
নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল খ্যাত কাশিমপুর থানা এলাকায় মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও রুটগুলোর ওপর একের পর এক সফল অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
বিগত ডিসেম্বর (২০২৫) থেকে শুরু করে চলতি মে (২০২৬) মাস পর্যন্ত টানা পাঁচ মাসের বিশেষ অভিযানে ৬ হাজার পিসেরও বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট, বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ একাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে কাশিমপুর থানা পুলিশ।
মাঠপর্যায়ের এই অভাবনীয় ও চৌকস সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং তাঁর আভিযানিক দলকে বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কারে ভূষিত করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার।
যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মাদকের নেটওয়ার্ক :
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সীমান্ত দিয়ে গাজীপুরের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাশিমপুর অঞ্চলটিকে ব্যবহার করছিল বেশ কিছু বড় মাদক সিন্ডিকেট।
বিশেষ করে পোশাকশ্রমিক ও স্থানীয় যুবসমাজকে টার্গেট করে গড়ে উঠেছিল এক অদৃশ্য জাল, যার মূল উপাদ্য ছিল মরণনেশা ইয়াবা ও হেরোইন। বিগত ডিসেম্বর থেকে কাশিমপুর থানার ওসির সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং কোনাবাড়ী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি)-এর নেতৃত্বে থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরো এলাকার একটি ‘ক্রাইম ম্যাপ’ তৈরি করে। এরপর শুরু হয় ওসির কড়া অ্যাকশন ও ঝটিকা অভিযান।
বিশেষ করে কাশিমপুর থানাধীন মাদক প্রবণ মাধবপুর, পানিশাইল মোল্লাপাড়া, রওশন মার্কেট এবং জরুন এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ব্লক রেইড দিয়ে তছনছ করে দেওয়া হয় খুচরা ও পাইকারি মাদকের আস্তানাগুলো। পুলিশের এই রুদ্ররূপে কাঁপছে স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেট, গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে চিহ্নিত কারবারিরা। আমরা এলাকাভিত্তিক ও গোপন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযান চালানোর প্রস্ততি নিচ্ছি। যা ইতিমধ্যেই এলাকার মান্যগণ মানুষ সমর্ধন দিয়েছেন।
সর্বশেষ মে মাসের বিশেষ অভিযানেও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ চক্রের একাধিক নারী ও পুরুষ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
কমিশনারের বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার বিতরণ
মাদকবিরোধী লড়াইয়ে মাঠপর্যায়ে অনন্য পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং নিষ্ঠার পরিচয় দেওয়ায় সম্প্রতি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদরদপ্তরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জিএমপি কমিশনার জনাব মোঃ ইসরাইল হাওলাদার-এর পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান আনুষ্ঠানিকভাবে কাশিমপুর থানার ওসির হাতে এই বিশেষ সাফল্যের পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
পুরস্কার প্রদানকালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কাশিমপুর থানা পুলিশের এই তৎপরতা পুরো জিএমপির জন্য একটি রোল মডেল। ৬ হাজার পিসেরও বেশি ইয়াবা উদ্ধারের মাধ্যমে কয়েক হাজার তরুণের জীবন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ
কাশিমপুর পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানের পর স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় শিল্পাঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দা ও পোশাকশ্রমিকদের মাঝে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে সন্ধ্যার পর কিছু কিছু স্পটে মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা দেখা যেত, যা ওসির সুনিপুণ ও কঠোর নজরদারির কারণে এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
ওসির বক্তব্য: অভিযান চলবে অবিরাম
পুরস্কার প্রাপ্তি ও অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, এই পুরস্কার আমাদের পুরো টিমের পরিশ্রমের স্বীকৃতি। জিএমপি কমিশনার স্যারের সঠিক দিকনির্দেশনা ও জনগণের সময়োপযোগী তথ্যের কারণেই আমরা এই বড় সিন্ডিকেটটি ভাঙতে পেরেছি। তবে আমাদের কাজ এখনই শেষ নয়। যতদিন না কাশিমপুরকে সম্পূর্ণ মাদক ও অপরাধমুক্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে, ততদিন এই বিশেষ অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত থাকবে। মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই ধরনের তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন ও পুরস্কার মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, যা গাজীপুরকে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।
Reporter Name 













