ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর জাল : জামায়াত নেতাকে থানা থেকে নিলেন বিএনপি নেতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৪৭ Time View
৯২

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) স্বাক্ষর নকল করে সরকারি খাস জমি নিজের নামে চাষের অনুমতির জাল কাগজ তৈরীর অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকে প্রশাসন আটক করে থানায় হস্তান্তরের পরে পুলিশের বিরুদ্ধে তাকে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আটক সাইফুল শরীফ (৪০) উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব গ্রামের জামাল শরীফের ছেলে ও ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

সোমবার (৮জুন) দুপুর ১ টার দিকে তাকে বাউফল থানায় হস্তান্তর করেন এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু। ৩০ মিনিটের ব্যবধানে তাকে মুক্তি দেয় পুলিশ।

জানা গেছে, সাইফুল শরীফকে থানায় হস্তান্তরের পরে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি রুহুল রাঢ়ীর নেতৃত্বে বিএনপি’র কয়েকজন নেতা বাউফল থানায় প্রবেশ করেন। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি সমাধান করার জন্য তাঁরা থানায় মামলা না দিয়ে সাইফুল শরীফকে থানা থেকে নিয়ে যান।

এবিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, স্বাক্ষর জালিয়াতির সাথে যাঁরা জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। রুহুল রাঢ়ী জামায়াত নেতাকে ছাড়িয়ে নিয়ে থাকলে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তাঁরও শাস্তি হওয়া উচিত।

এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেন, অভিযুক্ত সাইফুল শরীফ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের আলমগীর নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি ও সরকারি খাস খতিয়ানের মোট ৯০ একর জমি চাষাবাদের অনুমতি পেয়েছেন দাবি করে স্থানীয়দের কাছে এ সংক্রান্ত একটি অনুমতি পত্র প্রদর্শন করেন। গতকাল ওই অনুমতি পত্রের কপি আমার নজরে আসে এবং দেখা যায় সেখানে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পরে আমার টিম তাকে আটক করে। আমি ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মানুযায়ী তিনি দায় স্বীকার না করায় তাঁকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে নিয়মিত মামলা গ্রহণের জন্য তাঁকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং এরকম কোনো আসামি তাঁর থানায় নেই বলে দাবি করেন। এ কারণে তিনি কোনো মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বাউফলে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর জাল : জামায়াত নেতাকে থানা থেকে নিলেন বিএনপি নেতা

Update Time : ০১:২৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
৯২

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) স্বাক্ষর নকল করে সরকারি খাস জমি নিজের নামে চাষের অনুমতির জাল কাগজ তৈরীর অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকে প্রশাসন আটক করে থানায় হস্তান্তরের পরে পুলিশের বিরুদ্ধে তাকে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আটক সাইফুল শরীফ (৪০) উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব গ্রামের জামাল শরীফের ছেলে ও ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

সোমবার (৮জুন) দুপুর ১ টার দিকে তাকে বাউফল থানায় হস্তান্তর করেন এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু। ৩০ মিনিটের ব্যবধানে তাকে মুক্তি দেয় পুলিশ।

জানা গেছে, সাইফুল শরীফকে থানায় হস্তান্তরের পরে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি রুহুল রাঢ়ীর নেতৃত্বে বিএনপি’র কয়েকজন নেতা বাউফল থানায় প্রবেশ করেন। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি সমাধান করার জন্য তাঁরা থানায় মামলা না দিয়ে সাইফুল শরীফকে থানা থেকে নিয়ে যান।

এবিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, স্বাক্ষর জালিয়াতির সাথে যাঁরা জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। রুহুল রাঢ়ী জামায়াত নেতাকে ছাড়িয়ে নিয়ে থাকলে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তাঁরও শাস্তি হওয়া উচিত।

এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেন, অভিযুক্ত সাইফুল শরীফ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের আলমগীর নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি ও সরকারি খাস খতিয়ানের মোট ৯০ একর জমি চাষাবাদের অনুমতি পেয়েছেন দাবি করে স্থানীয়দের কাছে এ সংক্রান্ত একটি অনুমতি পত্র প্রদর্শন করেন। গতকাল ওই অনুমতি পত্রের কপি আমার নজরে আসে এবং দেখা যায় সেখানে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পরে আমার টিম তাকে আটক করে। আমি ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মানুযায়ী তিনি দায় স্বীকার না করায় তাঁকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে নিয়মিত মামলা গ্রহণের জন্য তাঁকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং এরকম কোনো আসামি তাঁর থানায় নেই বলে দাবি করেন। এ কারণে তিনি কোনো মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানান।