ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবুগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত করা ২ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৬ Time View
২৮০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাবুগঞ্জে অবৈধভাবে ২ হাজার লিটার জ্বালানি মজুত এবং বেশি দামে বিক্রি করায় একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দকৃত জ্বালানি স্থানীয় লোকদের উপস্থিতিতে বিক্রি করে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার আগরপুর বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বরিশাল জেলা কার্যালয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআইয়ের যৌথ টিম এ অভিযান চালায়। অভিযানে মেসার্স সুমন স্টোরের স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলামকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬-এর ৩ (২) খ ও ঘ ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় তার কাছে মজুত থাকা ১ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে নিলামের মাধ্যমে ট্রলার, ট্রাক্টর, স্পিডবোট, আলফা ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছে এসব তেল বিক্রি করা হয়। এতে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা আদায় হয়।

এ ছাড়া জব্দ করা ৬০০ লিটার অকটেন স্থানীয় মোটরসাইকেল ও পাম্প চালকদের কাছে ৮৪ হাজার টাকায় বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান। বিক্রির অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এনএসআই সদস্যরা।

এনএসআই সূত্র জানায়, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার সার ও কীটনাশকের দোকানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন। তিনি বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড এলাকার ‘এসএম ট্রেডার্স’ এর নামে মেঘনা অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে আগরপুর বাজারে এনে মজুত করতেন।

সূত্র আরও জানায়, গোয়েন্দারা তেলের গাড়ি অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মালিকানাধীন মোট পাঁচটি দোকান ও দুটি গোডাউনের তথ্য পান। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

অভিযানে এনএসআই বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সদস্য, উপজেলা প্রশাসন এবং আগরপুর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ইউনিলিভার অফিসের সামনে থেকে অটোগাড়ি চুরির অভিযোগ

বাবুগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত করা ২ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ

Update Time : ০৩:০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
২৮০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাবুগঞ্জে অবৈধভাবে ২ হাজার লিটার জ্বালানি মজুত এবং বেশি দামে বিক্রি করায় একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দকৃত জ্বালানি স্থানীয় লোকদের উপস্থিতিতে বিক্রি করে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার আগরপুর বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বরিশাল জেলা কার্যালয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআইয়ের যৌথ টিম এ অভিযান চালায়। অভিযানে মেসার্স সুমন স্টোরের স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলামকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬-এর ৩ (২) খ ও ঘ ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় তার কাছে মজুত থাকা ১ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে নিলামের মাধ্যমে ট্রলার, ট্রাক্টর, স্পিডবোট, আলফা ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছে এসব তেল বিক্রি করা হয়। এতে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা আদায় হয়।

এ ছাড়া জব্দ করা ৬০০ লিটার অকটেন স্থানীয় মোটরসাইকেল ও পাম্প চালকদের কাছে ৮৪ হাজার টাকায় বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান। বিক্রির অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এনএসআই সদস্যরা।

এনএসআই সূত্র জানায়, নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার সার ও কীটনাশকের দোকানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন। তিনি বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড এলাকার ‘এসএম ট্রেডার্স’ এর নামে মেঘনা অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে আগরপুর বাজারে এনে মজুত করতেন।

সূত্র আরও জানায়, গোয়েন্দারা তেলের গাড়ি অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মালিকানাধীন মোট পাঁচটি দোকান ও দুটি গোডাউনের তথ্য পান। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

অভিযানে এনএসআই বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সদস্য, উপজেলা প্রশাসন এবং আগরপুর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।