ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে বাড়ছে হামের সংক্রমণ: আক্রান্ত ৭০০, প্রাণহানি ৯

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৭ Time View
৮৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : হামের ভয়াবহ বিস্তারের মধ্যে সারাদেশের মধ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে বরিশাল বিভাগের ৩টি জেলার ৪টি উপজেলার ৫ লক্ষাধিক শিশুকে হামের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বরিশালে ইতোমধ্যে সন্দেহজনক প্রায় ৭শ হাম আক্রান্ত শিশুর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

রোববার (৫ এপ্রিল) নলছিটি উপজেলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার আনুষ্ঠানিকভাবে এ টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অপরদিকে বরিশাল সিটি করপেরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনও মহানগরীর কাউনিয়া সহ কয়েকটি এলাকায় হামের টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।

 

তবে সারা দেশের ঝুকপূর্ণ হাম আক্রান্ত এলাকার মধ্যে ইতোমধ্যে বরিশালের অবস্থান ক্রমে ওপরে উঠে আসছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত ৫৭১ সন্দেহভাজন হাম রোগীর মধ্যে ৪০১ জনকে ঘরে পাঠিয়ে দেয়া হলেও এখনো চিকিৎসাধীন প্রায় পৌনে দুইশ।
অপরদিকে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্তদের রক্তের নমুনা পরিক্ষার জন্য এখনো ঢাকার আইসিডিআরবি’তে পাঠানো হচ্ছে। ফলে সন্দেভাজন হাম রোগীদের রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতেই সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে।

 

এ পর্যন্ত সন্দেহজনক প্রায় ৭শ হাম আক্রান্ত শিশুর মধ্যে ৫১ জনকে নিশ্চিত হাম রোগী বলে চিঞ্হিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমনকি প্রতিদিনই সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যাও ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, গত ২ এপ্রিল বরিশাল বিভাগে ১৩৩ শিশুকে সন্দহজনক বলে চিঞ্হিত করার পরে ৩ এপ্রিল সংখ্যাটা ৬৩ জনে হ্রাস পেলেও ৫ এপ্রিল পুনরায় তা ১০৭ জনে উন্নীত হয়েছে। এমনকি ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগে হাম আক্রান্তদের মধ্যে যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার ৪ জনেরই মৃত্যু হয়েছে গত চার দিনে।

 

শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ সহ বরিশাল অঞ্চলের সবগুলো জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের ভীড়ে নুহ্যমান। শের ই বাংলা হাসপাতালে হাম আক্রান্তদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু করা হলেও অন্য বেশীরভাগ হাসপাতালেই তা সম্ভব হয়নি। এমনকি শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের ৪৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে স্বববাবিক সময়েই প্রায় ১০গুন রোগী চিকিৎসাধীন থাকে। এখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। রোববার দুপুরের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় বরিশাল বিভাগের হাসপাতাল গুলোতে আরো ৬৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগীকে ভর্তির কথা জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর।

 

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, একজন হাম আক্রান্ত রোগী ১৭-২০টি শিশুকেও হামের জীবানু ছড়িয়ে দেয়ার জন্য দায়ী। এমনকি হামের উপসর্গ হিসেবে এবার আক্রান্ত শিশুদের ডায়রিয়া, চিকেন পক্স সহ নানা ধরনের রোগব্যধী হতে দেখা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকগন।

 

রোববার থেকে সারাদেশের মত বরিশাল বিভাগের ৪ উপজেলায় যে হাম প্রতিষেধক টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে তার আওতায় বরিশালের মেহেদিগঞ্জ,বাকেরগঞ্জ, বরগুনা পৌরসভা সহ সদর ও নলছিটি উপজেলার ৫ লাখ ৬ হাজার ৪৩৭ শিশুকে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে এসব উপজেলার ৬মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের যেকোন সুস্থ শিশুকেই এ টিকা প্রদান করা হবে। খুব শিঘ্রই দেশের সব উপজেলার সুস্থ যেকোন শিশুই হামের এ টিকায় আওতায় আসবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যমল কৃষ্ঞ মন্ডল।

 

তবে সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে দ্রুত হামের টিকা দিতে পারলে বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরন সহজ হবে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন আশা করছেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

