ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন তোফায়েল আহমেদ : গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৩৩ Time View
৭০

আদালত প্রতিবেদক : সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারছেন না। তার স্মৃতিশক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেও শারীরিকভাবে অক্ষম বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

 

ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের মামলায় গতকাল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার অসুস্থতার কারণ জানিয়ে সময় আবেদন করেন। আদালত তা নাকচ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য পুনরায় দিন ধার্য করেছেন। এর আগে তোফায়েল আহমেদসহ দুজন পলাতক থাকায় গত ১৯ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি করেন। এতে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশে সহযোগীদের মাধ্যমে স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

 

মামলাটি তদন্ত শেষে তিন জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। এদিন তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতে আবেদন দিয়ে বলেন, তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ জন্য তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। বাস্তবিক অর্থে তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতিশক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে শারীরিকভাবে অক্ষম।

 

তার মানসিক অসুস্থতা, স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। এ জন্য তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষার আবেদন করার প্রার্থনা করেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাতে আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানান, আসামি পলাতক থাকাবস্থায় এমন আবেদন অগ্রহণযোগ্য মর্মে দুদকের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। আসামিকে আদালতে হাজির হয়ে আবেদন করতে হবে। এজন্য আদালত তোফায়েল আহমেদের আবেদন নাকচ করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন তোফায়েল আহমেদ : গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

Update Time : ০৮:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
৭০

আদালত প্রতিবেদক : সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারছেন না। তার স্মৃতিশক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেও শারীরিকভাবে অক্ষম বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

 

ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের মামলায় গতকাল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার অসুস্থতার কারণ জানিয়ে সময় আবেদন করেন। আদালত তা নাকচ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য পুনরায় দিন ধার্য করেছেন। এর আগে তোফায়েল আহমেদসহ দুজন পলাতক থাকায় গত ১৯ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি করেন। এতে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশে সহযোগীদের মাধ্যমে স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

 

মামলাটি তদন্ত শেষে তিন জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। এদিন তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতে আবেদন দিয়ে বলেন, তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ জন্য তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। বাস্তবিক অর্থে তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতিশক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে শারীরিকভাবে অক্ষম।

 

তার মানসিক অসুস্থতা, স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। এ জন্য তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষার আবেদন করার প্রার্থনা করেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাতে আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানান, আসামি পলাতক থাকাবস্থায় এমন আবেদন অগ্রহণযোগ্য মর্মে দুদকের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। আসামিকে আদালতে হাজির হয়ে আবেদন করতে হবে। এজন্য আদালত তোফায়েল আহমেদের আবেদন নাকচ করেছেন।