ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জ-বেতাগী : ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় শুধুই কাদা-গর্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৬৫ Time View
২০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের কানকি ব্রিজ থেকে চেয়ারম্যান হাট হয়ে পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব গর্ত পানিতে ভরে পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচল প্রায় অচল হয়ে গেছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন কালিগঞ্জ হাট, কাঁঠালতলীর হাট, বিসমিল্লাহর বাজার, কানকিরহাট, গাজীর হাট, নূরনগর বাজার, নান্টু বাজার, এমপির হাট ও চেয়ারম্যান হাট এলাকার বাসিন্দারা চলাচল করেন। পাশাপাশি ছোট রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ-পশ্চিম রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমএ মালেক ডিগ্রি কলেজ এবং পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলার আকতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে সড়কটিতে কার্যত কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে পুরো রাস্তা কাদামাটির সাগরে পরিণত হয়। অনেক স্থানে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছর সড়কের কিছু অংশে নতুন করে মাটি ফেলে সংস্কার করা হলেও তা টেকেনি। বর্তমানে অধিকাংশ অংশই কাঁচা মাটির রাস্তা হয়ে পড়ায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

 

ছোট রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বারেক হাওলাদার বলেন, গ্রামবাসী মিলে কয়েকবার মাটি ফেলে রাস্তাটি সংস্কার করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আবার বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙেও পড়েছে। এখন চলাচল করা খুবই কষ্টকর।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে কাদা মাড়িয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে হাঁটতে হয়। অনেক সময় সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

 

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়ায় যানবাহন পাওয়া যায় না, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

 

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোনো যানবাহন সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এতে চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হচ্ছে এবং বাড়ছে ঝুঁকি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই হাঁটুসমান কাদা জমে পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

 

পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান (বাবু) বলেন, সড়কটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হাসনাই আহমেদ জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বাকেরগঞ্জ-বেতাগী : ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় শুধুই কাদা-গর্ত

Update Time : ০২:১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের কানকি ব্রিজ থেকে চেয়ারম্যান হাট হয়ে পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব গর্ত পানিতে ভরে পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচল প্রায় অচল হয়ে গেছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন কালিগঞ্জ হাট, কাঁঠালতলীর হাট, বিসমিল্লাহর বাজার, কানকিরহাট, গাজীর হাট, নূরনগর বাজার, নান্টু বাজার, এমপির হাট ও চেয়ারম্যান হাট এলাকার বাসিন্দারা চলাচল করেন। পাশাপাশি ছোট রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ-পশ্চিম রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমএ মালেক ডিগ্রি কলেজ এবং পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলার আকতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে সড়কটিতে কার্যত কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে পুরো রাস্তা কাদামাটির সাগরে পরিণত হয়। অনেক স্থানে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছর সড়কের কিছু অংশে নতুন করে মাটি ফেলে সংস্কার করা হলেও তা টেকেনি। বর্তমানে অধিকাংশ অংশই কাঁচা মাটির রাস্তা হয়ে পড়ায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

 

ছোট রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বারেক হাওলাদার বলেন, গ্রামবাসী মিলে কয়েকবার মাটি ফেলে রাস্তাটি সংস্কার করেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আবার বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙেও পড়েছে। এখন চলাচল করা খুবই কষ্টকর।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে কাদা মাড়িয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে হাঁটতে হয়। অনেক সময় সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

 

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়ায় যানবাহন পাওয়া যায় না, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

 

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোনো যানবাহন সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এতে চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হচ্ছে এবং বাড়ছে ঝুঁকি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই হাঁটুসমান কাদা জমে পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

 

পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান (বাবু) বলেন, সড়কটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হাসনাই আহমেদ জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।