বরিশালে বাড়ছে হামের সংক্রমণ: আক্রান্ত ৭০০, প্রাণহানি ৯

Update Time : ০১:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
৮৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : হামের ভয়াবহ বিস্তারের মধ্যে সারাদেশের মধ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে বরিশাল বিভাগের ৩টি জেলার ৪টি উপজেলার ৫ লক্ষাধিক শিশুকে হামের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বরিশালে ইতোমধ্যে সন্দেহজনক প্রায় ৭শ হাম আক্রান্ত শিশুর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

রোববার (৫ এপ্রিল) নলছিটি উপজেলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার আনুষ্ঠানিকভাবে এ টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অপরদিকে বরিশাল সিটি করপেরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনও মহানগরীর কাউনিয়া সহ কয়েকটি এলাকায় হামের টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।

 

তবে সারা দেশের ঝুকপূর্ণ হাম আক্রান্ত এলাকার মধ্যে ইতোমধ্যে বরিশালের অবস্থান ক্রমে ওপরে উঠে আসছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত ৫৭১ সন্দেহভাজন হাম রোগীর মধ্যে ৪০১ জনকে ঘরে পাঠিয়ে দেয়া হলেও এখনো চিকিৎসাধীন প্রায় পৌনে দুইশ।
অপরদিকে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্তদের রক্তের নমুনা পরিক্ষার জন্য এখনো ঢাকার আইসিডিআরবি’তে পাঠানো হচ্ছে। ফলে সন্দেভাজন হাম রোগীদের রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতেই সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে।

 

এ পর্যন্ত সন্দেহজনক প্রায় ৭শ হাম আক্রান্ত শিশুর মধ্যে ৫১ জনকে নিশ্চিত হাম রোগী বলে চিঞ্হিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমনকি প্রতিদিনই সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যাও ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, গত ২ এপ্রিল বরিশাল বিভাগে ১৩৩ শিশুকে সন্দহজনক বলে চিঞ্হিত করার পরে ৩ এপ্রিল সংখ্যাটা ৬৩ জনে হ্রাস পেলেও ৫ এপ্রিল পুনরায় তা ১০৭ জনে উন্নীত হয়েছে। এমনকি ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগে হাম আক্রান্তদের মধ্যে যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার ৪ জনেরই মৃত্যু হয়েছে গত চার দিনে।

 

শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ সহ বরিশাল অঞ্চলের সবগুলো জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের ভীড়ে নুহ্যমান। শের ই বাংলা হাসপাতালে হাম আক্রান্তদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু করা হলেও অন্য বেশীরভাগ হাসপাতালেই তা সম্ভব হয়নি। এমনকি শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের ৪৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে স্বববাবিক সময়েই প্রায় ১০গুন রোগী চিকিৎসাধীন থাকে। এখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। রোববার দুপুরের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় বরিশাল বিভাগের হাসপাতাল গুলোতে আরো ৬৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগীকে ভর্তির কথা জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর।

 

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, একজন হাম আক্রান্ত রোগী ১৭-২০টি শিশুকেও হামের জীবানু ছড়িয়ে দেয়ার জন্য দায়ী। এমনকি হামের উপসর্গ হিসেবে এবার আক্রান্ত শিশুদের ডায়রিয়া, চিকেন পক্স সহ নানা ধরনের রোগব্যধী হতে দেখা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকগন।

 

রোববার থেকে সারাদেশের মত বরিশাল বিভাগের ৪ উপজেলায় যে হাম প্রতিষেধক টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে তার আওতায় বরিশালের মেহেদিগঞ্জ,বাকেরগঞ্জ, বরগুনা পৌরসভা সহ সদর ও নলছিটি উপজেলার ৫ লাখ ৬ হাজার ৪৩৭ শিশুকে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে এসব উপজেলার ৬মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের যেকোন সুস্থ শিশুকেই এ টিকা প্রদান করা হবে। খুব শিঘ্রই দেশের সব উপজেলার সুস্থ যেকোন শিশুই হামের এ টিকায় আওতায় আসবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যমল কৃষ্ঞ মন্ডল।

 

তবে সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে দ্রুত হামের টিকা দিতে পারলে বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরন সহজ হবে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন আশা করছেন।