ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে কাবিখা প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ৪১ Time View
৭৪

পটুয়াখালীর বাউফলে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচীর কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি করে অধিকাংশ প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। আবার
নামমাত্র এ কাজ করতে গিয়ে রাস্তার দুই পাশে থাকা হাজার হাজার মূল্যবান গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। শ্রমিকের পরিবর্তে এক্সকাভেটর বা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটির কাজ করায় পরিবেশ বান্ধব গাছগুলো ধ্বংস হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের সড়কের দুই পাশ থেকে নির্বিচারে গাছ উপড়ে ফেলার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সচেতন মহলের ব্যক্তিবর্গরা।

সুত্রে জানাগেছে, ২০২৫-২০২৬ ইং অর্থ বছরে দুই দফায় বাউফল উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী (কাবিখা) বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪শ’২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের বিপরীতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য ৬১টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়। ইতিমধ্যে প্রায় সব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ হয়েছে নামমাত্র।

 

সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, সূর্যমণি ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির দরজা থেকে দক্ষিণ দিকে জাফর জোমাদ্দার বাড়ি অভিমূখী রাস্তা মাটি দ্বারা পুণঃনির্মাণ প্রকল্পে ৬ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় একই ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল বাশারকে। তিনি বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের পর প্রতিটন ৩১ হাজার টাকা দরে কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করেন। অথচ সরকার একই সময় প্রতিটন চাল ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করে খাদ্য গুদামে মজুদ করেছে। চাল বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি একটি ভেকু মেশিন ভাড়ায় এনে রাস্তার উপর সামান্য মাটি দিয়ে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। এই কাজ করতে গিয়ে ওই রাস্তার পাশে থাকা শতাধিক মূল্যবান গাছ উপড়ে ফেলা হয়।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেন, “সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার কাজ করেছেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি। প্রকল্পের পাশেই ইউপি মেম্বার আবুল বাশারের বাড়ি। তিনি এই প্রকল্পের উপর দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করেন। তাই ভয়ে কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

এ প্রকল্প কমিটির সভাপতি আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “সঠিক নিয়ম মেনেই প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে।

একই ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডের মিঠাপুকুরিয়া জালাল হাওলাদার বাড়ি থেকে পশ্চিম দিকে সিকদার বাড়ি অভিমুখী রাস্তা মাটি দ্বারা পুণঃনির্মাণ, বগা ইউপির রাজনগর ক্ষিতিশ দাসের দোকান দক্ষিণ দিকে সুরেশ দাসের বাড়ি অভিমুখী মাটির রাস্তা নির্মাণ, কালিশুরী ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের সিংহেরাকাঠী হোসেন ফকির বাড়ি থেকে দক্ষিণমুখী হাসেম হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, কনকদিয়া ইউপির উত্তর কনকদিয়া আলিম মাদ্রাসার মাঠ ভরাট ও ৬ নং ওয়ার্ডের নারায়নপাশা গ্রামের ভূইয়া বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজ পর্যন্ত মাটি দ্বারা ভরাট প্রকল্প, কাছিপাড়া ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের রশিদ মাষ্টার বাড়ি থেকে পশ্চিম দিকে খালেক মৃধা বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ৮ নং ওয়ার্ডে নেছার খানের বাড়ি থেকে খালেক মৃধা বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুণনির্মাণ প্রকল্পে সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে এলাকাবাসী।

কাছিপাড়া ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের বগা-বাহিরচর পাকা সড়ক থেকে পালবাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত মাটি দ্বারা রাস্তা পুণঃনির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৭ দশমিক ৭ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ করায় দুই পাশের পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। স্থাণীয়রা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। অবশ্য প্রকল্প কমিটির সভাপতি কাছিপাড়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সুমন সাংবাদিকদের বলেন, এখন শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই কতৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়েই ভেকু মেশিন দিয়ে মাটির কাজ করা হয়েছে। আমার ইউনিয়নের প্রকল্পে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। এছাড়াও চন্দ্রদ্বীপ, মদনপুরা, বাউফল সদর, দাসপাড়া, আদাবাড়িয়া ও কালিশুরী ইউপির একাধিক প্রকল্প পরিদর্শনকালে একই চিত্র দেখতে পায় সাংবাদিকরা।
কাবিখার কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা মাইদুল মোর্শেদ মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, ভবিষ্যতে পরিবেশ বান্ধব গাছ রক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিষয় বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, কাবিখার প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে অনিয়ম পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

বাউফলে কাবিখা প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : ০৪:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
৭৪

পটুয়াখালীর বাউফলে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচীর কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি করে অধিকাংশ প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। আবার
নামমাত্র এ কাজ করতে গিয়ে রাস্তার দুই পাশে থাকা হাজার হাজার মূল্যবান গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। শ্রমিকের পরিবর্তে এক্সকাভেটর বা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটির কাজ করায় পরিবেশ বান্ধব গাছগুলো ধ্বংস হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের সড়কের দুই পাশ থেকে নির্বিচারে গাছ উপড়ে ফেলার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সচেতন মহলের ব্যক্তিবর্গরা।

সুত্রে জানাগেছে, ২০২৫-২০২৬ ইং অর্থ বছরে দুই দফায় বাউফল উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী (কাবিখা) বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪শ’২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের বিপরীতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য ৬১টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়। ইতিমধ্যে প্রায় সব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ হয়েছে নামমাত্র।

 

সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, সূর্যমণি ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির দরজা থেকে দক্ষিণ দিকে জাফর জোমাদ্দার বাড়ি অভিমূখী রাস্তা মাটি দ্বারা পুণঃনির্মাণ প্রকল্পে ৬ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় একই ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল বাশারকে। তিনি বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের পর প্রতিটন ৩১ হাজার টাকা দরে কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করেন। অথচ সরকার একই সময় প্রতিটন চাল ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করে খাদ্য গুদামে মজুদ করেছে। চাল বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি একটি ভেকু মেশিন ভাড়ায় এনে রাস্তার উপর সামান্য মাটি দিয়ে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। এই কাজ করতে গিয়ে ওই রাস্তার পাশে থাকা শতাধিক মূল্যবান গাছ উপড়ে ফেলা হয়।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেন, “সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার কাজ করেছেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি। প্রকল্পের পাশেই ইউপি মেম্বার আবুল বাশারের বাড়ি। তিনি এই প্রকল্পের উপর দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করেন। তাই ভয়ে কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

এ প্রকল্প কমিটির সভাপতি আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “সঠিক নিয়ম মেনেই প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে।

একই ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডের মিঠাপুকুরিয়া জালাল হাওলাদার বাড়ি থেকে পশ্চিম দিকে সিকদার বাড়ি অভিমুখী রাস্তা মাটি দ্বারা পুণঃনির্মাণ, বগা ইউপির রাজনগর ক্ষিতিশ দাসের দোকান দক্ষিণ দিকে সুরেশ দাসের বাড়ি অভিমুখী মাটির রাস্তা নির্মাণ, কালিশুরী ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের সিংহেরাকাঠী হোসেন ফকির বাড়ি থেকে দক্ষিণমুখী হাসেম হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, কনকদিয়া ইউপির উত্তর কনকদিয়া আলিম মাদ্রাসার মাঠ ভরাট ও ৬ নং ওয়ার্ডের নারায়নপাশা গ্রামের ভূইয়া বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজ পর্যন্ত মাটি দ্বারা ভরাট প্রকল্প, কাছিপাড়া ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের রশিদ মাষ্টার বাড়ি থেকে পশ্চিম দিকে খালেক মৃধা বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ৮ নং ওয়ার্ডে নেছার খানের বাড়ি থেকে খালেক মৃধা বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুণনির্মাণ প্রকল্পে সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে এলাকাবাসী।

কাছিপাড়া ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের বগা-বাহিরচর পাকা সড়ক থেকে পালবাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত মাটি দ্বারা রাস্তা পুণঃনির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৭ দশমিক ৭ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ করায় দুই পাশের পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। স্থাণীয়রা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। অবশ্য প্রকল্প কমিটির সভাপতি কাছিপাড়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সুমন সাংবাদিকদের বলেন, এখন শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই কতৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়েই ভেকু মেশিন দিয়ে মাটির কাজ করা হয়েছে। আমার ইউনিয়নের প্রকল্পে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। এছাড়াও চন্দ্রদ্বীপ, মদনপুরা, বাউফল সদর, দাসপাড়া, আদাবাড়িয়া ও কালিশুরী ইউপির একাধিক প্রকল্প পরিদর্শনকালে একই চিত্র দেখতে পায় সাংবাদিকরা।
কাবিখার কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা মাইদুল মোর্শেদ মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, ভবিষ্যতে পরিবেশ বান্ধব গাছ রক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিষয় বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, কাবিখার প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে অনিয়ম পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।