ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজস্ব অর্থায়নে মিসাইল ও রকেট তৈরি: বরিশালের দুই প্রতিভার বিস্ময়কর উদ্ভাবন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০ Time View
৯৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা চিন্তা করে দেশের স্বার্থে নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে ‘থান্ডারবোল্ড মিসাইল ও রকেট’ আবিস্কার করে রিতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা মামা ও ভাগ্নে।

জানা গেছে, গত ছয় মাস পূর্বে আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা গৌতম পালের ছেলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র প্রিতম পাল ও তার মামা একই গ্রামের জয়দেব চন্দ্র পালের ছেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুজন চন্দ্র পাল মিলে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট আবিস্কারের কাজ শুরু করেন।

প্রিতম পাল বলেন, তারা নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ও পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে ২০২৫ সালের শেষের দিকে শুরু করে গত ছয় মাসের চেষ্টায় প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয় করে অতিসম্প্রতি মিসাইল এবং রকেট আবিস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

সুজন চন্দ্র পাল বলেন, তাদের আবিস্কার করা মিসাইল ও রকেট পাঁচ কিলোমিটার রেঞ্জে ঘণ্টায় তিনশ’ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মিসাইল এবং রকেটের কাজ শেষ হলেও তারা সরকারের অনুমতি ছাড়া এটি নিক্ষেপ ও উড্ডয়ন করতে পারছেন না।

জানা গেছে, মামা ও ভাগ্নে দুইজনেই রোবটিক্স সেক্টর নিয়ে কাজ করছেন। এ কারণে দুইজনের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা দুইজনেই রোবটিক্স নিয়ে কাজ করায় আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার ফান্ড পেয়েছিলেন। এছাড়া নাসা প্রকল্পের প্রতিযোগিতায় সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছিলেন। সূত্রমতে, প্রিতম পাল রোবটিক্স হাত ও স্মার্ট সিটি তৈরি করায় ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্ণপদক ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পুরস্কার হিসেবে রৌপ্যপদক পেয়েছিলেন। এছাড়াও মেধা অন্বেষণে ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায় বিজ্ঞানে বর্ষসেরা মেধাবী পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি আধুনিক জীবনযাপনের লক্ষ্যে স্মার্ট সিটির রূপরেখা তৈরি করে প্রিতম পাল বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।

সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে রোবট আবিস্কার করেন। যা দিয়ে আগুন লাগলে ও গ্যাস লিকেজ হলে সংকেত দিতো। যে কারণে ২০২৩ সালে ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে মেধা তালিকায় সে প্রথমস্থান অধিকার করেছিল। প্রিতম পালের বাবা ইউপি সচিব গৌতম পাল বলেন, আমার ছেলে প্রিতম পাল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এবং আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেশের প্রয়োজনে একের পর এক আবিস্কার করে যাচ্ছে। আমরা তাদের কাজে গর্বিত। তারা যেন দেশের সেবায় কাজ করতে পারে সেজন্য সরকার ও দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা এবং দোয়া চাচ্ছি।

সুজন চন্দ্র পাল বলেন, স্কুলজীবন থেকে আবিস্কারের প্রতি আগ্রহ যাগে। তারই ধারাবাহিকতায় কম্বাইন করে আমরা মামা ও ভাগ্নে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে বড় কিছু করার জন্য সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা চাচ্ছি।

প্রিতম পাল বলেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা মাথায় রেখে মামাকে নিয়ে আমরা এই আবিস্কার করেছি। সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো কিছু করতে পারবো। সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, সুজন ও প্রিতম আমার বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিল। তারা আমাদের গর্ব, তাদের আবিস্কার বিদ্যালয় ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সুনাম বয়ে আনছে। আমরা তাদের দুইজনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। এ ব্যাপারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমির সোহেল বলেন, আমাদের ছাত্র প্রিতম একটি রকেট ও মিসাইল প্রজেক্ট নিয়ে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরি করছে। প্রিতম সবসময়ই নতুন কিছু আবিস্কারের প্রতি পরিশ্রমী ও কৌতূহলী। তাকে আমরা ল্যাব সুবিধার মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছি।

তিনি আরও বলেন, আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে তারা দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারে। বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে উভয় ছাত্রের জন্য যা যা করনিয় সরকারিভাবে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

