ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় ‘চাঁদার টাকা ভাগাভাগি’ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষের মারামারি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪০ Time View
৩১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় বিএফডিসি মৎস্য বাজারের চাঁদার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় স্থানীয়রা শামীম নামের একজনকে আটক করে পুলিশের দিয়েছে।

২টার দিকে পাথরঘাটা পৌরশহরের লঞ্চঘাট এলাকার ব্রিজের পাশের বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

আটক শামীম হোসেন কালমেঘা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাছেরখাল এলাকার মো. মজিবর মিয়ার ছেলে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাট। এই ঘাটে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়। এই বিএফডিসি মৎস্য ঘাট থেকে মাছ বিক্রি করা জেলে, আড়তদার, পাইকার ও ছোট ব্যাবসায়ীদের থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে একটি চাঁদা আদায় করেন তারা। এই টাকা থেকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এনামুল হক ইমুকে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। বিষয়টি অন্য নেতাকর্মীরা অতিরিক্ত টাকার প্রতিবাদ করার কারণে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করেছে।

বিএফডিসির মাছ ব্যবসায়ী ফোরকান বলেন, দুপুর ২ টার দিকে চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেলে হঠাৎ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক ইমু ও শামীমসহ বেশ কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এই হামলায় মো. কালু, সোহাগ, আবু সালেহ, শামীমসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ জন লোক আহত হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে তাদেরকে পাথরঘাটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। এ সময় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এনামুল হক ইমুর সঙ্গে থাকা শামীমকে আটক করে গাছের সাথে বেধে রাখেন। পরে থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেন।

অভিযুক্ত এনামুল হক ইমু চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিএফডিসি বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হওয়ায় দীর্ঘ বছর ধরেই মাদকের ছড়াছড়ি। নিজে দায়িত্ব নিয়ে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছি। এর সঙ্গে আমার ছোট ভাইও জড়িত। এ কারণেই আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা। তিনি আরও বলেন, এই মাদকবিরোধী অভিযানে একটি মোটরসাইকেল এবং কয়েকটি মোবাইল আমার কাছে জব্দ করা আছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন ‘বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরগুনায় ‘চাঁদার টাকা ভাগাভাগি’ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষের মারামারি

Update Time : ০৪:৪৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৩১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরগুনার পাথরঘাটায় বিএফডিসি মৎস্য বাজারের চাঁদার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় স্থানীয়রা শামীম নামের একজনকে আটক করে পুলিশের দিয়েছে।

২টার দিকে পাথরঘাটা পৌরশহরের লঞ্চঘাট এলাকার ব্রিজের পাশের বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

আটক শামীম হোসেন কালমেঘা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাছেরখাল এলাকার মো. মজিবর মিয়ার ছেলে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাট। এই ঘাটে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়। এই বিএফডিসি মৎস্য ঘাট থেকে মাছ বিক্রি করা জেলে, আড়তদার, পাইকার ও ছোট ব্যাবসায়ীদের থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে একটি চাঁদা আদায় করেন তারা। এই টাকা থেকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এনামুল হক ইমুকে প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। বিষয়টি অন্য নেতাকর্মীরা অতিরিক্ত টাকার প্রতিবাদ করার কারণে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করেছে।

বিএফডিসির মাছ ব্যবসায়ী ফোরকান বলেন, দুপুর ২ টার দিকে চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেলে হঠাৎ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক ইমু ও শামীমসহ বেশ কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এই হামলায় মো. কালু, সোহাগ, আবু সালেহ, শামীমসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ জন লোক আহত হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে তাদেরকে পাথরঘাটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। এ সময় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এনামুল হক ইমুর সঙ্গে থাকা শামীমকে আটক করে গাছের সাথে বেধে রাখেন। পরে থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেন।

অভিযুক্ত এনামুল হক ইমু চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিএফডিসি বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হওয়ায় দীর্ঘ বছর ধরেই মাদকের ছড়াছড়ি। নিজে দায়িত্ব নিয়ে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছি। এর সঙ্গে আমার ছোট ভাইও জড়িত। এ কারণেই আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা। তিনি আরও বলেন, এই মাদকবিরোধী অভিযানে একটি মোটরসাইকেল এবং কয়েকটি মোবাইল আমার কাছে জব্দ করা আছে।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন ‘বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাবো।