ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাপাড়ায় স্কুলের জমি দখল করে এনসিপি নেতা কাফির রাস্তা নির্মাণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪৩ Time View
৭৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে রাস্তা নির্মাণের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

নুরুজ্জামান কাফি উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রজপাড়া মৌজার জেএল নম্বর-৯-এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানে খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভোগদখল করে আসছে।

২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল করা হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত সপ্তাহে ওই জমির মধ্যে ৬ লেন সড়কের উত্তর পাশে প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে কাফি রাস্তা নির্মাণ করেন। ওই জমির পাশেই কাফির মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেখানে যাতায়াতের পথ না থাকায় তিনি রাস্তা নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।

 

কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম বলেন, ‘রাতের আধারে নুরুজ্জামান কাফি বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ অংশ দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। তার দাবি, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান ছিল সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের সঙ্গে। তারা উচ্চ আদালতের রায় পেয়েছে। তবে ওই দায়ের বিরুদ্ধে আমরা রিভিউ করেছি যা এখনো চলমান। তার মধ্যেই নুরুজ্জামান কাফি ছয় শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি দাবি করেছেন, স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না করেছেন। ওই জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হলে সেখানে তিনি রাস্তা নির্মাণ করেন।

 

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পেছনে আমি একটি জমি ক্রয় করেছিলাম। সেখানে আমার যাতায়াতের কোন পথ ছিল না। প্রধান শিক্ষককে বলেছিলাম আমাকে যাতায়াতের পথ দেয়ার জন্য তবে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। জমিটি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের মামলা চলছিল। ওই মামলায় তারা উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছেন। এরপর তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি মৌখিক বায়না করি। তারা আমাকে ৬ শতক জমি বুঝিয়ে দিলে আমি সেখানে রাস্তা নির্মাণ করি। এখানে দখলের কোন বিষয় নেই।

 

এ বিষয়ে সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান বলেন, তার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মালিকানা দাবি করলেও আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। পরে পটুয়াখালী আদালত এবং ২০২৫ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দেন। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে নুরুজ্জামান কাফির যাতায়াতের জন্য ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তিনি সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেন।

 

কলাপাড়া থানার উপ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, ‘নুরুজ্জামান কাফিকে জমিটিতে রাস্তা নির্মাণের জন্য আমরা নিষেধ করেছি। কিন্তু তা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারের রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের দখলে দীর্ঘদিন জমিটি ছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ দিয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করে নুরুজুজ্জামান কাফি রাস্তা নির্মাণ করছেন। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ রিভিউ করেছেন। রিভিউ চলাকালীন সময়ে কোন জমি দখল করা যায় না। আমরা এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফিকে নোটিশ প্রদান করব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

কলাপাড়ায় স্কুলের জমি দখল করে এনসিপি নেতা কাফির রাস্তা নির্মাণ

Update Time : ০৫:৪৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
৭৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে রাস্তা নির্মাণের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

নুরুজ্জামান কাফি উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রজপাড়া মৌজার জেএল নম্বর-৯-এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানে খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভোগদখল করে আসছে।

২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল করা হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত সপ্তাহে ওই জমির মধ্যে ৬ লেন সড়কের উত্তর পাশে প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে কাফি রাস্তা নির্মাণ করেন। ওই জমির পাশেই কাফির মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেখানে যাতায়াতের পথ না থাকায় তিনি রাস্তা নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।

 

কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম বলেন, ‘রাতের আধারে নুরুজ্জামান কাফি বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ অংশ দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। তার দাবি, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান ছিল সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের সঙ্গে। তারা উচ্চ আদালতের রায় পেয়েছে। তবে ওই দায়ের বিরুদ্ধে আমরা রিভিউ করেছি যা এখনো চলমান। তার মধ্যেই নুরুজ্জামান কাফি ছয় শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি দাবি করেছেন, স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না করেছেন। ওই জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হলে সেখানে তিনি রাস্তা নির্মাণ করেন।

 

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পেছনে আমি একটি জমি ক্রয় করেছিলাম। সেখানে আমার যাতায়াতের কোন পথ ছিল না। প্রধান শিক্ষককে বলেছিলাম আমাকে যাতায়াতের পথ দেয়ার জন্য তবে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। জমিটি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের মামলা চলছিল। ওই মামলায় তারা উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছেন। এরপর তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি মৌখিক বায়না করি। তারা আমাকে ৬ শতক জমি বুঝিয়ে দিলে আমি সেখানে রাস্তা নির্মাণ করি। এখানে দখলের কোন বিষয় নেই।

 

এ বিষয়ে সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান বলেন, তার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মালিকানা দাবি করলেও আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। পরে পটুয়াখালী আদালত এবং ২০২৫ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দেন। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে নুরুজ্জামান কাফির যাতায়াতের জন্য ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তিনি সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেন।

 

কলাপাড়া থানার উপ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, ‘নুরুজ্জামান কাফিকে জমিটিতে রাস্তা নির্মাণের জন্য আমরা নিষেধ করেছি। কিন্তু তা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারের রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের দখলে দীর্ঘদিন জমিটি ছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ দিয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করে নুরুজুজ্জামান কাফি রাস্তা নির্মাণ করছেন। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ রিভিউ করেছেন। রিভিউ চলাকালীন সময়ে কোন জমি দখল করা যায় না। আমরা এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফিকে নোটিশ প্রদান করব।