ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে টানা ২ দিনের বর্ষণে বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২ Time View
৮৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে গত দুইদিন ধরে ব্রজসহ টানা ভাড়ি বর্ষণ ও দমকা হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এতে করে কৃষকের ক্ষেতে পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি ও ঘণ ঘণ বজ্রপাত পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনভর বজ্রসহ ভাড়ি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুরদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বরিশাল জেলাজুড়ে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে গত দুইদিনের ভাড়ি বর্ষণে কৃষকের ক্ষেতে কাটা ধানগুলো পানিতে তলিয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভারি বর্ষণের সাথে বজ্রপাত হওয়ায় কৃষকেরা জমিতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

সূত্রমতে, গত দুইদিন ধরে ভারি বর্ষণে বোরো ক্ষেতে পানি জমে গেছে। এরসাথে দমকা হাওয়ায় জেলার অধিকাংশ উপজেলার পাকা বোরো ধান নুয়ে পরায় পাকা ধানগুলো পানির সাথে মিশে নস্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকেরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির সাথে ঘণ ঘণ বজ্রপাত হওয়ায় অনেকেই ঘরের বাহিরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পরেছেন।

 

জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সময়ের অতিরিক্ত বৃষ্টি ফসলের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে পাকা বোরো ধানের ক্ষেত ও সবজি ক্ষেতে পানি জমে থাকলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্রমতে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলায় টানা দুইদিনের ভাড়ি বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এরমধ্যে যেসব কৃষকরা ধান কাটার পর জমিতে রেখেছিলেন তাদের সেই কাটা ধান এখন বৃষ্টির পানির নিচে থাকলেও শ্রমিক সংকট ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে তা ঘরে তুলতে পারছেন না। ফলে কৃষকের চোখের সামনেই ডুবে রয়েছে তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর ঋণের টাকায় বোনা স্বপ্ন। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা।

 

কৃষি বিভাগ থেকে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ থাকলেও শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পরেছে। অপরদিকে টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার কারণে অধিকাংশ বরিশালের উপজেলায় গাছপালা ভেঙে পরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও পাওয়া গেছে। যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ঘণ ঘণ বজ্রপাতের ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং নিরাপদস্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আরও কয়েকদিন এমন বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

বরিশালে টানা ২ দিনের বর্ষণে বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি

Update Time : ০৩:৫৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৮৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে গত দুইদিন ধরে ব্রজসহ টানা ভাড়ি বর্ষণ ও দমকা হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এতে করে কৃষকের ক্ষেতে পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি ও ঘণ ঘণ বজ্রপাত পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনভর বজ্রসহ ভাড়ি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুরদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বরিশাল জেলাজুড়ে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে গত দুইদিনের ভাড়ি বর্ষণে কৃষকের ক্ষেতে কাটা ধানগুলো পানিতে তলিয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভারি বর্ষণের সাথে বজ্রপাত হওয়ায় কৃষকেরা জমিতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

সূত্রমতে, গত দুইদিন ধরে ভারি বর্ষণে বোরো ক্ষেতে পানি জমে গেছে। এরসাথে দমকা হাওয়ায় জেলার অধিকাংশ উপজেলার পাকা বোরো ধান নুয়ে পরায় পাকা ধানগুলো পানির সাথে মিশে নস্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকেরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির সাথে ঘণ ঘণ বজ্রপাত হওয়ায় অনেকেই ঘরের বাহিরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পরেছেন।

 

জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সময়ের অতিরিক্ত বৃষ্টি ফসলের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে পাকা বোরো ধানের ক্ষেত ও সবজি ক্ষেতে পানি জমে থাকলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্রমতে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলায় টানা দুইদিনের ভাড়ি বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এরমধ্যে যেসব কৃষকরা ধান কাটার পর জমিতে রেখেছিলেন তাদের সেই কাটা ধান এখন বৃষ্টির পানির নিচে থাকলেও শ্রমিক সংকট ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে তা ঘরে তুলতে পারছেন না। ফলে কৃষকের চোখের সামনেই ডুবে রয়েছে তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর ঋণের টাকায় বোনা স্বপ্ন। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা।

 

কৃষি বিভাগ থেকে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ থাকলেও শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পরেছে। অপরদিকে টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার কারণে অধিকাংশ বরিশালের উপজেলায় গাছপালা ভেঙে পরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও পাওয়া গেছে। যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ঘণ ঘণ বজ্রপাতের ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং নিরাপদস্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আরও কয়েকদিন এমন বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।