ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ওষুধ কারখানার শ্রমিকদের কর্মবিরতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৩১ Time View
৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে একটি ওষুধ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। আজ শনিবার সকাল থেকে নগরের বিএম কলেজ–সংলগ্ন কারখানাটির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা কর্মসূচি পালন করছেন।

 

আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা জানান, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের অবৈধ ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বহাল, ২০২৫ সালের গেজেট অনুযায়ী বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদানের দাবিতে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন।

 

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক স্বপন হাওলাদার বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি কারখানাটিতে কর্মরত ছিলেন। কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত মঙ্গলবার তাঁকে কাজে যোগ না দিতে বলা হয়েছে। এতে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

 

 

কয়েকজন নারী শ্রমিকের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ সামান্য কারণেই চাকরিচ্যুত করে। চার বছর ধরে তাঁদের বেতন বাড়ানো হয়নি, নিয়মিত বেতনও পরিশোধ করা হয় না। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি একইভাবে চারজন শ্রমিককে কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে। অসহায় শ্রমিকেরা মালিকদের এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করার সাহস পান না। তাঁরা জানান, এবার তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

 

 

আজ দুপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বরিশাল জেলা বাসদের সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এই কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে শ্রম আইন মানা হয় না। ৩০ বছর চাকরির পরও শ্রমিককে হঠাৎ বের করে দেওয়ার ঘটনাই এর প্রমাণ। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অনিয়মের কারণে শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

 

 

মনীষা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত মজুরি কাঠামো না মেনে শ্রমিকদের দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করিয়ে অস্বাভাবিক কম বেতন দেওয়া হচ্ছে, যা অমানবিক ও বেআইনি। দ্রুত শ্রম আইন অনুসরণ করে শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

বরিশালে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ওষুধ কারখানার শ্রমিকদের কর্মবিরতি

Update Time : ০৩:১৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে একটি ওষুধ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। আজ শনিবার সকাল থেকে নগরের বিএম কলেজ–সংলগ্ন কারখানাটির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা কর্মসূচি পালন করছেন।

 

আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা জানান, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের অবৈধ ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বহাল, ২০২৫ সালের গেজেট অনুযায়ী বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদানের দাবিতে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন।

 

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক স্বপন হাওলাদার বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি কারখানাটিতে কর্মরত ছিলেন। কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত মঙ্গলবার তাঁকে কাজে যোগ না দিতে বলা হয়েছে। এতে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

 

 

কয়েকজন নারী শ্রমিকের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ সামান্য কারণেই চাকরিচ্যুত করে। চার বছর ধরে তাঁদের বেতন বাড়ানো হয়নি, নিয়মিত বেতনও পরিশোধ করা হয় না। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি একইভাবে চারজন শ্রমিককে কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে। অসহায় শ্রমিকেরা মালিকদের এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করার সাহস পান না। তাঁরা জানান, এবার তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

 

 

আজ দুপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বরিশাল জেলা বাসদের সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এই কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে শ্রম আইন মানা হয় না। ৩০ বছর চাকরির পরও শ্রমিককে হঠাৎ বের করে দেওয়ার ঘটনাই এর প্রমাণ। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অনিয়মের কারণে শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

 

 

মনীষা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত মজুরি কাঠামো না মেনে শ্রমিকদের দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করিয়ে অস্বাভাবিক কম বেতন দেওয়া হচ্ছে, যা অমানবিক ও বেআইনি। দ্রুত শ্রম আইন অনুসরণ করে শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।