ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ৫৮ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ২৯ Time View
৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বরিশালের জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা প্রদান করেছে।

 

বরিশালের শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 

সংবর্ধনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। এসময় তিনি দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মাঝে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ড লাভ নয়, এটি ছিল গণতন্ত্র, সাম্য, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। সেই দিন কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা সকলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আলোচনা শেষে বরিশালের ৫৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।

 

 

সংবর্ধনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, ধ্বংস ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে ৯ মাসের মরণপণ লড়াইয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। গোটা জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সকল বীর বাংলার অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, অত্যাচার-নিপীড়নে জর্জরিত বাঙালি জাতির সামনে আলোকময় ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে দেওয়ার দিন ২৬ মার্চ। গৌরব ও স্বজন হারানোর বেদনার এই দিনে বীর বাঙালি সশস্ত্র স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনা করেছিল। মাতৃভূমিকে হিংস্র মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রগতি, কল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে অর্জন করা হয় স্বাধীনতা। দেশের সার্বভৌমত্ব সংহত করার নতুন শপথে বলিয়ান হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করার অঙ্গীকার করে বীর বাঙালি।

 

মুক্তিযোদ্ধা এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার এ. জেড. এম মোস্তাফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এস এ মহিউদ্দিন মানিক (বীর প্রতীক) ও নূরুল আলম ফরিদ। এসময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

বরিশালে ৫৮ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা

Update Time : ১২:১৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বরিশালের জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা প্রদান করেছে।

 

বরিশালের শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 

সংবর্ধনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। এসময় তিনি দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মাঝে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ড লাভ নয়, এটি ছিল গণতন্ত্র, সাম্য, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। সেই দিন কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা সকলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আলোচনা শেষে বরিশালের ৫৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।

 

 

সংবর্ধনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, ধ্বংস ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে ৯ মাসের মরণপণ লড়াইয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। গোটা জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সকল বীর বাংলার অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, অত্যাচার-নিপীড়নে জর্জরিত বাঙালি জাতির সামনে আলোকময় ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে দেওয়ার দিন ২৬ মার্চ। গৌরব ও স্বজন হারানোর বেদনার এই দিনে বীর বাঙালি সশস্ত্র স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনা করেছিল। মাতৃভূমিকে হিংস্র মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রগতি, কল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে অর্জন করা হয় স্বাধীনতা। দেশের সার্বভৌমত্ব সংহত করার নতুন শপথে বলিয়ান হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করার অঙ্গীকার করে বীর বাঙালি।

 

মুক্তিযোদ্ধা এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার এ. জেড. এম মোস্তাফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এস এ মহিউদ্দিন মানিক (বীর প্রতীক) ও নূরুল আলম ফরিদ। এসময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।