ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশমিনায় গণ অধিকার পরিষদ কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার বিকেলে নবগঠিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে গেলে সাবেক ইউনিয়ন আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মুছা মাঝির নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বাকি আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত রণগোপালদী ইউনিয়নের এক বছরের জন্য আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি মাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উপজেলা কমিটি তাকে সভাপতি করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করার পর থেকেই বিরোধ শুরু হয়। তিনি বলেন, আমরা অফিসে গেলে মুছা মাঝি ও তার সমর্থকরা আমাদের প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমি মাথায় গুরুতর আঘাত পাই।

বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন তালুকদার বলেন, মুছা মাঝি নতুন কমিটি মেনে নিতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউনিয়ন আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মুছা মাঝি দাবি করেন, আমরা কার্যালয়ে বসে আলোচনা করছিলাম। এ সময় মাইদুল ইসলাম ও মামুন তালুকদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের পক্ষেরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ আকন ও সাধারণ সম্পাদক লিয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার পর এ ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান,, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়ানগরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন

দশমিনায় গণ অধিকার পরিষদ কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

Update Time : ১২:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার বিকেলে নবগঠিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে গেলে সাবেক ইউনিয়ন আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মুছা মাঝির নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বাকি আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত রণগোপালদী ইউনিয়নের এক বছরের জন্য আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি মাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, উপজেলা কমিটি তাকে সভাপতি করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করার পর থেকেই বিরোধ শুরু হয়। তিনি বলেন, আমরা অফিসে গেলে মুছা মাঝি ও তার সমর্থকরা আমাদের প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমি মাথায় গুরুতর আঘাত পাই।

বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন তালুকদার বলেন, মুছা মাঝি নতুন কমিটি মেনে নিতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউনিয়ন আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মুছা মাঝি দাবি করেন, আমরা কার্যালয়ে বসে আলোচনা করছিলাম। এ সময় মাইদুল ইসলাম ও মামুন তালুকদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের পক্ষেরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ আকন ও সাধারণ সম্পাদক লিয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার পর এ ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান,, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।