ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালের মরা খালে জোয়ার : এক ফসলি জমি এখন তিন ফসলি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ১১৮ Time View
২৭১

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ চার দশকের অবহেলা, দখল আর দূষণে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল বরিশাল বিভাগের খালগুলো। বর্তমানে খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রমের ফলে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এসব জলাধার। ফলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় এক ফসলি জমি এখন তিন ফসলি জমিতে রূপ নিচ্ছে।

 

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘স্বনির্ভর খাল’ থেকে শুরু করে পিরোজপুরের সিকদার মল্লিকে, সর্বত্রই এখন সংস্কারের উৎসব দেখা গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

 

জানা যায়, প্রধানমন্ত্র‍ী তারেক রহমানের উদ্যোগে বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়নের ‘স্বনির্ভর খালটি’ দীর্ঘ ৪৮ বছর পর সংস্কারের ছোঁয়া পেয়েছে। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই খালের খনন কাজ শুরু করেছিলেন।

 

দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকায় এই অঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকতো। বর্তমানে ৬ কিলোমিটার খালের মধ্যে ৪ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হওয়ায় চার মাস আগের সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

 

 

একই চিত্র দেখা গেছে গৌরনদীর কুতুবপুরে। ১৯৮১ সালে কৃষি বিপ্লবের লক্ষ্যে খনন করা এই খালটিও পুনঃখনন শুরু হয়েছে। শুধু গ্রামীণ জনপদ নয়, বরিশাল মহানগরীর অভ্যন্তরীণ খালগুলোতেও চলছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

 

 

এ বিষয়ে চরকাউয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘কয়েকমাস আগেও পানি জমে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে ছিলো কৃষি জমিগুলো। শুধু ইরি ধান চাষ করা গেলেও বাকি সময়টায় জমিগুলো পরিত্যক্ত হিসেবেই থাকতো। বর্তমানে খাল সচল হয়ে এখন এক জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করা সম্ভব হবে।

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বরিশাল জেলার সমন্বয়কারী লিঙ্কন বায়েন বলেন, ‘খাল খননে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে অন্যথায় দখল আর দূষণে পুনরায় ময়লার ভাগারে পরিণত হবে।

 

 

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ​মো. রেজাউল বারী জানান, নগরীর খালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে মশা ও জলাবদ্ধতামুক্ত শহর গড়তে কাজ করছি। এতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।

 

 

বরিশাল পানি উন্নয়ন বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী ​মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘বরিশাল জেলায় ৪১০ কিলোমিটার খাল রয়েছে। ইতিমধ্যে ১১০ কিলোমিটার খাল খননের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল থাকবে।

 

 

পিরোজপুর সদরের সিকদার মল্লিক ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগে একাধিক মৃতপ্রায় খাল প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। এক সময় পানির অভাবে যেখানে হাহাকার ছিল, এখন সেখানে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ায় বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

 

 

অন্যদিকে, বরগুনা জেলাতেও থেমে নেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলায় দুই হাজার ৬৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৬০৯টি খাল শনাক্ত করেছে। রাজস্ব বাজেট থেকে ইতোমধ্যে ২৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৯টি খালের খনন কাজ শুরু হয়েছে।

 

 

​এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘জেলার ছোট-বড় সব খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজস্ব বাজেটের আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন কাজ শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে পুরো জেলায় সম্প্রসারিত হবে।

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগের প্রায় সাড়ে তিন হাজার খালের মধ্যে খনন কাজ শুরু হয়েছে ৬২ কিলোমিটার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বরিশালের মরা খালে জোয়ার : এক ফসলি জমি এখন তিন ফসলি

Update Time : ০১:০১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
২৭১

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ চার দশকের অবহেলা, দখল আর দূষণে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল বরিশাল বিভাগের খালগুলো। বর্তমানে খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রমের ফলে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এসব জলাধার। ফলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় এক ফসলি জমি এখন তিন ফসলি জমিতে রূপ নিচ্ছে।

 

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়ায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘স্বনির্ভর খাল’ থেকে শুরু করে পিরোজপুরের সিকদার মল্লিকে, সর্বত্রই এখন সংস্কারের উৎসব দেখা গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

 

জানা যায়, প্রধানমন্ত্র‍ী তারেক রহমানের উদ্যোগে বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়নের ‘স্বনির্ভর খালটি’ দীর্ঘ ৪৮ বছর পর সংস্কারের ছোঁয়া পেয়েছে। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই খালের খনন কাজ শুরু করেছিলেন।

 

দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকায় এই অঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকতো। বর্তমানে ৬ কিলোমিটার খালের মধ্যে ৪ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হওয়ায় চার মাস আগের সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

 

 

একই চিত্র দেখা গেছে গৌরনদীর কুতুবপুরে। ১৯৮১ সালে কৃষি বিপ্লবের লক্ষ্যে খনন করা এই খালটিও পুনঃখনন শুরু হয়েছে। শুধু গ্রামীণ জনপদ নয়, বরিশাল মহানগরীর অভ্যন্তরীণ খালগুলোতেও চলছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

 

 

এ বিষয়ে চরকাউয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘কয়েকমাস আগেও পানি জমে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে ছিলো কৃষি জমিগুলো। শুধু ইরি ধান চাষ করা গেলেও বাকি সময়টায় জমিগুলো পরিত্যক্ত হিসেবেই থাকতো। বর্তমানে খাল সচল হয়ে এখন এক জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করা সম্ভব হবে।

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বরিশাল জেলার সমন্বয়কারী লিঙ্কন বায়েন বলেন, ‘খাল খননে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে অন্যথায় দখল আর দূষণে পুনরায় ময়লার ভাগারে পরিণত হবে।

 

 

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ​মো. রেজাউল বারী জানান, নগরীর খালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে মশা ও জলাবদ্ধতামুক্ত শহর গড়তে কাজ করছি। এতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।

 

 

বরিশাল পানি উন্নয়ন বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী ​মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘বরিশাল জেলায় ৪১০ কিলোমিটার খাল রয়েছে। ইতিমধ্যে ১১০ কিলোমিটার খাল খননের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল থাকবে।

 

 

পিরোজপুর সদরের সিকদার মল্লিক ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগে একাধিক মৃতপ্রায় খাল প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। এক সময় পানির অভাবে যেখানে হাহাকার ছিল, এখন সেখানে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ায় বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

 

 

অন্যদিকে, বরগুনা জেলাতেও থেমে নেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলায় দুই হাজার ৬৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৬০৯টি খাল শনাক্ত করেছে। রাজস্ব বাজেট থেকে ইতোমধ্যে ২৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৯টি খালের খনন কাজ শুরু হয়েছে।

 

 

​এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘জেলার ছোট-বড় সব খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজস্ব বাজেটের আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন কাজ শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে পুরো জেলায় সম্প্রসারিত হবে।

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগের প্রায় সাড়ে তিন হাজার খালের মধ্যে খনন কাজ শুরু হয়েছে ৬২ কিলোমিটার।