ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় জেলেরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৭ Time View
৯৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বুধবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতে। দীর্ঘ ৬০ দিনের বিরতি কাটিয়ে আবারও নদীতে নামার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন উপকূলীয় জেলাটির প্রায় ২০ হাজার জেলে। ইতোমধ্যে নৌকা মেরামত ও জাল গোছানোর কাজ শেষ করে নদী তীরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

 

দেশের ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে ও জাটকা সংরক্ষণে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। বুধবার রাত ১২টার পর থেকেই জেলেরা পুনরায় মাছ শিকারে নামতে পারবেন।

সরেজমিনে পটুয়াখালীর বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ ছেঁড়া জাল সারছেন, কেউ ট্রলারে রং করছেন, আবার কেউ নৌকার ইঞ্জিন পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। জেলেদের চোখে-মুখে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাজে ফেরার আনন্দ।

বাউফল ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী তীরের জেলে রহিম গাজী বলেন, ‘দুই মাস নদীতে নামি নাই। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাইছি। আশা করছি আজ রাত ১২টার পর নদীতে প্রচুর ইলিশ ও অন্যান্য মাছ পাব। মাছ বেঁচে ধার-দেনা শোধ করতে পারব।

 

তবে জেলেরা ক্ষোভের কথাও জানিয়েছেন। জেলে কবির মৃধা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে চাল দেওয়া হলেও নগদ অর্থের অভাবে কিস্তি ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। তাদের দাবি, চালের পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহযোগিতা দিলে জেলেদের জন্য আরও সুবিধা হতো।

 

জেলা মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দুই মাস তেঁতুলিয়া নদীতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে। প্রতিদিন যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কয়েক লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যার সুফল জেলেরা এখন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, জেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮০ হাজার, যার মধ্যে একটি বড় অংশ এই অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের জন্য ৪০ কেজি হারে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে নিষেধাজ্ঞা পালিত হওয়ায় নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেরা এখন নিয়ম মেনে জাল ফেললে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাবেন এবং গত দুই মাসের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

পটুয়াখালীতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় জেলেরা

Update Time : ০৩:২৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৯৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বুধবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতে। দীর্ঘ ৬০ দিনের বিরতি কাটিয়ে আবারও নদীতে নামার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন উপকূলীয় জেলাটির প্রায় ২০ হাজার জেলে। ইতোমধ্যে নৌকা মেরামত ও জাল গোছানোর কাজ শেষ করে নদী তীরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

 

দেশের ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে ও জাটকা সংরক্ষণে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। বুধবার রাত ১২টার পর থেকেই জেলেরা পুনরায় মাছ শিকারে নামতে পারবেন।

সরেজমিনে পটুয়াখালীর বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ ছেঁড়া জাল সারছেন, কেউ ট্রলারে রং করছেন, আবার কেউ নৌকার ইঞ্জিন পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। জেলেদের চোখে-মুখে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাজে ফেরার আনন্দ।

বাউফল ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী তীরের জেলে রহিম গাজী বলেন, ‘দুই মাস নদীতে নামি নাই। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাইছি। আশা করছি আজ রাত ১২টার পর নদীতে প্রচুর ইলিশ ও অন্যান্য মাছ পাব। মাছ বেঁচে ধার-দেনা শোধ করতে পারব।

 

তবে জেলেরা ক্ষোভের কথাও জানিয়েছেন। জেলে কবির মৃধা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে চাল দেওয়া হলেও নগদ অর্থের অভাবে কিস্তি ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। তাদের দাবি, চালের পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহযোগিতা দিলে জেলেদের জন্য আরও সুবিধা হতো।

 

জেলা মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দুই মাস তেঁতুলিয়া নদীতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে। প্রতিদিন যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কয়েক লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যার সুফল জেলেরা এখন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, জেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮০ হাজার, যার মধ্যে একটি বড় অংশ এই অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের জন্য ৪০ কেজি হারে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে নিষেধাজ্ঞা পালিত হওয়ায় নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেরা এখন নিয়ম মেনে জাল ফেললে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাবেন এবং গত দুই মাসের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।