ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবুগঞ্জে গ্রেফতারি পরোয়ানা সত্তেও ক্লাসে সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষক!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৭ Time View
১০৩
আরিফ হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এমন অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
জানা গেছে, উপজেলার চর সাধুকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
একটি এনআই অ্যাক্ট (Negotiable Instruments Act, 1881) মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আদালতের রায়ের পর তার বিরুদ্ধে বাবুগঞ্জ থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, রহস্যজনক কারণে পুলিশ এখনো তাকে গ্রেফতার করছে না।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে তিনি আইনের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের সহযোগিতায় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থেকেও তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে মাসের পর মাস সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে জানা গেছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই ক্লাসে অনুপস্থিত। অথচ কোনো ধরনের অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই তার নামে বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে, যা সরকারি নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান খান লিপটন অভিযোগ করেন, প্রমিজ ডেভেলপার লিমিটেডের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা নির্মাণাধীন ভবনের ফ্লোর বিক্রির কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে ফ্লোর বুঝিয়ে না দিয়ে কিংবা টাকা ফেরত না দিয়ে নানা টালবাহানা করা হয়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে প্রদত্ত চেক নির্ধারিত সময়ে নগদায়ন না হওয়ায় ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে মহানগর যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর রায় প্রদান করেন। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে পৃথক দুটি মামলায় এক বছর করে কারাদণ্ড ও সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বাদীর পাওনা আদায়ে আসামিদের সম্পত্তি নিলামের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার বাদী আরও জানান, রায়ের কপি বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করা হয়েছে। তার উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রভাষক নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকেন না এবং অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভূমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।” অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তিনি বর্তমানে মেডিকেল ছুটিতে রয়েছেন।
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়দা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, দান-অনুদানে প্রশংসায় ভাসছে যুবনেতা আতিক ওসমানী 

বাবুগঞ্জে গ্রেফতারি পরোয়ানা সত্তেও ক্লাসে সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষক!

Update Time : ০৬:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
১০৩
আরিফ হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত এক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এমন অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
জানা গেছে, উপজেলার চর সাধুকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
একটি এনআই অ্যাক্ট (Negotiable Instruments Act, 1881) মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আদালতের রায়ের পর তার বিরুদ্ধে বাবুগঞ্জ থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, রহস্যজনক কারণে পুলিশ এখনো তাকে গ্রেফতার করছে না।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে তিনি আইনের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের সহযোগিতায় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থেকেও তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে মাসের পর মাস সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে জানা গেছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই ক্লাসে অনুপস্থিত। অথচ কোনো ধরনের অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই তার নামে বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে, যা সরকারি নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান খান লিপটন অভিযোগ করেন, প্রমিজ ডেভেলপার লিমিটেডের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা নির্মাণাধীন ভবনের ফ্লোর বিক্রির কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে ফ্লোর বুঝিয়ে না দিয়ে কিংবা টাকা ফেরত না দিয়ে নানা টালবাহানা করা হয়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে প্রদত্ত চেক নির্ধারিত সময়ে নগদায়ন না হওয়ায় ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে মহানগর যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর রায় প্রদান করেন। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে পৃথক দুটি মামলায় এক বছর করে কারাদণ্ড ও সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বাদীর পাওনা আদায়ে আসামিদের সম্পত্তি নিলামের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার বাদী আরও জানান, রায়ের কপি বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করা হয়েছে। তার উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রভাষক নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকেন না এবং অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভূমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।” অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তিনি বর্তমানে মেডিকেল ছুটিতে রয়েছেন।
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়দা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।