে। ভূমি অফিস প্লাবনভূমিকে চাষযোগ্য কৃষি জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেয়ায় এমন সমস্যা হয়েছে। করা হয়েছে পাকাপোক্ত নদী দখলদারিত্বের দৌরাত্ম্য।

খাপড়াভাঙ্গা নদীঃ- ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীটি উৎসস্থল আন্ধারমানিক নদী থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে রাবনাবাদের আশাখালীতে। এ নদীকে স্থানীয়রা আবার শিববাড়িয়া নদীও বলে থাকেন। নদীটি জেলেদের পোতাশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেরা দূর্যোগকালীন এই নদীতে আশ্রয় নেয়। এই নদীর মহিপুর-আলীপুর এবং চাপলী, লক্ষ্ণীর বাজার, আশাখালীতে দখল করে তীরে তোলা হয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। নদী তীরে করাতকল, ইটভাঁটি রয়েছে। নদীতে প্রচুর প্লাস্টিক-পলিথিন ও কর্কসিটের বর্জ্য ফেলা হয়। নদী তীরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির হাজার হাজার গাছপালা কেটে উজাড় করা হয়েছে। হাজারো জেলের দাবি এই নদীটি ভরাট রোধে পুনর্খনন করা হোক।

আরপাঙ্গাশিয়া নদীঃ- আন্ধারমানিক নদীর নাচনাপাড়া বঙ্গবন্ধু কলোনীর পাশ দিয়ে শুরু হয়ে এই নদীটি মিশেছে আমতলীর পায়রা নদীতে। তবে এখন আমতলীর অধিকাংশ এলাকা ভরাট হয়ে গেছে। ভরাট হওয়া চর স্থানীয় ভূমি অফিস চাষযোগ্য কৃষি জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দিয়েছে। ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীতে এখন বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি তীর দখল চলছে সমানতালে। কলাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় পাকা বহুতল একাধিক ভবনসহ টিনশেড অসংখ্য স্থাপনা তোলা হয়েছে নদীর তীরজুড়ে। নদীটির তীর দখল করে একাধিক ইটভাঁটি করা হয়েছে।

এভাবে টিয়াখালী নদীর দুই তীর দখল চলছে। মধুখালী, কাটাভারানিসহ, ঢোস, বানাতিবাজার শাখা নদীতে বাজার কেন্দ্রীক দখল দৌরাত্ম্য চলছে সমানতালে। এসব রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। পরিবশে কর্মীরা এসব নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সকল নদীর সীমানা চিহ্নিতের পাশাপাশি পরিবেশ বিনাশী কর্মকান্ড বন্ধের দাবি করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

কলাপাড়ায় প্রধান নদীগুলোয় দখল দূষণ ভরাট চলছে, রক্ষার দাবি

Update Time : ১২:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
৮৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিবসে সারা দেশের মতো কলাপাড়ায় পরিবেশ সংগঠকদের সমন্বয়ে কলাপাড়ায় ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করছে। আন্ধারমানিক নদী রক্ষায় করনীয় এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে নদী রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আন্ধারমানিক নদী তীরে শিশু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। মূলত পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় নদী রক্ষার বিকল্প নেই। কলাপাড়ায় ইলিশের অভয়াশ্রম আন্ধারমানিক ছাড়াও সোনাতলা, খাপড়াভাঙ্গা, আরপাঙ্গাশিয়া ও টিয়াখালী নদী এখন ভরাট দখল দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এসব নদীর তীর দখল করে তোলা হয়েছে ইটভাটি। তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা, ফেলা হচ্ছে সকল ধরনের বর্জ্য। পরিবেশ সচেতন মানুষ এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আন্ধারমানিক নদীঃ- বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা এ নদীটি ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। সাগর থেকে উঠে আসা এই নদী শেষ হয়েছে রাবনাবাদ নদীতে মিশে। একের পর এক সেতু নির্মাণসহ দখল-দূষণে এক সময়ের খরস্রোতা এ নদীতে পলির আস্তরণে দুই পাড় ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে নদীর পাড়ের কলাপাড়া পৌর শহর অংশে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা তোলা হয়েছে। দুই তীরে তোলা হয়েছে দশ এর অধিক ইটভাঁটি। শহরের সকল ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এই নদীতে। ইলিশের অভয়াশ্রম এই নদীটি রক্ষায় এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

সোনাতলা নদীঃ- আন্ধারমানিক নদীর হাজিপুর থেকে শুরু হয়ে আবার কলাপাড়ায় মিঠাগঞ্জে গিয়ে শেষ হয়েছে এই নদীটি। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর দুই পাড়ে তিনটি ইটভাঁিট রয়েছে। নদী তীরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এ নদীর পাড়ের মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাঁটির মালিকরা। নদীটি পুরান মহিপুর অংশে তীরসহ চরভূমি দখল করে কাঁকড়া ও মাছের ঘের করা হয়েছে। ভূমি অফিস প্লাবনভূমিকে চাষযোগ্য কৃষি জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেয়ায় এমন সমস্যা হয়েছে। করা হয়েছে পাকাপোক্ত নদী দখলদারিত্বের দৌরাত্ম্য।

খাপড়াভাঙ্গা নদীঃ- ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীটি উৎসস্থল আন্ধারমানিক নদী থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে রাবনাবাদের আশাখালীতে। এ নদীকে স্থানীয়রা আবার শিববাড়িয়া নদীও বলে থাকেন। নদীটি জেলেদের পোতাশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেরা দূর্যোগকালীন এই নদীতে আশ্রয় নেয়। এই নদীর মহিপুর-আলীপুর এবং চাপলী, লক্ষ্ণীর বাজার, আশাখালীতে দখল করে তীরে তোলা হয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। নদী তীরে করাতকল, ইটভাঁটি রয়েছে। নদীতে প্রচুর প্লাস্টিক-পলিথিন ও কর্কসিটের বর্জ্য ফেলা হয়। নদী তীরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির হাজার হাজার গাছপালা কেটে উজাড় করা হয়েছে। হাজারো জেলের দাবি এই নদীটি ভরাট রোধে পুনর্খনন করা হোক।

আরপাঙ্গাশিয়া নদীঃ- আন্ধারমানিক নদীর নাচনাপাড়া বঙ্গবন্ধু কলোনীর পাশ দিয়ে শুরু হয়ে এই নদীটি মিশেছে আমতলীর পায়রা নদীতে। তবে এখন আমতলীর অধিকাংশ এলাকা ভরাট হয়ে গেছে। ভরাট হওয়া চর স্থানীয় ভূমি অফিস চাষযোগ্য কৃষি জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দিয়েছে। ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীতে এখন বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি তীর দখল চলছে সমানতালে। কলাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় পাকা বহুতল একাধিক ভবনসহ টিনশেড অসংখ্য স্থাপনা তোলা হয়েছে নদীর তীরজুড়ে। নদীটির তীর দখল করে একাধিক ইটভাঁটি করা হয়েছে।

এভাবে টিয়াখালী নদীর দুই তীর দখল চলছে। মধুখালী, কাটাভারানিসহ, ঢোস, বানাতিবাজার শাখা নদীতে বাজার কেন্দ্রীক দখল দৌরাত্ম্য চলছে সমানতালে। এসব রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। পরিবশে কর্মীরা এসব নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সকল নদীর সীমানা চিহ্নিতের পাশাপাশি পরিবেশ বিনাশী কর্মকান্ড বন্ধের দাবি করেছেন।