ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা : সরকারি বরাদ্দ নিয়ে বরিশালের জেলরা হতাশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪২ Time View
৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : জলদস্যুদের উৎপাত ও তেল সংকটে চরম ভোগান্তিতে দিন কেটেছে জেলেদের।

 

বছরজুড়ে ব্যাপক আতংক ও নানা সংকট নিয়ে সাগরে গিয়েও জেলেদের জালে মেলেনি কাংখিত মাছ। তার উপর আজ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে মাছ ধরার উপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ যেন মরার উপর খড়ার ঘাঁ।

প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠ প্রজননের জন্য ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সব ধরনের মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রচার অভিযানসহ সভা সমাবেশ শুরু করেছে মৎস্য বিভাগ। তবে এ মৌসুমের শুরু থেকেই সাগরে বাড়ে জলদস্যুদের উৎপাত। গত দুই মাস ধরে দেখা দিয়েছে জ্বালানী তেলের তীব্র সংকট। এসব কারনে বেশির ভাগ জেলেই যেতে পারেনি সমুদ্রে। তবে বাড়তি দামে তেল ক্রয়ের মাধ্যমে চরম উৎকন্ঠা নিয়ে কিছু সংখ্যক জেলে সাগরে গেলেও তাদের জালে মেলেনি কাংখিত মাছ। তাই নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে প্রনোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বন্টন, গভীর সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর টহল বাড়ানো এবং তেল সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৎস্য বন্দর আলীপুরে অবস্হানরত রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের জেলে দুলাল মাঝি বলেন, এ মৌসুমের শুরু থেকেই সাগরে জলদস্যুদের ব্যাপক উৎপাত বাড়ে। পাথরঘাটা, ভোলা ও চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন জেলেকে জলদস্যুরা ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে তারা আবার মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছে। ব্যাপক আতংক থাকা সত্ত্বেও আমরা সাগরে গিয়ে মাছ শিকার করেছি। কিন্তু আমাদের জালে আশানুরূপ মাছের দেখা মেলেনি। আমরা সাগরে প্রশাসনের টহল বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

মৎস্য বন্দর মহিপুরে অবস্থানরত পাথরঘাটা এলাকার জেলে মো. শহীদ বলেন, অন্তত দেড় মাস হয়েছে মহিপুরের খাপরাভাঙ্গা নদীতে আমাদের ট্রলার নোঙ্গর করা রয়েছে। ডিজেল না পাওয়ার কারণে আমরা সাগরে যেতে পারছি না। এখন আর সাগরে যাওয়ার সময়ও নেই। মঙ্গলবার মধ্যরাত ১৫ এপ্রিল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। কিভাবে পরিবার চালাবো সেটা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় রয়েছি। শুনেছি এবছর সরকার ৭৭ কেজি করে চাল দিবে। এ চাল দিয়ে ৫ সদস্যের পরিবার কোনভাবেই চালানো সম্ভব নয়।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি,ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফজলু গাজী বলেন, সাগরে নেই মাছ,তারপর আবার তেলের সংকটে আমরা এই মাছের ব্যবসার সাথে যারাযারা জড়িত তার হতাশায় দিন কাটাচ্ছি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,আজ ১৫ এপ্রিল থেকে সমুদ্রে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু। মৎস্যজিবীরা এই নিষেধাজ্ঞা ঠিকভাবে মানলে জেলেদের জালে পর্যাপ্ত মাছ পর্বে বলে দাবি করেন।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে আমরা ইতোমধ্যে প্রচারাভিযান ও সভা সমাবেশ শুরু করেছি। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সমুদ্রে প্রশাসনের ব্যাপক নজদারির পাশাপাশি অসাধু জেলেদের জেল জরিমানার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে এই দুই মাসে জেলার নিবন্ধিত (সমুদ্রে মাছ শিকারী) ৪৭ হাজার জেলের প্রত্যেককে ৭৭.৩ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে। প্রনোদনা বাড়ানোর বিষয়ে জেলে সংগঠন থেকে লিখিত আবেদন জানালে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা : সরকারি বরাদ্দ নিয়ে বরিশালের জেলরা হতাশ

