ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটায় অক্ষয় তৃতীয়ায় সমুদ্রস্নানে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৩ Time View
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : অক্ষয় পুণ্যলাভের আশায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করেন হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী। সোমবার (২০ এপ্রিল) হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি উপলক্ষে তারা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমুদ্রস্নানে অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রম আয়োজিত অক্ষয় তৃতীয়া ব্রত ও সনাতন ধর্ম সম্মেলনের কর্মসূচি ভোর ৫টা থেকে শুরু হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে আহ্বানী, সমবেত প্রার্থনা, মঙ্গল ঘাট স্থাপন, শ্রী শ্রী বিষ্ণু পূজা ও গঙ্গা মায়ের পূজা শেষে সকাল ১০টায় সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকতে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়া হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই তিথিতেই বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম হয়েছিল বলে দিনটি পরশুরাম জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়। এছাড়া বেদব্যাস ও গণেশ এদিন মহাভারত রচনা শুরু করেন বলেও বিশ্বাস করা হয়। একই দিনে সত্যযুগের অবসান ঘটিয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়েছিল বলেও ধর্মীয় বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার নীহার রঞ্জন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী জয়দেব ঠাকুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন হরপ্রিয়া দেবী ও পরম পূজ্যপাদ ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামী।

আরও পড়ুন

‘দেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে কাজ করতে হবে’

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ও বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পরিতোষ রায়, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমানসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভক্তবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রতন জ্যোতি দাস ব্রহ্মচারী।

প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা কুয়াকাটায় আসেন। সমুদ্রসৈকতে দিনভর ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ স্নান শেষে পরিবার নিয়ে গীতা পাঠে অংশ নেন, কেউ আবার প্রার্থনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় মগ্ন ছিলেন।

পিরোজপুর থেকে আগত গৌর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে গঙ্গাস্নান করলে অক্ষয় পুণ্য অর্জন হয় বলে তাদের বিশ্বাস। এতে জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।

কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়েছে। প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আগত ভক্তদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালের ১৯ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ

কুয়াকাটায় অক্ষয় তৃতীয়ায় সমুদ্রস্নানে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী

Update Time : ০৯:৩২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
৬৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : অক্ষয় পুণ্যলাভের আশায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করেন হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী। সোমবার (২০ এপ্রিল) হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি উপলক্ষে তারা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমুদ্রস্নানে অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রম আয়োজিত অক্ষয় তৃতীয়া ব্রত ও সনাতন ধর্ম সম্মেলনের কর্মসূচি ভোর ৫টা থেকে শুরু হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে আহ্বানী, সমবেত প্রার্থনা, মঙ্গল ঘাট স্থাপন, শ্রী শ্রী বিষ্ণু পূজা ও গঙ্গা মায়ের পূজা শেষে সকাল ১০টায় সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকতে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়া হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই তিথিতেই বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম হয়েছিল বলে দিনটি পরশুরাম জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়। এছাড়া বেদব্যাস ও গণেশ এদিন মহাভারত রচনা শুরু করেন বলেও বিশ্বাস করা হয়। একই দিনে সত্যযুগের অবসান ঘটিয়ে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়েছিল বলেও ধর্মীয় বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার নীহার রঞ্জন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী জয়দেব ঠাকুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন হরপ্রিয়া দেবী ও পরম পূজ্যপাদ ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামী।

আরও পড়ুন

‘দেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে কাজ করতে হবে’

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ও বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পরিতোষ রায়, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমানসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভক্তবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রতন জ্যোতি দাস ব্রহ্মচারী।

প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা কুয়াকাটায় আসেন। সমুদ্রসৈকতে দিনভর ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ স্নান শেষে পরিবার নিয়ে গীতা পাঠে অংশ নেন, কেউ আবার প্রার্থনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় মগ্ন ছিলেন।

পিরোজপুর থেকে আগত গৌর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে গঙ্গাস্নান করলে অক্ষয় পুণ্য অর্জন হয় বলে তাদের বিশ্বাস। এতে জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।

কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়েছে। প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় আগত ভক্তদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।