নিজস্ব অর্থায়নে মিসাইল ও রকেট তৈরি: বরিশালের দুই প্রতিভার বিস্ময়কর উদ্ভাবন

Update Time : ১০:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৯৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা চিন্তা করে দেশের স্বার্থে নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে ‘থান্ডারবোল্ড মিসাইল ও রকেট’ আবিস্কার করে রিতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা মামা ও ভাগ্নে।

জানা গেছে, গত ছয় মাস পূর্বে আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা গৌতম পালের ছেলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র প্রিতম পাল ও তার মামা একই গ্রামের জয়দেব চন্দ্র পালের ছেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সুজন চন্দ্র পাল মিলে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট আবিস্কারের কাজ শুরু করেন।

প্রিতম পাল বলেন, তারা নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ও পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে ২০২৫ সালের শেষের দিকে শুরু করে গত ছয় মাসের চেষ্টায় প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয় করে অতিসম্প্রতি মিসাইল এবং রকেট আবিস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

সুজন চন্দ্র পাল বলেন, তাদের আবিস্কার করা মিসাইল ও রকেট পাঁচ কিলোমিটার রেঞ্জে ঘণ্টায় তিনশ’ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মিসাইল এবং রকেটের কাজ শেষ হলেও তারা সরকারের অনুমতি ছাড়া এটি নিক্ষেপ ও উড্ডয়ন করতে পারছেন না।

জানা গেছে, মামা ও ভাগ্নে দুইজনেই রোবটিক্স সেক্টর নিয়ে কাজ করছেন। এ কারণে দুইজনের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা দুইজনেই রোবটিক্স নিয়ে কাজ করায় আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার ফান্ড পেয়েছিলেন। এছাড়া নাসা প্রকল্পের প্রতিযোগিতায় সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছিলেন। সূত্রমতে, প্রিতম পাল রোবটিক্স হাত ও স্মার্ট সিটি তৈরি করায় ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্ণপদক ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পুরস্কার হিসেবে রৌপ্যপদক পেয়েছিলেন। এছাড়াও মেধা অন্বেষণে ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায় বিজ্ঞানে বর্ষসেরা মেধাবী পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি আধুনিক জীবনযাপনের লক্ষ্যে স্মার্ট সিটির রূপরেখা তৈরি করে প্রিতম পাল বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।

সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে রোবট আবিস্কার করেন। যা দিয়ে আগুন লাগলে ও গ্যাস লিকেজ হলে সংকেত দিতো। যে কারণে ২০২৩ সালে ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে মেধা তালিকায় সে প্রথমস্থান অধিকার করেছিল। প্রিতম পালের বাবা ইউপি সচিব গৌতম পাল বলেন, আমার ছেলে প্রিতম পাল টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এবং আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেশের প্রয়োজনে একের পর এক আবিস্কার করে যাচ্ছে। আমরা তাদের কাজে গর্বিত। তারা যেন দেশের সেবায় কাজ করতে পারে সেজন্য সরকার ও দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা এবং দোয়া চাচ্ছি।

সুজন চন্দ্র পাল বলেন, স্কুলজীবন থেকে আবিস্কারের প্রতি আগ্রহ যাগে। তারই ধারাবাহিকতায় কম্বাইন করে আমরা মামা ও ভাগ্নে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে বড় কিছু করার জন্য সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা চাচ্ছি।

প্রিতম পাল বলেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা মাথায় রেখে মামাকে নিয়ে আমরা এই আবিস্কার করেছি। সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো কিছু করতে পারবো। সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, সুজন ও প্রিতম আমার বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিল। তারা আমাদের গর্ব, তাদের আবিস্কার বিদ্যালয় ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সুনাম বয়ে আনছে। আমরা তাদের দুইজনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। এ ব্যাপারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমির সোহেল বলেন, আমাদের ছাত্র প্রিতম একটি রকেট ও মিসাইল প্রজেক্ট নিয়ে থান্ডারবোল্ড মিসাইল এবং রকেট তৈরি করছে। প্রিতম সবসময়ই নতুন কিছু আবিস্কারের প্রতি পরিশ্রমী ও কৌতূহলী। তাকে আমরা ল্যাব সুবিধার মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছি।

তিনি আরও বলেন, আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে তারা দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারে। বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে উভয় ছাত্রের জন্য যা যা করনিয় সরকারিভাবে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করা হবে।