Update Time : ১২:২২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : জলদস্যুদের উৎপাত ও তেল সংকটে চরম ভোগান্তিতে দিন কেটেছে জেলেদের।

 

বছরজুড়ে ব্যাপক আতংক ও নানা সংকট নিয়ে সাগরে গিয়েও জেলেদের জালে মেলেনি কাংখিত মাছ। তার উপর আজ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে মাছ ধরার উপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ যেন মরার উপর খড়ার ঘাঁ।

প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠ প্রজননের জন্য ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সব ধরনের মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রচার অভিযানসহ সভা সমাবেশ শুরু করেছে মৎস্য বিভাগ। তবে এ মৌসুমের শুরু থেকেই সাগরে বাড়ে জলদস্যুদের উৎপাত। গত দুই মাস ধরে দেখা দিয়েছে জ্বালানী তেলের তীব্র সংকট। এসব কারনে বেশির ভাগ জেলেই যেতে পারেনি সমুদ্রে। তবে বাড়তি দামে তেল ক্রয়ের মাধ্যমে চরম উৎকন্ঠা নিয়ে কিছু সংখ্যক জেলে সাগরে গেলেও তাদের জালে মেলেনি কাংখিত মাছ। তাই নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে প্রনোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বন্টন, গভীর সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর টহল বাড়ানো এবং তেল সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৎস্য বন্দর আলীপুরে অবস্হানরত রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের জেলে দুলাল মাঝি বলেন, এ মৌসুমের শুরু থেকেই সাগরে জলদস্যুদের ব্যাপক উৎপাত বাড়ে। পাথরঘাটা, ভোলা ও চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন জেলেকে জলদস্যুরা ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে তারা আবার মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছে। ব্যাপক আতংক থাকা সত্ত্বেও আমরা সাগরে গিয়ে মাছ শিকার করেছি। কিন্তু আমাদের জালে আশানুরূপ মাছের দেখা মেলেনি। আমরা সাগরে প্রশাসনের টহল বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

মৎস্য বন্দর মহিপুরে অবস্থানরত পাথরঘাটা এলাকার জেলে মো. শহীদ বলেন, অন্তত দেড় মাস হয়েছে মহিপুরের খাপরাভাঙ্গা নদীতে আমাদের ট্রলার নোঙ্গর করা রয়েছে। ডিজেল না পাওয়ার কারণে আমরা সাগরে যেতে পারছি না। এখন আর সাগরে যাওয়ার সময়ও নেই। মঙ্গলবার মধ্যরাত ১৫ এপ্রিল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। কিভাবে পরিবার চালাবো সেটা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় রয়েছি। শুনেছি এবছর সরকার ৭৭ কেজি করে চাল দিবে। এ চাল দিয়ে ৫ সদস্যের পরিবার কোনভাবেই চালানো সম্ভব নয়।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি,ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফজলু গাজী বলেন, সাগরে নেই মাছ,তারপর আবার তেলের সংকটে আমরা এই মাছের ব্যবসার সাথে যারাযারা জড়িত তার হতাশায় দিন কাটাচ্ছি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,আজ ১৫ এপ্রিল থেকে সমুদ্রে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু। মৎস্যজিবীরা এই নিষেধাজ্ঞা ঠিকভাবে মানলে জেলেদের জালে পর্যাপ্ত মাছ পর্বে বলে দাবি করেন।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে আমরা ইতোমধ্যে প্রচারাভিযান ও সভা সমাবেশ শুরু করেছি। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সমুদ্রে প্রশাসনের ব্যাপক নজদারির পাশাপাশি অসাধু জেলেদের জেল জরিমানার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে এই দুই মাসে জেলার নিবন্ধিত (সমুদ্রে মাছ শিকারী) ৪৭ হাজার জেলের প্রত্যেককে ৭৭.৩ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে। প্রনোদনা বাড়ানোর বিষয়ে জেলে সংগঠন থেকে লিখিত আবেদন জানালে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।