ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মাসে ৯ লাখ টাকা লুট: বাবুগঞ্জে চুরির হিড়িক, নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৮ Time View
৯৪
বাবুগঞ্জ(বরিশাল)  প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া নতুন হাট এলাকায় এক মাসের ব্যবধানে ফের তিনটি দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিক এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) গভীর রাতে সর্বশেষ চুরির ঘটনাটি ঘটে। এ সময় চোরচক্র কসমেটিকস ও বিকাশের দোকানের ভেন্টিলেটর কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দোকানের ভেতরে থাকা মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ নিয়ে যায় তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ‘বন্ধু মহল কসমেটিকস অ্যান্ড বিকাশ’-এর স্বত্বাধিকারী আরিফ তামিদার জানান, প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাসায় যান তিনি। সকালে দোকানে এসে দেখেন শাটার খোলা এবং ভেতরে সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। তার দাবি, ক্যাশ বাক্স থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা চুরি হয়েছে।
একই বাজারের ‘রতন স্বর্ণকার’-এর মালিক রতন হালদার জানান, গত সপ্তাহে তার দোকান থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। এছাড়া ‘সঞ্জয় স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী শ্যামল চৌকিদার জানান, তার দোকান থেকে নগদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ও প্রায় ১ লাখ টাকার সিগারেট লুট হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গত এক মাসে একই বাজারে একই কায়দায় একাধিক দোকানে চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ বা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
রাকুদিয়া নতুন হাট কমিটির সভাপতি মিলন খান বলেন, দুর্ধর্ষ এসব চুরির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—বাজার এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার ছিল কি না, কিংবা আগের ঘটনাগুলোর পর যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না।
তাদের অভিযোগ, একাধিক ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের শনাক্ত ও আটক করতে না পারায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এহতেশামুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে একের পর এক একই ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

এক মাসে ৯ লাখ টাকা লুট: বাবুগঞ্জে চুরির হিড়িক, নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ

Update Time : ১২:৪২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
৯৪
বাবুগঞ্জ(বরিশাল)  প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া নতুন হাট এলাকায় এক মাসের ব্যবধানে ফের তিনটি দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিক এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) গভীর রাতে সর্বশেষ চুরির ঘটনাটি ঘটে। এ সময় চোরচক্র কসমেটিকস ও বিকাশের দোকানের ভেন্টিলেটর কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দোকানের ভেতরে থাকা মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ নিয়ে যায় তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ‘বন্ধু মহল কসমেটিকস অ্যান্ড বিকাশ’-এর স্বত্বাধিকারী আরিফ তামিদার জানান, প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাসায় যান তিনি। সকালে দোকানে এসে দেখেন শাটার খোলা এবং ভেতরে সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। তার দাবি, ক্যাশ বাক্স থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা চুরি হয়েছে।
একই বাজারের ‘রতন স্বর্ণকার’-এর মালিক রতন হালদার জানান, গত সপ্তাহে তার দোকান থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। এছাড়া ‘সঞ্জয় স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী শ্যামল চৌকিদার জানান, তার দোকান থেকে নগদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ও প্রায় ১ লাখ টাকার সিগারেট লুট হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গত এক মাসে একই বাজারে একই কায়দায় একাধিক দোকানে চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ বা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
রাকুদিয়া নতুন হাট কমিটির সভাপতি মিলন খান বলেন, দুর্ধর্ষ এসব চুরির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—বাজার এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার ছিল কি না, কিংবা আগের ঘটনাগুলোর পর যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না।
তাদের অভিযোগ, একাধিক ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের শনাক্ত ও আটক করতে না পারায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এহতেশামুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে একের পর এক একই ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।