ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবুগঞ্জে ছাদে আঙুর চাষে সাফল্য, এক বছরেই ফলন : বাজারজাতের অপেক্ষায় চাষি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩২ Time View
৬৩
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বাড়ির ছাদে আঙুর চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন। তার এ উদ্যোগে স্থানীয় কৃষক ও যুবসমাজের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের বাসিন্দা আরিফ হোসেন শখের বসে নিজ বাড়ির ছাদে আঙুর চাষ শুরু করেন। জিও ব্যাগে মাটি ভরে নির্দিষ্ট নিয়মে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বর্তমানে তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের আঙুর।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে রোপণ করা গাছগুলোতে ইতোমধ্যে ফলন এসেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যেই প্রতিটি গাছে পরিপক্ক আঙুর ধরতে শুরু করেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। চাষির ধারণা, আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব আঙুর পুরোপুরি পরিপক্ক হয়ে বাজারজাত বা খাওয়ার উপযোগী হবে।
তার বাগানে প্রায় ২৪টি গাছে ২১ প্রজাতির দেশি-বিদেশি জাতের আঙুর রয়েছে। এর মধ্যে একেলো, বাইকুনুর, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বোসহ বিভিন্ন উন্নত জাত উল্লেখযোগ্য। সঠিকভাবে ফল পরিপক্ক হলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ থেকে ৫০০ কেজি আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আঙুর চাষের উদ্যোগ বাড়ছে। তবে ফলের স্বাদ ও মিষ্টতা ধরে রাখতে পারলে বাজারমূল্য ভালো পাওয়া সম্ভব। কৃষি বিভাগ এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল চাষে আগ্রহীদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন কৃষক যেকোনো সহযোগিতায় বা পরামর্শে তার কাছে গেলে অবশ্যই তিনি সঠিকভাবে পরামর্শ সহযোগিতা করবেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চল আঙুর চাষের জন্য তেমন উপযোগী না হলেও বিভিন্ন জাত কৃষক পর্যায়ে শখের বসে চাষ হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি জানান, বিভিন্ন জাত নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে এবং কোন জাতের ফলন ও মান ভালো হবে তা নির্ধারণের কাজ করা হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ফলের মিষ্টতা কম থাকায় অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
আঙুর চাষী আরিফ হোসেন বলেন, ব্যবসার ফাঁকে শখের বসে আঙুর চাষ শুরু করি। অনলাইনে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে নিয়ম অনুযায়ী পরিচর্যা করেছি। এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল এসেছে। ভালো দাম পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় যুবক রিয়াজ সরদার  জানান, ছাদে এভাবে বিদেশি ফলের চাষ তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরাও আঙুর চাষের দিকে ধাবিত হব।
অনেকেই বাগান পরিদর্শনে এসে আরিফ হোসেনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং তার কাছ থেকে চাষাবাদের কৌশল শিখছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ছাদভিত্তিক আঙুর চাষ ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক কৃষিখাতে পরিণত হতে পারে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি, ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস

বাবুগঞ্জে ছাদে আঙুর চাষে সাফল্য, এক বছরেই ফলন : বাজারজাতের অপেক্ষায় চাষি

Update Time : ০১:১০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
৬৩
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বাড়ির ছাদে আঙুর চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন। তার এ উদ্যোগে স্থানীয় কৃষক ও যুবসমাজের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের বাসিন্দা আরিফ হোসেন শখের বসে নিজ বাড়ির ছাদে আঙুর চাষ শুরু করেন। জিও ব্যাগে মাটি ভরে নির্দিষ্ট নিয়মে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বর্তমানে তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের আঙুর।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে রোপণ করা গাছগুলোতে ইতোমধ্যে ফলন এসেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যেই প্রতিটি গাছে পরিপক্ক আঙুর ধরতে শুরু করেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। চাষির ধারণা, আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব আঙুর পুরোপুরি পরিপক্ক হয়ে বাজারজাত বা খাওয়ার উপযোগী হবে।
তার বাগানে প্রায় ২৪টি গাছে ২১ প্রজাতির দেশি-বিদেশি জাতের আঙুর রয়েছে। এর মধ্যে একেলো, বাইকুনুর, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বোসহ বিভিন্ন উন্নত জাত উল্লেখযোগ্য। সঠিকভাবে ফল পরিপক্ক হলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ থেকে ৫০০ কেজি আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আঙুর চাষের উদ্যোগ বাড়ছে। তবে ফলের স্বাদ ও মিষ্টতা ধরে রাখতে পারলে বাজারমূল্য ভালো পাওয়া সম্ভব। কৃষি বিভাগ এ ধরনের উচ্চমূল্যের ফল চাষে আগ্রহীদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন কৃষক যেকোনো সহযোগিতায় বা পরামর্শে তার কাছে গেলে অবশ্যই তিনি সঠিকভাবে পরামর্শ সহযোগিতা করবেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চল আঙুর চাষের জন্য তেমন উপযোগী না হলেও বিভিন্ন জাত কৃষক পর্যায়ে শখের বসে চাষ হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি জানান, বিভিন্ন জাত নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে এবং কোন জাতের ফলন ও মান ভালো হবে তা নির্ধারণের কাজ করা হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ফলের মিষ্টতা কম থাকায় অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
আঙুর চাষী আরিফ হোসেন বলেন, ব্যবসার ফাঁকে শখের বসে আঙুর চাষ শুরু করি। অনলাইনে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে নিয়ম অনুযায়ী পরিচর্যা করেছি। এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল এসেছে। ভালো দাম পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় যুবক রিয়াজ সরদার  জানান, ছাদে এভাবে বিদেশি ফলের চাষ তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরাও আঙুর চাষের দিকে ধাবিত হব।
অনেকেই বাগান পরিদর্শনে এসে আরিফ হোসেনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং তার কাছ থেকে চাষাবাদের কৌশল শিখছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ছাদভিত্তিক আঙুর চাষ ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক কৃষিখাতে পরিণত হতে পারে।