ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ফেসবুক সাংবাদিকতার ছড়াছড়ি : ‌‌‌বিপাকে মূলধারার গণমাধ্যম

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ২ Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের ফলে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যম অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক এখন তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই সুযোগের অপব্যবহারও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমের বাইরে অসংখ্য ফেসবুক পেজ, গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত আইডিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তথাকথিত “ফেসবুক সাংবাদিকতা”।
একটি মোবাইল ফোন, একটি ফেসবুক পেজ এবং নিজস্বভাবে তৈরি করা একটি আইডি কার্ড হাতে নিয়েই অনেকে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। কোনো সংবাদমাধ্যমের অনুমোদন নেই, নেই সাংবাদিকতার ন্যূনতম প্রশিক্ষণ বা পেশাগত জবাবদিহিতা। তারপরও তারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করছেন, অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
বরিশাল অঞ্চলে বর্তমানে এমন ফেসবুকভিত্তিক তথাকথিত সাংবাদিকের সংখ্যা কয়েক হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের বড় একটি অংশ সংবাদ সংগ্রহের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, প্রভাব বিস্তার কিংবা অনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে সক্রিয়। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
মূলধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের পেশাগত শ্রম, নৈতিকতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি ফেসবুকে অপেশাদার বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার করলে তার দায়ও অনেক সময় সাংবাদিক সমাজের ওপর এসে পড়ে। এতে সংবাদমাধ্যমের প্রতি জনআস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। এটি শুধু ছবি তোলা বা লাইভ করার নাম নয়। তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা এবং আইনি দায়বদ্ধতা সাংবাদিকতার মৌলিক ভিত্তি। অথচ ফেসবুকভিত্তিক অনেক তথাকথিত সাংবাদিক এসব নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই সংবাদ পরিবেশন করছেন। ফলে গুজব, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন, তথ্য অধিদপ্তর, সাংবাদিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম মালিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে নিবন্ধন ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে, যাতে তারা অনুমোদিত ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে তথ্য গ্রহণ করেন।
মনে রাখতে হবে, ফেসবুক একটি মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু ফেসবুক পেজ খুললেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যায় না। সাংবাদিকতা একটি পেশা, একটি দায়িত্ব এবং সর্বোপরি জনস্বার্থ রক্ষার একটি অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকারকে রক্ষা করতে হলে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালীতে পুকুরে গোসল করতে নেমে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

বরিশালে ফেসবুক সাংবাদিকতার ছড়াছড়ি : ‌‌‌বিপাকে মূলধারার গণমাধ্যম

Update Time : ০৪:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের ফলে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যম অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক এখন তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই সুযোগের অপব্যবহারও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমের বাইরে অসংখ্য ফেসবুক পেজ, গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত আইডিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তথাকথিত “ফেসবুক সাংবাদিকতা”।
একটি মোবাইল ফোন, একটি ফেসবুক পেজ এবং নিজস্বভাবে তৈরি করা একটি আইডি কার্ড হাতে নিয়েই অনেকে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। কোনো সংবাদমাধ্যমের অনুমোদন নেই, নেই সাংবাদিকতার ন্যূনতম প্রশিক্ষণ বা পেশাগত জবাবদিহিতা। তারপরও তারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করছেন, অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
বরিশাল অঞ্চলে বর্তমানে এমন ফেসবুকভিত্তিক তথাকথিত সাংবাদিকের সংখ্যা কয়েক হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের বড় একটি অংশ সংবাদ সংগ্রহের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, প্রভাব বিস্তার কিংবা অনৈতিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে সক্রিয়। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
মূলধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের পেশাগত শ্রম, নৈতিকতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি ফেসবুকে অপেশাদার বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার করলে তার দায়ও অনেক সময় সাংবাদিক সমাজের ওপর এসে পড়ে। এতে সংবাদমাধ্যমের প্রতি জনআস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। এটি শুধু ছবি তোলা বা লাইভ করার নাম নয়। তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা এবং আইনি দায়বদ্ধতা সাংবাদিকতার মৌলিক ভিত্তি। অথচ ফেসবুকভিত্তিক অনেক তথাকথিত সাংবাদিক এসব নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই সংবাদ পরিবেশন করছেন। ফলে গুজব, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন, তথ্য অধিদপ্তর, সাংবাদিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম মালিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে নিবন্ধন ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে, যাতে তারা অনুমোদিত ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে তথ্য গ্রহণ করেন।
মনে রাখতে হবে, ফেসবুক একটি মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু ফেসবুক পেজ খুললেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যায় না। সাংবাদিকতা একটি পেশা, একটি দায়িত্ব এবং সর্বোপরি জনস্বার্থ রক্ষার একটি অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকারকে রক্ষা করতে হলে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।