ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় স্বপ্নে জীবিত দেখার দাবিতে দাফনের ১৮ দিন পর কবর খোঁড়া, মেলেনি প্রমাণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৬২ Time View
১২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চররমেশ গ্রামে দাফনের ১৮ দিন পর এক তরুণীর কবর খুঁড়ে দেখার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের দাবি, স্বপ্নে ওই তরুণী জীবিত থাকার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত কবর খোঁড়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা। তবে শেষ পর্যন্ত এসবের কোনও প্রমাণ পাননি তারা।

 

মঙ্গলবার বিকালে ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চররমেশ গ্রামের হোসেন লাহারিবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া মরিয়ম আক্তার (২০) দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিণী তাসনুর বেগমের মেয়ে। পরিবারের অভাব ঘোচাতে কয়েক বছর আগে তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন।

 

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে গত ২৬ জুন মরিয়ম বাড়িতে আসেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন নিজ বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুরপাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের কয়েক দিন পর এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে মরিয়মের কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। এরপর থেকেই কবরটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষ সেখানে ভিড় করতে থাকেন।

 

স্থানীয় মসজিদের খতিব আবুল কাশেম জানান, তিনি নিজেই মরিয়মের জানাজা পড়িয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে জানিয়েছেন, মরিয়ম নাকি তার ভাই হাসান ও ছোট বোনের স্বপ্নে এসে বলেছেন, তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত অবস্থায় দাফন করা হয়েছে। তবে খতিবের ভাষ্য, এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

 

মঙ্গলবার বিকালে ৩০০-৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে মরিয়মের কবর খোঁড়েন তার স্বজনরা। কবর খুলে দেখা যায়, মরদেহে স্বাভাবিকভাবে পচন ধরেছে। পরে আবার আগের মতো করে কবরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

প্রতিবেশী লোকমান লাহারি বলেন, ‘মরিয়ম প্রায় ছয়-সাত বছর ধরে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে চাকরি করতো। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল। মারা যাওয়ার দুই দিন আগে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার বাবা-মা ডাক্তারও দেখিয়েছিলেন। ঈদের দিন ভোরে তাদের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম অচেতন অবস্থায় আছে। কিছুক্ষণ পর আবার গিয়ে দেখি সে মারা গেছে। পরে সেদিন সকালেই তাকে দাফন করা হয়।

 

কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা কালু বলেন, ‘স্বজনরা দেখতে চেয়েছিলেন, মরিয়ম সত্যিই বেঁচে আছে কিনা। তাই তারা কবর খুঁড়েছেন। আমিও সহযোগিতা করেছি। কবর খোঁড়ার পর দেখা গেছে সে মৃত অবস্থায় আছে। কবরের ভেতর থেকে কোনও সুগন্ধিও আমি পাইনি।

 

ঘটনার কথা শুনে বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ কবরটি দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে মমতাজ বেগম, নাজিম, সোহাগ, মিদুল ও হান্নান জানান, তারা শুনেছিলেন মরিয়ম নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারেন, এটি সত্য নয়। গুজব ছড়ানো হয়েছে।

 

শোকাহত পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাদের একজন বলেন, ‘সন্দেহ দূর করার জন্যই কবর খোঁড়া হয়েছিল। এখন আমাদের সন্দেহ দূর হয়েছে।

 

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিলেন যে কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন মরিয়ম জীবিত আছেন। তখন আমি তাদের বলেছিলাম, কবর খুঁড়ে দেখতে চাইলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। তবে আজ কবর খোঁড়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তারা খবর খোঁড়ার বিষয়টি আমাদেরও জানাননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

ভোলায় স্বপ্নে জীবিত দেখার দাবিতে দাফনের ১৮ দিন পর কবর খোঁড়া, মেলেনি প্রমাণ

Update Time : ১২:১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
১২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চররমেশ গ্রামে দাফনের ১৮ দিন পর এক তরুণীর কবর খুঁড়ে দেখার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের দাবি, স্বপ্নে ওই তরুণী জীবিত থাকার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত কবর খোঁড়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা। তবে শেষ পর্যন্ত এসবের কোনও প্রমাণ পাননি তারা।

 

মঙ্গলবার বিকালে ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চররমেশ গ্রামের হোসেন লাহারিবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া মরিয়ম আক্তার (২০) দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিণী তাসনুর বেগমের মেয়ে। পরিবারের অভাব ঘোচাতে কয়েক বছর আগে তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন।

 

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে গত ২৬ জুন মরিয়ম বাড়িতে আসেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন নিজ বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুরপাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের কয়েক দিন পর এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে মরিয়মের কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। এরপর থেকেই কবরটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষ সেখানে ভিড় করতে থাকেন।

 

স্থানীয় মসজিদের খতিব আবুল কাশেম জানান, তিনি নিজেই মরিয়মের জানাজা পড়িয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে জানিয়েছেন, মরিয়ম নাকি তার ভাই হাসান ও ছোট বোনের স্বপ্নে এসে বলেছেন, তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তাকে জীবিত অবস্থায় দাফন করা হয়েছে। তবে খতিবের ভাষ্য, এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

 

মঙ্গলবার বিকালে ৩০০-৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে মরিয়মের কবর খোঁড়েন তার স্বজনরা। কবর খুলে দেখা যায়, মরদেহে স্বাভাবিকভাবে পচন ধরেছে। পরে আবার আগের মতো করে কবরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

প্রতিবেশী লোকমান লাহারি বলেন, ‘মরিয়ম প্রায় ছয়-সাত বছর ধরে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে চাকরি করতো। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল। মারা যাওয়ার দুই দিন আগে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার বাবা-মা ডাক্তারও দেখিয়েছিলেন। ঈদের দিন ভোরে তাদের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম অচেতন অবস্থায় আছে। কিছুক্ষণ পর আবার গিয়ে দেখি সে মারা গেছে। পরে সেদিন সকালেই তাকে দাফন করা হয়।

 

কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা কালু বলেন, ‘স্বজনরা দেখতে চেয়েছিলেন, মরিয়ম সত্যিই বেঁচে আছে কিনা। তাই তারা কবর খুঁড়েছেন। আমিও সহযোগিতা করেছি। কবর খোঁড়ার পর দেখা গেছে সে মৃত অবস্থায় আছে। কবরের ভেতর থেকে কোনও সুগন্ধিও আমি পাইনি।

 

ঘটনার কথা শুনে বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ কবরটি দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে মমতাজ বেগম, নাজিম, সোহাগ, মিদুল ও হান্নান জানান, তারা শুনেছিলেন মরিয়ম নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারেন, এটি সত্য নয়। গুজব ছড়ানো হয়েছে।

 

শোকাহত পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাদের একজন বলেন, ‘সন্দেহ দূর করার জন্যই কবর খোঁড়া হয়েছিল। এখন আমাদের সন্দেহ দূর হয়েছে।

 

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিলেন যে কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন মরিয়ম জীবিত আছেন। তখন আমি তাদের বলেছিলাম, কবর খুঁড়ে দেখতে চাইলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। তবে আজ কবর খোঁড়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তারা খবর খোঁড়ার বিষয়টি আমাদেরও জানাননি।